বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১

৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে রেস্তোরাঁ খোলার অনুমতি, ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় বণিকসভাকে এগিয়ে আসার আর্জি মুখ্যমন্ত্রীর




পুবের কলম প্রতিবেদক: কড়া বিধিনিষেধের জেরে ক্রমশই করোনাভাইরাসের কামড় থেকে সেরে উঠছে রাজ্য। তাই এবার অর্থনীতিকে বাঁচাতে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ শিথিলের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের ২৯টি বণিকসভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, বিকাল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ৫০শতাংশ কর্মী নিয়ে খোলা যাবে রেস্তোরাঁ-হোটেল। তবে সেই খোলার পিছনে প্রধান শর্তই হলো রেস্তোরাঁ ও হোটেলের প্রত্যেক কর্মীর করোনা টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে ২৫ শতাংশ কর্মী নিয়ে খোলা যাবে শপিং মলও। 

পাশাপাশি খুচরো পণ্যের দোকান খোলার সময়সীমাও এক ঘন্টা বাড়ানো হয়েছে। বেলা বারোটা থেকে বিকাল চারটে পর্যন্ত খোলা রাখে যাবে দোকান। তবে এদিন বণিকসভার প্রতিনিধিরা সন্ধেবেলায় শাড়ির দোকান খোলা রাখার আর্জি জানালেও তা খারিজ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘সব দোকান সন্ধ্যায় খোলা রাখা যাবে না। সংক্রমণের কথাও মাথায় রাখতে হবে।’

রাজ্যে করোনা ও ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় পাশে পেতে এদিন বণিকসভাগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের শুরুতেই তিনি জানিয়ে দেন, ‘করোনার সংক্রমণ রুখতে বিধি নিষেধ চালু হলেও যাতে ব্যবসা মার না খায় ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ না হয় তার জন্যই কার্ফু কিংবা সম্পূর্ণ লকডাউন জারির পথে হাঁটেনি রাজ্য সরকার।’ 

মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিকে অতি দ্রুত নিজেদের কর্মীদের টিকাকরণের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেদের কর্মীদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। রাজ্যের বিপর্যয় তহবিলে টাকা দিলে আমরা সেই টাকা দিয়ে টিকা কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারি। ধরে নিন, ওই টিকা আপনারা রাজ্য সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলার ত্রাণ তহবিলে দিয়েছেন।’ 

করোনার টিকাকরণ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এদিন ফের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকারের একার পক্ষে গোটা রাজ্যে টিকাকরণ সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই ১.৪ কোটি রাজ্যবাসীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার বিনে পয়সায় তো ভ্যাকসিন দিচ্ছে না, উল্টে জিএসটি নিচ্ছে।’ 

রেশন দোকান, আটা মিল ও রাইস মিলের কর্মীদের মতো যাঁরা বহু মানুষের সংস্পর্শে আসেন এবং সুপার স্প্রেডার হয়ে উঠতে পারেন, তাঁদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে পরিচারিকা সহ বিভিন্ন শ্রমিকদের টিকাকরণের উপরেও বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। 

রাজ্যে তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে জড়িত লক্ষ লক্ষ মানুষ। সেই কথা মাথায় এদিন তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও বেশ কিছু ছাড় দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলি কাল (শুক্রবার) থেকে দুটি শিফটে ১০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করতে পারে। সকাল ৮টা থেকে ১২টা এবং ১২টা থেকে ৫টা এই দুই শিফটে কাজ চলতে পারে।’ উল্লেখ্য, এর আগে তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পে বেলা ১২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অফিস চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। 

এদিনের বৈঠকে শপিং মল খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন বণিকসভার প্রতিনিধিরা। তার জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ’২৫ শতাংশ কর্মী নিয়ে যাতে শপিং মল খোলা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও কর্মীদের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক থাকছে। ১৫ জুনের পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ 

করোনা মোকাবিলায় বণিকসভাগুলির ভূমিকার প্রশংসা করার পাশাপাশি যাতে হাটে-বাজারে জীবাণুনাশক স্প্রে করার ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেই অনুরোধও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘এ বিষয়ে জেলাশাসকদের সঙ্গে কথা বলে আপনারা এগিয়ে আসুন।’

করোনার পাশাপাশি ‘ইয়াস’ বিধ্বস্ত এলাকা পুনর্গঠনেও বণিকসভাগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only