নয়াদিল্লি: ২৬ জানুয়ারি পালিত হল দেশের ৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবস। প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে নয়াদিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের বহু আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। কিন্তু নয়াদিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আহমেদ আলী নামে একজন নিরক্ষর রিকশাচালকের উপস্থিতি সকলের নজর কাড়ে। নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও, সামাজিক সেবার জন্য ভারত সরকার তাঁকে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
আহমেদ আলী সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ দক্ষিণ আসামের শ্রীভূমি জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা আহমেদ আলীর কথা উল্লেখ করেছিলেন।
আহমেদ আলী রিকশা চালিয়ে তাঁর পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি সম্পূর্ণ নিজের খরচায় দক্ষিণ আসামে ৯টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। দারিদ্র্যতার কারণে আহমেদ আলী নিজে পড়াশোনা করতে পারেননি ঠিকই। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন যে, তিনি তাঁর সমাজকে অশিক্ষার পাপ থেকে বাঁচাতে পারবেন এবং এই আশা নিয়েই তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
আহমেদ আলীকে দিল্লিতে ৭৬ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানান অল ইন্ডিয়া রেডিওর অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুকেশ কুমার। আহমেদ আলী বলেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে তিনি গর্বিত। আলী আরও বলেন যে, ‘প্রধানমন্ত্রী মন কি বাত প্রোগ্রামে তার নাম নেওয়ার পরে তাঁর উৎসাহ এবং কাজের শক্তি বেড়ে যায়। তিনি বলেন, নারী শিক্ষার উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে।
দক্ষিণ আসামের করিমগঞ্জ জেলার পাথরকান্দি সার্কেলের খিলরবন্দ-মধুরবন্দের ৮৮ বছর বয়সী আলী, রিকশা চালিয়ে উপার্জন করা অর্থ এবং তার পৈতৃক জমির ৩২ বিঘা স্কুল খোলার জন্য দান করেছেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত নয়টি বিদ্যালয়ে ৫ শতাধিক মেয়ে ও প্রায় শতাধিক ছেলে পড়াশোনা করছে।
৮৮ বছর বয়সেও আহমদ আলী তাঁর গ্রামের কাছে একটি জুনিয়র কলেজ খোলার চেষ্টা করছেন যাতে তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে। আহমেদ আলী আওয়াজ দ্য ভয়েসকে বলেন, “আল্লাহর নির্দেশনা ও রহমতে আমি নিজের সন্তানদের পাশাপাশি আমার গ্রামের শিশুদেরও শিক্ষিত করতে পেরেছি।”




























