পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অ্যাক্টিভিস্ট উমর খালিদকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ন্যায্য ও সময়মতো বিচার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আট জন আইনপ্রণেতা। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির প্রকাশ্য সমর্থনের কয়েক দিনের মধ্যেই এই চিঠি পাঠানো হয়।
আইনপ্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় কোয়াত্রাকে চিঠিটি পাঠান। তাঁদের দাবি, উমর খালিদের পরিবারের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁর আটক থাকার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই আবেদন জানানো হয়েছে।
চিঠিটির নেতৃত্ব দেন ডেমোক্র্যাট সাংসদ জিম ম্যাকগভর্ন। তিনি হাউস রুলস কমিটির র্যাঙ্কিং মেম্বার এবং টম ল্যান্টোস মানবাধিকার কমিশনের সহ-চেয়ার। তাঁর সঙ্গে আরও সাত জন কংগ্রেস সদস্য এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের শুরুতে ম্যাকগভর্ন ও তাঁর সহকর্মীরা উমর খালিদের বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ এক পোস্টে ম্যাকগভর্ন লেখেন, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনা বিচারে কারাবন্দি থাকা উমর খালিদের জামিন ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা।
আইনপ্রণেতারা বিশেষ করে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ-র অধীনে খালিদের দীর্ঘদিন আটক থাকার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে এই আইন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড—আইনের সমতার অধিকার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও আনুপাতিকতার নীতির পরিপন্থী হতে পারে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে বিচার পাওয়া বা মুক্তি এবং দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে গণ্য হওয়া—এই মৌলিক অধিকার ভারতকে রক্ষা করতেই হবে। পাশাপাশি, খালিদ ও অন্যান্য অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচারিক মান বজায় রাখতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এই চিঠির আগে নিউইয়র্কের নবনিযুক্ত মেয়র জোহরান মামদানি উমর খালিদকে ব্যক্তিগতভাবে একটি বার্তা লেখেন। সেই বার্তায় তিনি খালিদের বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। খালিদের সঙ্গী বানোজ্যোৎস্না সেই বার্তাটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দিল্লির কারকড়ডুমা আদালত উমর খালিদকে তাঁর বোনের বিয়েতে যোগ দিতে ১৬ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে। উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গা ষড়যন্ত্র মামলায় ইউএপিএ-র অধীনে অভিযুক্ত উমর খালিদের স্থায়ী জামিনের আবেদন বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।



















