বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

নুসরত জানালেন, তিনি বিবাহিত নন, সহবাস করতেন মাত্র

 



বিশেষ প্রতিবেদক: ফের বোমা ফাটালেন সাংসদ নুসরত জাহান। তিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, তাঁর সঙ্গে নিখিল জৈন-এর নাকি আদৌ কোনও বিয়েই হয়নি। তিনি আরও বলেছেনতুরস্কে ব্যাপক পাবলিসিটি দিয়ে বিয়ের যে অনুষ্ঠান হয়েছিল, সেটি নাকি তুরস্কের বিয়ের নিয়ম মেনে হয়। ভারতীয় আইন অনুসারে এই বিয়ে হয়নি। কাজেই তুরস্কের বিয়েটি বৈধ নয়। সাংসদ নুসরত জাহান বলেন, তিনি নিখিল জৈন-এর সঙ্গে সহবাস বা লিভ ইন রিলেশন-এ ছিলেন, এ কথা সত্য। কিন্তু শুধু সহবাসের জন্য আনুষ্ঠানিক তালাকের কোনও প্রয়োজন নেই।

নুসরতের মা হওয়ার খবরের পরই প্রশ্ন উঠতে থাকে তাঁর অনাগত সন্তানের পিতা কে? নুসরত অবশ্য এখনও পর্যন্ত এই প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি। আর তাঁর বর্তমান প্রেমিক যশ দাশগুপ্তও এ সম্পর্কে মুখ খোলেননি। ফলে জটিলতা ও রহস্য আরও বেড়েছে। নুসরতের দাবি হচ্ছে, তুরস্কে ধুমধাম করে তাঁর ও নিখিল জৈন-এর মধ্যে জাঁকজমকপূর্ণ যে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংহয়েছিলতা তুরস্কের নিয়ম অনুযায়ী হয়। বিদেশে বিয়ে করলে তা এদেশে বৈধ নয় এবং কোনও আইন মোতাবেক নাকি এ বিয়ে হয়নি। তিনি দাবি করেননিখিলের সঙ্গে তিনি সহবাস করছিলেন মাত্র। কিন্তু তা বিয়ে বলা যাবে না। নুসরতের দাবিযখন বিয়েই হয়নিতখন তালাক বা বিচ্ছেদের কথা কেন। নুসরত আরও স্পষ্ট করে দুনিয়াকে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি যদি কোথাও বেড়াতে যান বা কাজের জন্য যান তা নিয়ে প্রশ্ন করার কোনও অধিকার কারও নেই।

তুরস্কের বোদরুমে এক পাঁচতারা হোটেলে ২০১৯ সালের ১৯ ও ২০ জুন নুসরত-নিখিলের বিয়ে হয়। তুরস্কে বিয়ে হলেও বিয়েটা কিন্তু ইসলামি ও তুর্কি আচারে হয়নি। বিয়ে হয়েছিল অগ্নি সাক্ষী রেখে পুরোপুরি হিন্দু মতে। এই বিয়ের সাক্ষী থাকার জন্য এই দম্পতি তাঁদের পরিচিত বহু বিখ্যাত-অবিখ্যাত মানুষকে তুরস্কে নিয়ে গিয়েছিলেন। হিন্দু মতে বিয়ে করার জন্য যে অগ্নিকুণ্ড জ্বালানোর প্রয়োজন ছিল তার জন্য নিখিলকে কর্তৃপক্ষের স্পেশাল পারমিশন নিতে হয়েছিল। এমনকি নুসরতের পিতা আলহাজ মুহাম্মদ শাহ জাহানকেও এই বিয়ের সাক্ষী থাকার জন্য তুরস্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি হিন্দু প্রথা অনুযায়ী, নিজ হাতে কন্যা দানপর্ব সমাধা করেন। তারপরই সাতপাকে বাঁধা পড়েন নুসরত জাহান। কিন্তু এখন তিনি এসব অস্বীকার করে বলছেন, এই শাদিকে তিনি আদৌ বৈধ মনে করেন না। এই বিয়ে বিয়েই নয়।

নুসরত ও নিখিল জৈন-এর মধ্যে টাকা পয়সা লেনদেন নিয়েও ব্যাপক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। উভয় উভয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেনএকে অপরের অর্থ নাকি আত্মসাৎ করেছেন। সাংসদ নুসরত নিখিলের বিরুদ্ধে পুলিশে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। অন্যদিকে নিখিলও বলেছেনএ সব কিছুর ফয়সালা আদালতে হবে।

তৃণমূলের সাংসদ নুসরতের সঙ্গে বিজেপির বিধায়ক প্রার্থী যশ দাশগুপ্তের বর্তমান লিভ টুগেদার চলছে। দুজন দুই রাজনীতির মতাদর্শের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও যেভাবে চুটিয়ে প্রেম করছেনরাজস্থানে গিয়ে একসঙ্গে থেকেছেনতাতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেনতবে কি বিজেপি-তৃণমূল সহাবস্থানের এক নতুন নজির পেশ করতে চলেছেন সাংসদ নুসরত?

এদিকে আর একটি বিষয়ে বেশ খানিকটা বিপাকে পড়েছেন বসিরহাটের এই সাংসদ। তিনি সংসদে পেশ করা তাঁর হলফনামায় লিখিতভাবে নিখিল জৈনকে নিজের স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। আর সংসদে শপথ নেওয়ার সময়ও তিনি এই শধগুচ্ছ দিয়ে নিজের নাম উচ্চারণ করেন আমি নুসরত জাহান জৈন। এই তথ্যগুলি ভারতীয় সংসদে সংরক্ষিত রয়েছে। কাজেই নুসরত আইন-সংবিধান ও সংসদের নিয়ম নীতি লঙ্ঘন করেছেন কি না, এই জবাব দিতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা অনেকেই মনে করছেন।

বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টক শো-তে প্রশ্ন উঠেছেভারতের পবিত্র সংসদের একজন সদস্য কি এভাবে লিভ টুগেদারস্বামীকে ছেড়ে অন্যের সঙ্গে সহবাস প্রভৃতির নজির দেশবাসী এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে রাখতে পারেন? এ নিয়েও অনেকে যেসব মন্তব্য করছেন তা নুসরতের জন্য মোটেই সুখকর নয়। দেশের সাংসদদের অনেকেই আদর্শ হিসেবে দেখতে চান। নুসরত কি সেই মাপদন্ডে খানিকটা পিছিয়ে যাচ্ছেন?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only