১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার টাকা না দেওয়ায় বাংলার ৩০ লাখ পরিবার কর্মহীন

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মহাত্মা গান্ধি ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি আইন বা ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে কেন্দ্রের মোদি সরকার বাংলার ৩০ লাখ গ্রামীণ পরিবারকে চলতি বছরে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।

 

এক রিসার্চ গ্রুপের সমীক্ষার রিপোর্টে উঠে এসেছে এই তথ্য। সুশীল সমাজ সংস্থার সমীক্ষার অন্য একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাকে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে গত এক বছর ধরে কোনও টাকা বরাদ্দ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার শেষবার টাকা দিয়েছিল গত বছর ২৬ ডিসেম্বর।

 

মোদি সরকারের ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে বাংলাকে টাকা না দেওয়ার ফলে গ্রামীণ শ্রমিকরা অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে সমীক্ষার রিপোর্টে প্রকাশ। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ তারা পশ্চিমবঙ্গে ‘ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ’-এর তদন্ত করতে একটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ টিম পাঠিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। গত বছর এই দল কিছু সুপারিশ করেছে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে। রাজ্য সরকার যত দিন না সেই সুপারিশ মেনে কাজ করছে ততদিন পশ্চিমবঙ্গকে এই প্রকল্পে টাকা দেবে না কেন্দ্র।

 

তৃণমূলের সাংসদরা সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বিষয়টা তুলে বলেন কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করছে। রাজ্য সরকার দুর্নীতির বিষয়ে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে তার ‘অ্যাকশনটেকন রিপোর্ট’ কেন্দ্রীয় সরকারকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার বলছে রাজ্য ‘পর্যাপ্ত’ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এত দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনও রাজ্যকে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার আর্থিক বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করেনি।

 

এক বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে টাকা পায়নি পশ্চিমবঙ্গ। রিসার্চ গ্রুপ লিবটেক ইন্ডিয়া ‘স্ট্যাটাস অব এমজিএনআরইজিএ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ওয়েজেস ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ শীর্ষক যে সমীক্ষা চালিয়েছিল তাতে বলা হয়েছে কোভিডের আগে এবং কোভিড জমানায় অর্থাৎ ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ সালে গড়ে ৪৯.২৫ লাখ গ্রামীণ পরিবার বাংলায় ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কাজ পেয়েছিল। এই হার ২০২০-২১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭.৮১ লাখ। কিন্তু ২০২১-২২ সালে গত ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কাজ পাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ১৬.২ লাখ পরিবার। সমীক্ষার রিপোর্ট জানাচ্ছে, যদি কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে অর্থ না পাঠায় তাহলে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বাংলার ৩০ লাখ গ্রামীণ পরিবার কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

 

প্রসঙ্গত, ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে দেশের সব রাজ্যের চেয়ে বেশি কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং কাজ পান পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের মোট বরাদ্দ অর্থের ১০ শতাংশ খরচ হয় পশ্চিমবঙ্গে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং সেইমতো মানুষ কাজও পান সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে মজুরি বাকি পড়েছে ২,৭৪৪ কোটি টাকা।

 

এই মজুরি শ্রমিকরা কাজ করেও পাননি। এদের মজুরি বকেয়া ফেলে রাখায় ৩.৪ কোটি বাংলার নথিভুক্ত শ্রমিকের জীবনের মৌলিক অধিকার ভঙ্গ হচ্ছে যা সংবিধান বিরোধী বলে মন্তব্য করেছে এনআরইজিএ সংঘর্ষ মোর্চা (এনএসএস)। তারা এই মর্মে একটি রিপোর্টও পেশ করেছে। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের কিছু কিছু গ্রাম রয়েছে যেখানে পরিবারের অর্ধেক লোকই অন্যত্র চলে গেছেন কাজের সন্ধানে। কারণ আপাতত কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বদান্যতায়’ পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ রয়েছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প।

