মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১

কর্মময় জীবন উপহার দিয়ে বিদায় নিলেন ডা.হায়দর সিদ্দিকী

 



আহমদ হাসান ইমরান

বিশ্বখ্যাত বাঙালি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ কলকাতার প্রাক্তন শেরিফ ডা. কে কে হায়দার সিদ্দিকী। এক দীর্ঘ বর্ণময় জীবন শেষে ডা. সিদ্দিকী বিদায় নিয়েছেন জুন, ২০২১। ছিলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের সন্তান। তাঁর শেষ ঠিকানাও হল ভরতপুরে নিজের গ্রামে। কলকাতার বাসভবন পাম অ্যাভিনিউ থেকে ভরতপুরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই মুর্শিদাবাদের এই সন্তানকে দাফন করা হয়। তিনি রেখে গেছেন তাঁর স্ত্রী মাসুদা সিদ্দিকী, পুত্র ডা. জেওয়াই সিদ্দিকী, ডা. কেএন সিদ্দিকী পুত্র আর সিদ্দিকী এবং কন্যা ডা. কুরাতউলাইন সিদ্দিকীকে।

তাঁর জন্ম ১৯৩৪ সালে জানুয়ারি। প্রাথমিক পড়াশোনা ভরতপুর কান্দির স্কুলে। এমবিবিএস পাশ করেন নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ থেকে। এমডিও তিনি করেন এই শহর থেকেই।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডা. কে কে সিদ্দিকীর খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি ভারতের কার্ডিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ১৯৯০ সালে। তার আগে এই সোসাইটিরই তিনি অনারারি জেনারেল সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করেন (১৯৮৩-৮৬)

হৃদরোগ সম্পর্কিত দেশ-বিদেশের চিকিৎসা সংস্থাগুলিতে তিনি যে পদগুলির দায়িত্ব পালন করেছেন, শুধুমাত্র তার উল্লেখ করলেই লম্বা এক তালিকা দাঁড়িয়ে যাবে। যেমন তিনি ছিলেনহার্ট ফ্রেন্ডস অ্যারাউন্ড দা ওয়ার্ল্ড’-এর প্রেসিডেন্ট, এশিয়া প্যাসিফিক সোসাইটি অফ কার্ডিওলজির অবৈতনিক প্রেসিডেন্ট। ১৯৯১-৯৫ তিনি এই সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। মুম্বইতে ২০০৫ সালে ১৫তম এশিয়ান প্যাসিফিক কংগ্রেস অফ কার্ডিওলজির চেয়ারম্যান পদেও তাঁকে বরণ করা হয়। এই আন্তর্জাতির সংগঠনের হৃদরোগী পুনর্বাসন কমিটিরও তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন।

ইন্ডিয়ান হার্ট জার্নাল’-এর ডা. সিদ্দিকী ছিলেন অ্যাসোসিয়েট এডিটর। তিনি হৃদরোগ চিকিৎসা সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে যে অবদান রেখেছেন তার স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯১ সালে তাঁকে কলকাতা মহানগরীর শেরিফ হিসেবে বরণ করা হয়।

দীর্ঘদিন ছিলেন বাংলার রাজ্যপালের হৃদরোগ চিকিৎসক। এছাড়া ডা. সিদ্দিকী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের বার সদস্য হয়েছিলেন (১৯৯১-২০০৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেটেরও তিনি সদস্য ছিলেন। ডা. কে কে হায়দার সিদ্দিকীকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টেরও সদস্য করা হয়।

জাতীয় সংহতি ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ডা. সিদ্দিকীকে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ২০০৮ সালে ন্যাশনাল লাইব্রেরির ভাষাভবনে তাঁকে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ পুরষ্কার প্রদান করা হয়। কলকাতার ঐতিহাবাহী টাউন হলে শহরের মেয়র ২০১০ সালের এপ্রিল তাঁকে পাবলিক রিসেপশন প্রদান করে সম্মানিত করা হয়।

জনসেবার ক্ষেত্রে ডা. সিদ্দিকীপিপলস রিলিফ কমিটিরও ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তাঁর আলোকোজ্জ্বল কর্মময় জীবনে তিনি আরও অনেক কাজ করেছেন। তবে হৃদরোগ চিকিৎসা গবেষণাই ছিল তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ। তিনি কলকাতায় বেশ কিছু বিনামূল্যে হার্ট ক্যাম্পেরও আয়োজন করেন। ডা. সিদ্দিকী ছিলেন হদরোগীদের পুনর্বাসনের একজন বিশেষজ্ঞ। আর জন্য তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তেও হদরোগ পুনর্বাসনের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ নেতৃত্ব দেন।

বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের তাঁকে হৃদরোগ সম্পর্কে বক্তব্য রাখার জন্য বিশেষজ্ঞরা আমন্ত্রণ করেছিলেন। দায়িত্ব নিয়ে তিনি যেসব দেশে গিয়েছিলেন তার কয়েকটি হল ব্রিটেন, ইউএসএ, ইতালি, চেকোশ্লোভিয়া, রুমানিয়া, ব্রাজিল, পানামা, আর্জেন্তিনা, স্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, চিন, সিঙ্গাপুর, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ,ইরান প্রভৃতি।

হৃদরোগের চিকিৎসা জনসেবায় কলকাতার শেরিফ ডা. কে কে হায়দার সিদ্দিকী শুধু নিজের নয়, ভারত এবং বাংলার নামও উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর শোক জানিয়ে বেশ কিছু বার্তা এসেছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হৃদরোগের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা প্রখ্যাত চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে।

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only