বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

অনাথ শিশুর চোখের পানি মুছলেন অভিষেক

 


রাবিয়া বেগম,  বহরমপুর: সদ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকে দায়িত্ব পেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপর থেকেই নতুন উদ্যমে কাজে নেমে পড়েছেন এই তরুণ তুর্কি নেতা। দায়িত্বের সঙ্গে অভিষেকের মধ্যে আজ এক মানবিক দিকও দেখল বহরমপুরের মানুষ। 

বুধবার বহরমপুর থানার মণীন্দ্রনগর গ্রামে এবং হঠাৎ কলোনিতে বাজ পড়ে মারা যাওয়া পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের সকলের কথা মন দিয়ে শোনেন তিনি। বুকে টেনে নেন মৃতের ছেলে-মেয়েকে। চোখের জল মুছিয়েও দেন নিজের হাতে। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দু-লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মৃতদের পরিবারের হাতে।

বুধবার দুপুরে হেলিকপ্টারে প্রথমে বহরমপুর আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর তৃণমূল কংগ্রেস জেলা সভাপতি সাংসদ আবু তাহের খানকে সঙ্গে নিয়ে সোজা চলে যান মণীন্দ্রনগর গ্রামে সোমবারে নিহত অভিজিৎ বিশ্বাসের বাড়ি। মৃতের স্ত্রী এবং ছোট ছেলে মেয়ে অপেক্ষা করছিলেন। বিশ্বাস পরিবারের প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলার সময় তার দিকে এগিয়ে আসে অভিজিৎ বিশ্বাসের ৯ বছরের ছেলে। তার কথাও মন দিয়ে শোনেন অভিষেক। এমনকী তার কথা পরিষ্কার শুনতে না পাওয়ায় মাথা নিচু করে মন দিয়ে কথা শুনতে দেখা যায় তাকে।

পেশায় রাজমিস্ত্রি অভিজিৎ বিশ্বাস মারা যাওয়ায় পরিবার খুব অসহায় হয়ে পড়েছে। মৃতের স্ত্রী পিয়ালি বিশ্বাস একটা চাকরির দাবি করেন। উত্তরে অভিষেকবাবু বলে, আপনার দাবি মু্খ্যমন্ত্রীর নিকট পৌঁছে দেব। চেষ্টা করা হবে আপনার দাবি পূরণ করার। এখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বহিরাগতরা আসেবহিরাগতরা চলে যায়। নির্বাচনের আগে অনেকের বাড়িতে কলা পাতায় খাবার খেয়েছে। এখন তারা কোথায়? এখন মানুষের পাশে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা মানবিক কারণে আজ এখানে এসেছি। মানুষের বিপদেতাদের পাশে থাকা আমাদের কর্তব্য।

বিজেপি দলের গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দশজন নেতাকে সামলাতে পারছে না বিজেপি। তাহলে ১৩০ কোটি দেশবাসীর দায়িত্ব নেবেন কী করে?

উল্লেখ্য,  সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করেছেন বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। বজ্রাঘাতে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বা কোনও বিজেপি নেতা দেখা করেননি। এমনকী মণীন্দ্রনগর গ্রাম ও হঠাৎ কলোনিদুটি গ্রামেই বিজেপি প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় তেমন ভোট পাননি। তবুও তৃণমূল কংগ্রেস সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় এখানে ছুটে এলেন, পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন।

জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদগণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন কাজ দেখে ২৫-৩০ বছর আগের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুঁজে পাচ্ছেন। ১৯৯২ সালে হরিহরপাড়ায় পুলিশের গুলিতে সাতজন মারা গেলে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বা তার আগে কাটরা মসজিদ হত্যাকাণ্ডের পর মুর্শিদাবাদে ছুটে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবীণ রাজনীতিবিদ শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ সোহরাব জানিয়েছেন, ২৫-৩০ বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠিক যেমনটা দেখেছি, আস্তে আস্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে সেই মমতা বাংলার মানুষ পেতে চলেছে। বাংলার রাজনীতির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হচ্ছে এরকম নেতার উত্থানে।

 

 

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only