বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

নুসরতকে তসলিমা নাসরিনের নসিহত কি সত্য হল!



বিশেষ প্রতিবেদক: বলছিলাম নুসরতকে তসলিমা নাসরিনের নসিহত করার কথা। আগ বাড়িয়ে নিখিল জৈন ও নুসরতের ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে গিয়ে তসলিমা নুসরতকে কিছু সদুপদেশ প্রদান করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নুসরত যখন বিয়ে করলেন– বেশ আনন্দ পেয়েছিলাম। ঠিক যেমন আনন্দ পেয়েছিলাম সৃজিত আর মিথিলা যখন বিয়ে করেছিলেন। অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করি বলে দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে বিয়ে হলে খুব স্বাভাবিক কারণেই পুলকিত হই। জাত– ধর্ম ইত্যাদি দূর করতে হলে ভিন্ন জাত আর ভিন্ন ধর্মের মানুষকে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। এতেই হিংসা আর হানাহানিকে হটানো যাবে। কিন্তু এত চোখ জুড়োনো জুটি যে বেশিদিন সুখে থাকবে না কে জানতো!’

তসলিমার অবশ্য আফশোস হওয়ারই কথা। তিনি হিংসা, হানাহানির হটানোর জন্য বিয়ের হ্যাটট্রিক করে ফেলেছিলেন। কিন্তু অতীব দুঃখের কথা– তসলিমা বিজাতীয় কোনও হিন্দু বা খ্রিষ্টানকে বিয়ে করেননি। তাঁর সবগুলি স্বামীই হচ্ছেন মুসলমান। তবে তসলিমাকে পুরোপুরি দোষ দেওয়া যায় না। তিনি এরপর যে সমস্ত বয়ফ্রেন্ড বাছেন বা ঘনিষ্ঠ প্রেম করেন তার মধ্যে তিনি ধর্মাধর্মের কোনও ফারাক রাখেননি। হিন্দু– মুসলিম– খ্রিষ্টান সবার সঙ্গে তাঁর ছিল মুক্ত প্রেমের সম্পর্ক। তাঁর প্রেম এতই তুঙ্গে উঠেছিল নিজের আত্মজীবনীতে প্রখ্যাত এই লেখিকা লিখেছেন– ঢাকায় তাঁর শান্তিনগরের বড় ফ্ল্যাট বাড়িতে তিনি মাকে সামনে রেখেই প্রেমিকের হাত ধরে নিজের রুমের ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। হতবাক মাকে সবই মেনে নিতে হত। তারপর কলকাতা ও ইউরোপে তসলিমার বসবাস। একথা স্বীকার করতেই হবে, সেই সময় তসলিমা হিন্দু– মুসলিম– খ্রিষ্টানের মধ্যে কোনও বাছবিচার রাখেননি। 

তসলিমা তাঁর ট্যুইটে নুসরতকে হেদায়েত দিয়ে বলেছেন– ‘নুসরত প্রেগনেন্ট। তাঁর স্বামী নিখিল এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। দু’জনে আলাদা থাকছেন ছয় মাস হল। তবে যশ নামে এক অভিনেতার সঙ্গে নুসরত প্রেম করছেন। সন্তানের পিতা মানুষ অনুমান করছে যশ– নিখিল নয়। এই যদি পরিস্থিতি হয় তবে নিখিল আর নুসরতের ডিভোর্স হয়ে যাওয়াই কি ভাল নয়?  অচল কোনও সম্পর্ক বাদুড়ের মতো ঝুলিয়ে রাখার কোনও মানে হয় না।’

অনেকে বলছেন, তসলিমা নিজে তিন তিনবার তিন স্বামীকে তালাক দিয়েছেন বলেই হয়তো নুসরতকেও তাঁর পথেই হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন। স্বামীও রইল, ঘনিষ্ঠ প্রেমিকও থাকল, এতটা সাহসী ও স্বাধীনতা যে এখনও উপমহাদেশের সমাজে চলে না– তা তসলিমা অভিজ্ঞতার নিরিখে বুঝেছিলেন। তাই চটপট অচল স্বামীদের মুক্তি দিয়েছেন। আর নিখিল-নুসরত পরস্পর তালাক না দিলে যে ঝামেলা হবে– সেটা বুঝেই তিনি বলেছেন– এই অচল সম্পর্ককে বাদুড়ের মতো ঝুলিয়ে রেখে লাভ কি! 

