০৭ মার্চ ২০২৬, শনিবার, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সার্ভে রায় বহাল রাখল হাইকোর্ট, ফের দুশ্চিন্তায় সম্ভল মসজিদ কমিটি

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের পরিণতি হতে চলেছে কি উত্তর প্রদেশের সম্ভলের ঐতিহাসিক জামা মসজিদটির? আজকের হাইকোর্টের রায়ের পর ফের দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল সম্ভল জামা মসজিদ কমিটি। গত বছরে নিম্ন আদালতের হঠাৎ সার্ভে রায় ও মসজিদে অ্যাডভোকেট সার্ভে কমিশনারের ভিজিট নিয়ে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছিল। সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ৪ জনের। আহত হয় বহু। শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু হয় মাত্র কয়েক মাস আগে। সুপ্রিমকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল সার্ভে স্থগিত রাখতে হবে পুনরায় হাইকোর্টে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানির পর রায় দেওয়া পর্যন্ত। সেই মামলার শুনানি শেষ হয় ৩ মে। এলাহাবাদ হাইকোর্ট ১২ মে তাদের রায় রিজার্ভ রেখেছিল। আজ সোমবার হাইকোর্ট জানিয়ে দেয় নিম্ন আদালতের সার্ভে রায় বহাল রইল। সম্ভল জামা মসজিদ কমিটি যে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিল সেটি খারিজ হয়ে গেল হাইকোর্টে।

বিচারপতি রহিত রঞ্জন আগরওয়াল ট্রায়াল কোর্টের রায় বহাল রাখার পরও হিন্দু পক্ষের যুক্তিও মেনে নিলেন। হিন্দু পক্ষ দাবি জানিয়েছিল ৫০০ বছর আগে এখানে একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে তার উপর এই মসজিদ তৈরি হয়েছিল। ট্রায়াল কোর্ট সার্ভের রায় দেওয়ার পর সার্ভে টিম এই জামা মসজিদে প্রবেশ করেন। সেদিন দুপুরে ট্রায়াল কোর্টে আবেদন জমা পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সার্ভে রায় দেওয়া হয় আর সেদিনই সার্ভে টিম চলে আসে মসজিদে। স্থানীয় মানুষ ও মুসল্লিরা বাধা দেয়। মসজিদের চত্বরেই জয় শ্রীরাম স্লোগান ওঠে। তারপর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়, চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। পরে পুলিশ বেশ কয়েকজন মুসলিম মহিলাকেও গ্রেফতার করে যারা সেদিন সার্ভেতে আপত্তি জানিয়ে ছিলেন।

মসজিদ কমিটি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল এটি ঐতিহাসিক মসজিদ। মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি হয়েছে এই অভিযোগ দিয়ে এক শ্রেণির মানুষ গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছে। কমিটি ১৯৯০ সালের ধর্মস্থান আইন উল্লেখ করে জানিয়েছিল এই আইন অনুযায়ী ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে যেসব ধর্মস্থান যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় থাকবে। কোনও চরিত্র বদল করা যাবে না। তাই সার্ভে স্থগিত করা হোক। এই সার্ভে চালু হলে ধর্মস্থান আইন অকেজো হয়ে পড়বে।

সুপ্রিম কোর্ট সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়ে বল পাঠিয়ে দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্টের কোর্টে। হাইকোর্ট জানিয়ে দিল সার্ভে বহাল থাকবে। এই রায়ের ফলে জোর ধাক্কা খেল মসজিদ কমিটি। আবার সেই উত্তেজনার পরিবেশে কি ফিরে এল সম্ভল জামা মসজিদ মামলা। তবে আইনজ্ঞ মহলের অভিমত সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায় মসজিদ কমিটির জন্য ঢাল প্রমাণিত হতে পারে। শীর্ষ কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে সারা দেশে কোনও কোর্ট ধর্মস্থান নিয়ে এমন কোনও নির্দেশ দেবে না যার দ্বারা ওই ধর্মস্থানের চরিত্র বদলে যায়।

আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া সম্ভল মসজিদ নিয়ে জানিয়েছে যে এই সম্পত্তি এএসআই-এর অধীন আর এটির ধর্মস্থান হিসেবে কোনও রেকর্ড নেই। তাই এটিকে আর মসজিদ বলা যায় না। এএসআই এর এই যুক্তি গ্রহণ করছে নিম্ন আদালত।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বৃদ্ধি, বুকিংয়ে নতুন নিয়ম—যুদ্ধের প্রভাব রান্নাঘরেও

