০৭ মার্চ ২০২৬, শনিবার, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তীর্থযাত্রীদের পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ মমতার  

মেগা বৈঠক, চিকিৎসকদের ভাতা- বেতন বাড়ালেন মমতা

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ নয়া দিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যেয়ের। এই ঘটনাকে তিনি হৃদয় বিদারক বলে উল্লেখ করেন। তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা কেন নিশ্চিত করা হল না, তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন।

রবিবার দুপুর ৩টে ৬ মিনিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে এ বিষয়ে একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “দিল্লিতে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই বেদনাদায়ক ঘটনা বুঝিয়ে দিয়েছে নাগরিকদের নিরাপত্তার দিকটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল।” মমতা আরও লেখেন, “মহাকুম্ভে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের যথাযথ সহায়তা এবং সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত ছিল। এই ধরনের যাত্রা নিরাপদ এবং সুসংগঠিত করা অপরিহার্য।আমার অন্তরের সমবেদনা রইল ওই শোকাহত পরিবারের প্রতি, আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মু, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি, উত্তরপ্রদেশের মু্খ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ অনেকে।

উল্লেখ্য, মহাকুম্ভ মেলায় যোগ দিতে শনিবার প্রচুর সংখ্যায় তীর্থযাত্রী জড়ো হয়েছিলেন নয়া দিল্লি রেল স্টেশনে। এর জেরে বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে থিকথিক করছিল ভিড়। শনিবার রাতে তিনটি ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল প্রয়াগরাজের উদ্দেশে। কিন্তু এর মধ্যে দু’টি ট্রেন লেট থাকায় ভিড়ের চাপ আরও বেড়ে যায়।যার ফলে  মহাকুম্ভগামী ট্রেন ধরার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তাতেই দিল্লি রেলস্টেশনে প্রাণ হারালেন বহু মানুষ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯ জন মহিলা ও ৫ জন শিশু-সহ মৃতের সংখ্যা ১৮।

এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্য়মে জানিয়েছেন, একের পর এক লোকজন আমার স্ত্রী ও কন্য়ার উপর পড়ে গেল। আমার ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছি না। আমার স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।  কী করব কিছু বুঝতে পারছি না। মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের বিষয়টি উঠে এসেছে নয়া দিল্লির স্টেশনের এক কুলির বয়ানেও। ১৯৮১ সাল থেকে এই কাজের সঙ্গে জড়িত ওই ব্যক্তি বলেছেন, “১৯৮১ সাল থেকে আমি এই স্টেশনে কুলির কাজ করছি। আমি এর আগে এ রকম ভিড় কখনও দেখিনি। এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার সিঁড়ি এবং এক্সকালেটরে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। ঘটনার পর আমি ও আমার সহকর্মীরা অনেক জনকে উদ্ধার করেছি। কিছু ডেডবডিও বের করেছি।” রেলওয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার কেপিএস মালহোত্রা জানিয়েছেন, বিলম্বিত ট্রেনের জেরে স্টেশনে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, “১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় প্ল্যাটফর্মে অনেক লোক দাঁড়িয়ে ছিলেন। এদিকে স্বতন্ত্র সেনানি এক্সপ্রেস এবং ভুবনেশ্বর রাজধানী এক্সপ্রেসের কিছুটা দেরি হয়েছিল। এই ট্রেনগুলি ১২ এবং ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল। ১৫০০ জেনারেল টিকিট বিক্রি হয়েছিল। এর জেরে প্ল্যাটফর্মে ভিড় বেড়ে যায়।” সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর পোস্ট করা একটি ভিডিয়োতে উত্তর রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক হিমাংশু শেখর বলেন, “যখন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, তখন পাটনাগামী মগধ এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে ছিল নয়াদিল্লি স্টেশনের ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। এবং জম্মুগামী উত্তর সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেস ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল। সেই সময় প্ল্যাটফর্ম ১৪ ও ১৫-তে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে একজন যাত্রী পা পিছলে পড়ে যান এবং কয়েকজন আঘাত পান এবং তার থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। গোটা ঘটনা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তদন্ত করছে।”

সমস্ত মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ভারতীয় রেল। এর পাশাপাশি আহতদেরও ক্ষতিপূরণ দেবে রেল। পদপিষ্টের ঘটনায় গুরুতর আহতদের ২.৫ লক্ষ টাকা করে এবং তুলনায় কম আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

 

 