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

সন্দেহ বাংলাদেশি: অবৈধ বসবাসের অভিযোগে ১১ জন মহিলাকে আটক মহারাষ্ট্র পুলিশের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার টাকা না দেওয়ায় বাংলার ৩০ লাখ পরিবার কর্মহীন

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার

পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মহাত্মা গান্ধি ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি আইন বা ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে কেন্দ্রের মোদি সরকার বাংলার ৩০ লাখ গ্রামীণ পরিবারকে চলতি বছরে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।

 

এক রিসার্চ গ্রুপের সমীক্ষার রিপোর্টে উঠে এসেছে এই তথ্য। সুশীল সমাজ সংস্থার সমীক্ষার অন্য একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাকে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে গত এক বছর ধরে কোনও টাকা বরাদ্দ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার শেষবার টাকা দিয়েছিল গত বছর ২৬ ডিসেম্বর।

 

মোদি সরকারের ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে বাংলাকে টাকা না দেওয়ার ফলে গ্রামীণ শ্রমিকরা অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে সমীক্ষার রিপোর্টে প্রকাশ। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ তারা পশ্চিমবঙ্গে ‘ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ’-এর তদন্ত করতে একটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ টিম পাঠিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। গত বছর এই দল কিছু সুপারিশ করেছে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে। রাজ্য সরকার যত দিন না সেই সুপারিশ মেনে কাজ করছে ততদিন পশ্চিমবঙ্গকে এই প্রকল্পে টাকা দেবে না কেন্দ্র।

 

তৃণমূলের সাংসদরা সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বিষয়টা তুলে বলেন কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করছে। রাজ্য সরকার দুর্নীতির বিষয়ে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে তার ‘অ্যাকশনটেকন রিপোর্ট’ কেন্দ্রীয় সরকারকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার বলছে রাজ্য ‘পর্যাপ্ত’ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এত দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনও রাজ্যকে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার আর্থিক বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করেনি।

 

এক বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে টাকা পায়নি পশ্চিমবঙ্গ। রিসার্চ গ্রুপ লিবটেক ইন্ডিয়া ‘স্ট্যাটাস অব এমজিএনআরইজিএ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ওয়েজেস ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ শীর্ষক যে সমীক্ষা চালিয়েছিল তাতে বলা হয়েছে কোভিডের আগে এবং কোভিড জমানায় অর্থাৎ ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ সালে গড়ে ৪৯.২৫ লাখ গ্রামীণ পরিবার বাংলায় ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কাজ পেয়েছিল। এই হার ২০২০-২১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭.৮১ লাখ। কিন্তু ২০২১-২২ সালে গত ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কাজ পাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ১৬.২ লাখ পরিবার। সমীক্ষার রিপোর্ট জানাচ্ছে, যদি কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে অর্থ না পাঠায় তাহলে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বাংলার ৩০ লাখ গ্রামীণ পরিবার কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

 

প্রসঙ্গত, ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে দেশের সব রাজ্যের চেয়ে বেশি কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং কাজ পান পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের মোট বরাদ্দ অর্থের ১০ শতাংশ খরচ হয় পশ্চিমবঙ্গে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং সেইমতো মানুষ কাজও পান সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে মজুরি বাকি পড়েছে ২,৭৪৪ কোটি টাকা।

 

এই মজুরি শ্রমিকরা কাজ করেও পাননি। এদের মজুরি বকেয়া ফেলে রাখায় ৩.৪ কোটি বাংলার নথিভুক্ত শ্রমিকের জীবনের মৌলিক অধিকার ভঙ্গ হচ্ছে যা সংবিধান বিরোধী বলে মন্তব্য করেছে এনআরইজিএ সংঘর্ষ মোর্চা (এনএসএস)। তারা এই মর্মে একটি রিপোর্টও পেশ করেছে। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের কিছু কিছু গ্রাম রয়েছে যেখানে পরিবারের অর্ধেক লোকই অন্যত্র চলে গেছেন কাজের সন্ধানে। কারণ আপাতত কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বদান্যতায়’ পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ রয়েছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প।