মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১

ক‌লে‌জে ছাত্র ভ‌র্তিতে কেন্দ্রীয় কাউন্সে ‌লিংয়ের দা‌বি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির

 



 পু‌বের কলম প্রতি‌বেদক: কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে অনলাইন কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিং-এর মারফত ভর্তি এবং স্নাতকস্তরে সিবিসিএস প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন-পদ্ধতি সংস্কার এর দা‌বি জা‌নি‌য়ে, মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত‌্য বসু‌কে চি‌ঠি দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতি। মঙ্গলবার স‌মি‌তির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস সরকার প্রেস এক বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানান, গত কয়েক বছর ধরেই সমিতি অনলাইন কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিং-এর বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে। সেই প্রস্তাবনার পিছনে নিহিত যুক্তিগুলি এবছর কোভিড পরিস্থিতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে যুক্ত করে অথবা একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিং-এর মারফত অনলাইন ভর্তিপ্রক্রিয়া চালু হলে কলেজগুলিতে অত্যন্ত দ্রুত ও অধিকতর স্বচ্ছতার সঙ্গে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালন করা যেমন সম্ভব হবে, তেমনি ছাত্রছাত্রীদের একাধিক কলেজে ফর্ম-তোলা,  ফি জমা দেওয়ার ঝক্কিও একেবারে কমে যাবে। ছাত্র ও অভিভাবকদের ওপর অর্থনৈতিক বোঝাও এতে লাঘব হবে। প্রশাসনিক দিক থেকেও এর সুবিধে অনেক। অন্য কলেজে সুযোগ পেয়ে কোনও ছাত্রছাত্রী একটি কলেজ ছেড়ে চলে গেলে যে আসনটি ফাঁকা হয়,  তা পূরণ করতে পুনরায় কাউন্সেলিং ডাকতে হয়। সেই সঙ্গে মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট ইত্যাদির ঝামেলা পোহাতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধীনস্থ কলেজ-কর্তৃপক্ষকে। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়,  আর এর প্রভাব পড়ে প্রথম সেমেস্টার পঠনপাঠন ও পরীক্ষার ওপর। কিন্তু একটি পোর্টালের মারফত কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া কার্যকর হলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তা শেষ করে পুরোদমে পঠনপাঠন শুরু করে দেওয়া যাবে। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব, এই শিক্ষাবর্ষ থেকে এ রাজ্যে একটিমাত্র পোর্টালের মাধ‌্যমে অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করা হোক। যদি তা একান্তই সম্ভব না হয়,  তাহলে অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক একটি পোর্টালেই অধীনস্থ কলেজগুলির মধ্যে তা শুরু করা যেতে পারে। 

দ্বিতীয় প্রস্তাবটি সম্পর্কে সমি‌তির বক্তব্য, ইতিপূর্বে তিনটে পার্টে কলেজগুলিতে স্নাতকস্তরে পঠনপাঠন চলত,  তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বছরে একটা করে পরীক্ষা নেওয়া হত। কিন্তু ইউজিসি নির্দেশিকা মেনে সব রাজ্যের মতো এ রাজ্যেও কলেজগুলিতে যে সিবিসিএস প্রক্রিয়া গত কয়েক বছর যাবৎ চালু হয়েছে,  তাতে ছমাস ভিত্তিক এক-একটি সেমেস্টার পরিচালনের ক্ষেত্রে বছরে মোট দুটি এন্ড-সেমেস্টার পরীক্ষা নিতে হচ্ছে। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এর ফলে প্রচুর সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর খাতা দেখা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ করে ফলপ্রকাশ হতে এতটাই দেরি হয়ে যাচ্ছে যে,  পরের সেমেস্টার পরীক্ষা সামনে চলে আসছে। কখনও পরিস্থিতি এমনও দাঁড়াচ্ছে,  আগের সেমেস্টারের ফলাফল না, জেনেই পরের সেমেস্টার পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে ছেলেমেয়েদের।

এ অবস্থায় সমিতির মতামত,  কোর কোর্স (অনার্স সমতুল) পেপারগুলি ব্যতিরেকে অন্যান্য বিষয়ের (জেনারেল, জেনেরিক ইলেকটিভ ও কম্পালসারি পেপার) পরীক্ষাগুলি মাল্টিপল চয়েস ধাঁচের প্রশ্নের মাধ্যমে ওএমআর শিটে পরীক্ষা নেওয়া হোক। জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলি দীর্ঘদিন ধরে এই পদ্ধতিতেই নেওয়া হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only