পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ এটা ভারত। সংস্কৃত এই দেশের প্রাথমিক ভাষা। সংসদ অধিবেশনে অকপট মন্তব্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার। ডিএমকে সাংসদ দয়ানিধি মারান সংসদে প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধুমাত্র আরএসএস-এর মতাদর্শ চালু করতে লোকসভার অধিবেশনের অনুবাদ সংস্কৃততে করা হচ্ছে? এর ফলে দেশের করদাতাদের দেওয়া করের টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না। এর জবাবেই বিড়লা তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন, সংস্কৃত ভারতের প্রাথমিক ভাষা। তাই ভাষাকে রাখতেই হবে। যা নিয়ে বিরোধীদের বক্তব্য, যতই জনগণের করের টাকার অপচয় হোক আরএসএস-কে খুশি করতে সংস্কৃত অনুবাদ চলবে। যদিও বিড়লার পালটা যুক্তি, সংসদ অধিবেশনের সমস্ত প্রক্রিয়ার অনুবাদ শুধু সংস্কৃত ভাষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, হিন্দিতেও তা পাওয়া যায়।
আসলে বিষয়টির সূত্রপাত প্রশ্ন-উত্তর পর্বের পরেই। লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হতেই স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, তিনি খুবই আনকের সঙ্গে এটা ঘোষণা করতে চান যে, আরও ৬টি নতুন ভারতীয় ভাষায় সংসদে অনুবাদ পরিষেবা চালু করা হবে। এই ভাষাগুলি হল-বোডো, ডোগরি, মৈথিলি, মণিপুরী, উর্দু ও সংস্কৃত। একইসঙ্গে তিনি জানান, এতদিন হিন্দিতে ও ইংরেজির পাশাপাশি অনুবাদ পরিষেবায় আরও ১০টি ভাষা রয়েছে সেগুলি হল অসমীয়া, বাংলা, গুজরাতি, কন্নড়, মালায়ালম, মারাঠা, ওড়িয়া, পাঞ্জাবি, তামিল ও তেলেগু। যদিও প্রথম থেকেই ডিএমকে সাংসদ মারান দাবি করতে থাকেন, সংস্কৃত অনুবাদ কাম্য নয়। তাঁর মতে, সংস্কৃত কথা বলার ভাষা নয়। যোগাযোগ যোগ্য নয়। এরপরই ২০১১ সালের জনগণনার বিষয়টি উল্লেখ করে মারান বলেন, সারা দেশে মাত্র ৭৩ হাজার মানুষ সংস্কৃত ভাষায় কথা বলে। এটা কোনও রাজ্যে যোগাযোগের মাধ্যম নয়। তাই শুধুমাত্র আরএসএসের মতাদর্শ চাপিয়ে দিতে কেন করদাতাদের দেওয়া অর্থের অপচয় করা হবে? দয়ানিধি আরও বলেন, সংস্কৃত ভাষার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এটি শুধুমাত্র আরএসএস এর রাজনৈতিক দর্শনের কারণে সংসদে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের পর, অধ্যক্ষ ওম বিড়লা দয়ানিধিকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কোন দেশে বাস করছেন?’
ডিএমকে সদস্যদের প্রতিবাদের পর, বিড়লা স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, সংসদীয় কাজকর্মের জন্য ২২টি ভাষায় অনুবাদ পরিষেবা প্রদান করা হবে এবং তার মধ্যে সংস্কৃতেরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
