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

কর্ণাটকের বেলাগাভিতে হোলির শোভাযাত্রায় ইসরাইলি পতাকা উত্তোলন, মোদি -নেতানিয়াহুর পোস্টার বহন

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

তীর্থযাত্রীদের পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ মমতার  

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, রবিবার

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ নয়া দিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যেয়ের। এই ঘটনাকে তিনি হৃদয় বিদারক বলে উল্লেখ করেন। তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা কেন নিশ্চিত করা হল না, তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন।

রবিবার দুপুর ৩টে ৬ মিনিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে এ বিষয়ে একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “দিল্লিতে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই বেদনাদায়ক ঘটনা বুঝিয়ে দিয়েছে নাগরিকদের নিরাপত্তার দিকটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল।” মমতা আরও লেখেন, “মহাকুম্ভে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের যথাযথ সহায়তা এবং সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত ছিল। এই ধরনের যাত্রা নিরাপদ এবং সুসংগঠিত করা অপরিহার্য।আমার অন্তরের সমবেদনা রইল ওই শোকাহত পরিবারের প্রতি, আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মু, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি, উত্তরপ্রদেশের মু্খ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ অনেকে।

উল্লেখ্য, মহাকুম্ভ মেলায় যোগ দিতে শনিবার প্রচুর সংখ্যায় তীর্থযাত্রী জড়ো হয়েছিলেন নয়া দিল্লি রেল স্টেশনে। এর জেরে বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে থিকথিক করছিল ভিড়। শনিবার রাতে তিনটি ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল প্রয়াগরাজের উদ্দেশে। কিন্তু এর মধ্যে দু’টি ট্রেন লেট থাকায় ভিড়ের চাপ আরও বেড়ে যায়।যার ফলে  মহাকুম্ভগামী ট্রেন ধরার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তাতেই দিল্লি রেলস্টেশনে প্রাণ হারালেন বহু মানুষ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯ জন মহিলা ও ৫ জন শিশু-সহ মৃতের সংখ্যা ১৮।

এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্য়মে জানিয়েছেন, একের পর এক লোকজন আমার স্ত্রী ও কন্য়ার উপর পড়ে গেল। আমার ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছি না। আমার স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।  কী করব কিছু বুঝতে পারছি না। মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের বিষয়টি উঠে এসেছে নয়া দিল্লির স্টেশনের এক কুলির বয়ানেও। ১৯৮১ সাল থেকে এই কাজের সঙ্গে জড়িত ওই ব্যক্তি বলেছেন, “১৯৮১ সাল থেকে আমি এই স্টেশনে কুলির কাজ করছি। আমি এর আগে এ রকম ভিড় কখনও দেখিনি। এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার সিঁড়ি এবং এক্সকালেটরে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। ঘটনার পর আমি ও আমার সহকর্মীরা অনেক জনকে উদ্ধার করেছি। কিছু ডেডবডিও বের করেছি।” রেলওয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার কেপিএস মালহোত্রা জানিয়েছেন, বিলম্বিত ট্রেনের জেরে স্টেশনে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, “১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় প্ল্যাটফর্মে অনেক লোক দাঁড়িয়ে ছিলেন। এদিকে স্বতন্ত্র সেনানি এক্সপ্রেস এবং ভুবনেশ্বর রাজধানী এক্সপ্রেসের কিছুটা দেরি হয়েছিল। এই ট্রেনগুলি ১২ এবং ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল। ১৫০০ জেনারেল টিকিট বিক্রি হয়েছিল। এর জেরে প্ল্যাটফর্মে ভিড় বেড়ে যায়।” সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর পোস্ট করা একটি ভিডিয়োতে উত্তর রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক হিমাংশু শেখর বলেন, “যখন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, তখন পাটনাগামী মগধ এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে ছিল নয়াদিল্লি স্টেশনের ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। এবং জম্মুগামী উত্তর সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেস ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল। সেই সময় প্ল্যাটফর্ম ১৪ ও ১৫-তে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে একজন যাত্রী পা পিছলে পড়ে যান এবং কয়েকজন আঘাত পান এবং তার থেকেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। গোটা ঘটনা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তদন্ত করছে।”

সমস্ত মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ভারতীয় রেল। এর পাশাপাশি আহতদেরও ক্ষতিপূরণ দেবে রেল। পদপিষ্টের ঘটনায় গুরুতর আহতদের ২.৫ লক্ষ টাকা করে এবং তুলনায় কম আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।