বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জনবসতি বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে সুন্দরবনে ম‍্যানগ্রোভ রোপণের উদ‍্যোগ প্রশাসনের

 



 ইনামুল হক, বসিরহাট: আয়লা, আমফান ও অতি সাম্প্রতিক ইয়াস-এর মত বিপর্যয়ে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীবাঁধগুলি। এর স্থায়ী সমাধান যে নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলিকে বেশি পরিমাণে ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইয়াস পরবর্তী পর্যালোচনা বৈঠকে বারবার তুলে ধরেছেন। সেই নির্দেশ মতো বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবন লাগোয়া নদীবাঁধ গুলিতে ম্যানগ্রোভ গাছের চারা লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।  ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়ে  সুন্দরবনে উপড়ে গিয়েছে হাজার হাজার  ম্যানগ্রোভ। জলের ধাক্কায় উপড়ে গিয়েছে বহু পূর্ণবয়স্ক গাছ। উপকূল এলাকায় মাটি ক্রমশই আলগা হয়ে গিয়েছে। সরাসরি আছড়ে না পড়লেও ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ক্ষতি করে দিয়েছে নদী বাঁধ গুলির অনেকটাই। তাই জরুরি ভিত্তিতে বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবনের দীপ গুলিতে পঞ্চাশ লক্ষ ম‍্যানগ্রোভ বৃক্ষরোপণ করতে চলেছেন সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতো, সন্দেশখালি বিধানসভার কনভেনার শেখ শাহজাহান ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য শিব প্রসাদ হাজরারা। চলছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জমি পরিদর্শন এবং কোথায় কত গাছ লাগানো হবে সেই সংক্রান্ত হিসেবের কাজ। এই বিষয়ে সন্দেশখালি ২নং ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অর্ণব মুখ‍্যোপাধ‍্যায় জানান,  এই পঞ্চাশ লক্ষ ম‍্যানগ্রোভের মধ‍্যে যেমন সুন্দরবনের জন্য ক‍্যাঁওড়া,  হেতালের মতো গাছ আছে তেমনি সুন্দরী, গরান ও গেঁওয়ার মতো গাছও আছে।



সুন্দরবন সহ গোটা বসিরহাটেই গতবছর আমফানের তাণ্ডবে গাছের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে একদিকে যেমন সুন্দরবন এলাকার ম্যানগ্রোভের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল তেমনি হেমনগর থেকে বসিরহাট পর্যন্ত বহু জায়গাতেই গাছ উপড়ে পড়ে যায়। শুধুমাত্র বসিরহাট শহরকে এই উপড়ানো গাছের থেকে মুক্ত করতেই কয়েকদিন লেগে যায়। এবছর ইয়াসের তাণ্ডবে সেই ক্ষয়-ক্ষতি না হলেও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুন্দরবনের সন্দেশখালি ১ ও ২ নং, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ ও মিনাখাঁর নদী উপকূলবর্তী এলাকার ম‍্যানগ্রোভ যথেষ্ট পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু জায়গায় গাছ যেমন পড়ে গেছে তেমনি গোড়া আলগা হয়ে মাটি সরে যাওয়ার কারণে গাছ গিয়েছে হেলে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামীদিনে সুন্দরবন এলাকার নদীগুলি বনাঞ্চলকে গ্রাস করে জনবসতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।



সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতো বলেন বলেন, সুন্দরবনই কিন্তু ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস সামাল দিয়ে কলকাতা,  বারাসত বা বসিরহাট শহরের আশেপাশের এলাকাকে রক্ষা করে চলেছে। এটা সম্ভব হচ্ছে ম্যানগ্রোভের জন্য। আমফানের পর বসিরহাট মহকুমা,  বসিরহাট ফরেস্ট রেঞ্জের ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় পঁচাত্তর লক্ষ ম্যানগ্রোভ লাগানো হয়েছিল। কিন্তু অন্য গাছের সঙ্গে এই গাছের তফাৎ হল এটা বড় হতে বাকি গাছের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সময় নেয়। এছাড়াও সুন্দরবন এলাকার অনেক অংশেই প্রাকৃতিক ভাবে ম্যানগ্রোভ তৈরি হয়েছে। যা কেটে ভেঁড়ি তৈরি করার অভিযোগও মাঝে মাঝে শোনা গেছে। ফলে প্রশাসন এবং বনবিভাগ যেমন দায়িত্ব পালন করছে তেমনি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। না হলে নদীর জলোচ্ছ্বাস আগামীদিনে আরও উঁচু হতে পারে এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only