মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১

১০০০ দিন ধরে জেল বন্দী কাশ্মীরের সাংবাদিক আসিফ সুলতান



পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ কাশ্মীরি সাংবাদিক আসিফ সুলতান ১০০০ দিন ধরে জেলে বন্দি আছেন৷ ২০১৮ সালের আগস্টে তাকে ইউএপিএ (আন ল'ফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট) ধারায় গ্রেফতার করা হয়৷ সম্প্রতি তার কারাবাসের ১০০০ দিন পূর্ণ হয়েছে৷ ৩৪ বছর বয়সি সুলতান যিনি শ্রীনগরের একটি ইংরেজি ম্যাগাজিনের সহকারি সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এছাড়া আসিফকে খুন, হত্যাচেষ্টা এবং আরও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আসিফ সুলতানের পরিবার এবং 'কাশ্মীর ন্যারেটর'-এর সম্পাদক এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আসিফকে তার সাংবাদিকতার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষ করে তিনি ২০১৮ সালের জুলাইতে তার এই ম্যাগাজিনে ‘দ্য রাইজ অফ বুরহান' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন লেখেন৷ ৪ হাজার শব্দের সেই রিপোর্টে কাশ্মীরের বিদ্রোহী কমান্ডার বুরহান ওয়ানিকে ২০১৬ সালে সেনাবাহিনীর হাতে হত্যার কাহিনী তুলে ধরা হয়। এছাড়া সেখানে আরও লেখা হয়, কেন বুরহান ওয়ানিকে হত্যার পর বহু তরুণ তার পথ অনুসরণ করে 'নিখোঁজ' হয়ে যান কাশ্মীরের জঙ্গলে৷ ২০১৬ সালের ৮ জুলাই ওয়ানিকে হত্যা করা হলে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সেটি হেডলাইন হয়ে ওঠে এবং কাশ্মীরিরা আন্দোলনে ফুঁসে উঠে৷ সেসময় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়৷


২০১৮ সালের ১২ আগস্ট পুলিশ সুলতানের নামে একটি এফআইআর করে৷ বাটামালুতে এক গুলির লড়াইয়ে পুলিশ তার নাম জড়িয়ে দেয় সেই সময়৷ সেই সংঘর্ষে এক পুলিশকর্মী নিহত হয়েছিল৷ তিনজন জঙ্গি পালিয়ে যায়৷ মধ্যরাতে সুলতানের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি করে 'আপত্তিজনক জিনিস' খুঁজে পায়৷ তার লেখার ল্যাপটপটি ও মোবাইল ফোনটিকে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়৷ সেগুলিকে চণ্ডীগড়ে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে৷ আড়াই বছর পার হয়েছে, সেই রিপোর্ট আজও আসেনি৷ সুলতানের আইনজীবী আদিল আবদুল্লাহ পণ্ডিতের দাবি, আমার ক্লায়েন্ট ওই গানফাইটের স্থলে হাজিরই ছিলেন না৷ সরকার পক্ষের আইনজীবী সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন৷ কিন্তু পুলিশ সেটাকে আড়াল করে ভুয়ো মামলা চালিয়ে যাচ্ছে৷ তারপরও ওঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যার চেষ্টার অভিযোগ কীভাবে আনা যায়? এমন কোনও রেকর্ড বা নথিপত্র নেই যা প্রমাণ করতে পারবে যে আসিফ সুলতান কোনও জঙ্গিকে অস্ত্র বা অন্য কোনও প্রকার সাহায্য দিয়েছেন৷ 

সুলতানের পিতামাতা বিশ্বাস করেন, বুরহান ওয়ানিকে নিয়ে লেখার জন্যই তাদের সন্তান আজ জেলের মধ্যে৷ বাবা মুহাম্মদ সুলতান জানাচ্ছেন, কোনও জঙ্গির সঙ্গে আমার ছেলের সম্পর্ক ছিল না৷ ও নির্দোষ৷ আমেরিকা ভিত্তিক একটি প্রেস সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট গত ২৩ মে আসিফ সুলতানের মুক্তির দাবি জানিয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তার মুক্তির দাবি জানিয়ে সিপিজে, ৪০০ সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা চিঠিও দিয়েছেন ইতিমধ্যে৷ গত বছর টাইম ম্যাগাজিন বিশ্বে প্রেসের স্বাধীনতা বিষয়ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি মামলার মধ্যে একটি হিসেবে আসিফের কেসকে উল্লেখ করে৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only