তসলিমার ভবিষ্যত বাণী কিন্তু বাস্তব হয়ে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিন কিন্তু নুসরতকে আরও একটি পথ বাতলেছেন। আর তা হল, সন্তানের পরিচয় নিয়ে। কারণ, এখনও পর্যন্ত নিখিল– যশ বা অন্য কেউ নুসরতের সন্তানের পিতৃত্বের দায় স্বীকার করেননি। এ সম্পর্কে তসলিমার সমাধানও বেশ প্রগতিমুখী। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই নুসরত স্বনির্ভর। আসলে স্বনির্ভর এবং সচেতন হলে, আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান যথেষ্ট থাকলে নিজের সন্তানের অভিভাবক নিজেই হওয়া যায়। নিজের সন্তানকে নিজ পরিচয়েই বড় করা যায়। পুরুষের মুখাপেক্ষী হতে হয় না।’

সম্ভবত তসলিমা বলতে চেয়েছেন, সন্তানের পিতৃ পরিচয় খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। পিতার কথা বেমালুম ভুলে মায়ের পরিচয়েই সন্তানকে বড় করা যায়। পুরুষের মুখাপেক্ষী হতে হয় না। আসলে এই ধরনের এক অগ্রণী এবং প্রগতিশীল সমাজ গড়ার জন্য তসলিমা ও তাঁর সহযোগীরা প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর নুসরতদের ঘটনা থেকে মনে হচ্ছে, সেইদিন সম্ভবত খুব আর দূরে নয়। 

নসিহতের শেষ পর্যায়ে তসলিমা নাসরিন সাংসদ নুসরতকে একটি চমৎকার উপদেশ দিয়েছেন। ‘আসলে নিখিল আর যশের মধ্যে কি এমন আর পার্থক্য! পুরুষ তো শেষ পর্যন্ত পুরুষই। একজনকে ত্যাগ করে আরেক জনকে বিয়ে করলে খুব যে সুখময় হয়ে ওঠে জীবন তা তো নয়। দ্বিতীয় বিষময় জীবন থেকে বাঁচতে তাহলে কি আবার আরেকটি বিয়ে করতে হবে?  তাহলে এ রেসের শেষ হবে না– কাঙ্খিত পুরুষের দেখাও মিলবে না। স্বাধীনচেতা নারীর কাঙ্খিত পুরুষ কল্পনায় থাকে– বাস্তবে নয়।’

একথা অবশ্য তসলিমা বলতেই পারেন। তসলিমার সম্পর্ক ছিল বেশ কিছু পুরুষের সঙ্গে। কাঙ্খিত পুরুষের খোঁজে তিনি সবসময় সক্রিয় ছিলেন। তাঁর আত্মজীবনী পড়লেই জানা যায়– ঢাকার বেশ কিছু লেখকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। বাংলাদেশের বিখ্যাত লেখক ইমদাদুল হক মিলনকে নিয়ে তিনি তো কাশ্মীরেও পাড়ি দিয়েছিলেন। পরে তসলিমার লেখার তা ফাঁস হলে ইমদাদুলের দাম্পত্য জীবনে ঘনিয়ে এসেছিল আঁধার। তসলিমা তিন স্বামী এবং বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উপলব্ধি করেছেন– পুরুষে পুরুষে তেমন কোনও পার্থক্য নেই। যশ এবং নিখিলের মধ্যেও নয়। নুসরত পুরুষ পরিবর্তন করে হয়তো ভুল করেছেন বলেই তসলিমার অভিমত। 

তবে নুসরতেরও সম্পর্ক ছিল তাঁর বয়ফ্রেন্ড কাদের এবং ভিক্টর ঘোষের সঙ্গে। গুজব ছিল, ভিক্টরকে নাকি তিনি বিয়েও করেছিলেন। পরে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নুসরত জাহান সবসময় দাবি করেছেন, ভিক্টরের সঙ্গে তাঁর মোটেই বিয়ে হয়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only