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সার্ভে রায় বহাল রাখল হাইকোর্ট, ফের দুশ্চিন্তায় সম্ভল মসজিদ কমিটি

আপডেট : ১৯ মে ২০২৫, সোমবার

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের পরিণতি হতে চলেছে কি উত্তর প্রদেশের সম্ভলের ঐতিহাসিক জামা মসজিদটির? আজকের হাইকোর্টের রায়ের পর ফের দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল সম্ভল জামা মসজিদ কমিটি। গত বছরে নিম্ন আদালতের হঠাৎ সার্ভে রায় ও মসজিদে অ্যাডভোকেট সার্ভে কমিশনারের ভিজিট নিয়ে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছিল। সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ৪ জনের। আহত হয় বহু। শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু হয় মাত্র কয়েক মাস আগে। সুপ্রিমকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল সার্ভে স্থগিত রাখতে হবে পুনরায় হাইকোর্টে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানির পর রায় দেওয়া পর্যন্ত। সেই মামলার শুনানি শেষ হয় ৩ মে। এলাহাবাদ হাইকোর্ট ১২ মে তাদের রায় রিজার্ভ রেখেছিল। আজ সোমবার হাইকোর্ট জানিয়ে দেয় নিম্ন আদালতের সার্ভে রায় বহাল রইল। সম্ভল জামা মসজিদ কমিটি যে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিল সেটি খারিজ হয়ে গেল হাইকোর্টে।

বিচারপতি রহিত রঞ্জন আগরওয়াল ট্রায়াল কোর্টের রায় বহাল রাখার পরও হিন্দু পক্ষের যুক্তিও মেনে নিলেন। হিন্দু পক্ষ দাবি জানিয়েছিল ৫০০ বছর আগে এখানে একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে তার উপর এই মসজিদ তৈরি হয়েছিল। ট্রায়াল কোর্ট সার্ভের রায় দেওয়ার পর সার্ভে টিম এই জামা মসজিদে প্রবেশ করেন। সেদিন দুপুরে ট্রায়াল কোর্টে আবেদন জমা পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সার্ভে রায় দেওয়া হয় আর সেদিনই সার্ভে টিম চলে আসে মসজিদে। স্থানীয় মানুষ ও মুসল্লিরা বাধা দেয়। মসজিদের চত্বরেই জয় শ্রীরাম স্লোগান ওঠে। তারপর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়, চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। পরে পুলিশ বেশ কয়েকজন মুসলিম মহিলাকেও গ্রেফতার করে যারা সেদিন সার্ভেতে আপত্তি জানিয়ে ছিলেন।

মসজিদ কমিটি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল এটি ঐতিহাসিক মসজিদ। মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি হয়েছে এই অভিযোগ দিয়ে এক শ্রেণির মানুষ গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছে। কমিটি ১৯৯০ সালের ধর্মস্থান আইন উল্লেখ করে জানিয়েছিল এই আইন অনুযায়ী ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে যেসব ধর্মস্থান যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থায় থাকবে। কোনও চরিত্র বদল করা যাবে না। তাই সার্ভে স্থগিত করা হোক। এই সার্ভে চালু হলে ধর্মস্থান আইন অকেজো হয়ে পড়বে।

সুপ্রিম কোর্ট সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়ে বল পাঠিয়ে দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্টের কোর্টে। হাইকোর্ট জানিয়ে দিল সার্ভে বহাল থাকবে। এই রায়ের ফলে জোর ধাক্কা খেল মসজিদ কমিটি। আবার সেই উত্তেজনার পরিবেশে কি ফিরে এল সম্ভল জামা মসজিদ মামলা। তবে আইনজ্ঞ মহলের অভিমত সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায় মসজিদ কমিটির জন্য ঢাল প্রমাণিত হতে পারে। শীর্ষ কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে সারা দেশে কোনও কোর্ট ধর্মস্থান নিয়ে এমন কোনও নির্দেশ দেবে না যার দ্বারা ওই ধর্মস্থানের চরিত্র বদলে যায়।

আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া সম্ভল মসজিদ নিয়ে জানিয়েছে যে এই সম্পত্তি এএসআই-এর অধীন আর এটির ধর্মস্থান হিসেবে কোনও রেকর্ড নেই। তাই এটিকে আর মসজিদ বলা যায় না। এএসআই এর এই যুক্তি গ্রহণ করছে নিম্ন আদালত।