০৭ মার্চ ২০২৬, শনিবার, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিলিগুড়িতে বাণিজ্য সম্মেলনে কনভেনশন সেন্টার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, টি ব্র্যান্ডিং-এর প্রকল্প ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ নজর

পুবের কলম প্রতিবেদক : ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে বিশেষ প্রাধান্য দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  একদিকে শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের জীবনের মানোন্নয়ন। এসবের মাধ্যমেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের ভোটের জমিকে এভাবেই উর্বর করতে চান মমতা, ঘাস ফুল ফোটানোর জন্য। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন বিজেপি মন্ত্রী জন বার্লা তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে তৃণমূলের। গত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে কিছুটা  জমি হারিয়েছিল তৃণমূল। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গকেই পাখির চোখ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবারই তিনদিনের সফরে উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিনই শিলিগুড়ির বাণিজ্য সম্মেলনের দীনবন্ধু মঞ্চ থেকে একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের এই বাণিজ্য সম্মেলনেরও উদ্দেশ্য শিল্পে জোয়ার আনা। এই সম্মেলনে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার শিল্পপতি ও উদ্যোগপতিদের আহ্বান  করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সত্যম রায়চৌধুরি, হর্ষ নেওটিয়া, রুদ্র চ্যাটার্জির মতো বেশ কয়েকজন শহর কলকাতার বাসিন্দা  হলেও উত্তরবঙ্গে বিনিয়োগে উৎসাহী।  এ দিন দার্জিলিং টি ব্র্যান্ডিং -এর জন্য শিল্পপতি রুদ্র চ্যাটার্জির নেতৃত্বে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের উন্নয়নে কোনও প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি বিজেপি।  চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার।  চা-বাগানের শ্রমিকদের পাট্টা বিলি করা হয়েছে। এবার চা-এর ব্যান্ডিং এবং বিপণনের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল রাজ্য সরকার।

সোমবার উত্তরবঙ্গের শিল্প সম্মেলনে দার্জিলিং টি -এর ব্র্যান্ডিং -এর প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ জন্য লক্ষ্মী টি -এর কর্ণধার রুo চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেন মমতা। এ দিন মমতা পরোক্ষে একটি পড়োশি দেশের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ওরা ভেজাল মিশিয়ে দার্জিলিং ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে ব্যাবসা করছে। এটা দেখার জন্য টাস্ক ফোর্স তৈরি করে দিয়েছি। মলয় ঘটক বিষয়টা দেখবেন। বাংলার দার্জিলিং চা -এর গুণমান পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে। বিভিন্ন চা-বাগানের মালিকদের নিয়ে কমিটি গড়ার প্রস্তাবকে সবুজ সংকেত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই কমিটিকে নেতৃত্ব দেবে রুদ্র চ্যাটার্জি।

এ দিন জিঞ্জার টি, লেমন টি, টারমারিক টি, বিভিন্ন ধরনের হার্বাল টি তৈরির পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং চায়ের সঙ্গে মধু ও লেবু দিয়ে নতুন চা তৈরির ফর্মুলা বাতলে দিলেন। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, ভোটের আগে চা-বাগান খুলে দেওয়ার কথা বলবে আর ভোট শেষ হলে সে কথা ভুলে যাবে, এরকম চলবে না। উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের ওপর অনেকের জীবন নির্ভরশীল।এ দিন শিল্পপতি রুদ্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, পঞ্চাশ বছর আগে দার্জিলিং চায়ের ব্র্যান্ডিং জার্মানিতে করা হত। কিন্তু এখন বিভিন্ন প্রদেশ থেকে হয়। রুদ্র চ্যাটার্জি বলেন, মকাইবাড়ির মতো দার্জিলিং চায়ের ব্র্যান্ডিং  হওয়া উচিত।

এপ্রিল মাসেই দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন হয়েছে। এবার উত্তরবঙ্গের মানুষও যাতে সহজেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যেতে পারেন, সে জন্য আজ থেকেই উত্তরবঙ্গের ছ’টা জেলা থেকে দিঘাগামী ছ’টা ভলভো বাসের উদ্বোধন করা হচ্ছে। এই জেলাগুলি হল শিলিগুড়ি, মালদহ, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, রায়গঞ্জ — যেখান থেকে ভলভো বাসে দিঘা যাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী যে উত্তরবঙ্গকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেন, তারই প্রমাণ এই উদ্যোগ।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন ঘোষণা করেন, আগামী জুলাইতে জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ -এর উদ্বোধন হবে। এই সার্কিট বেঞ্চ তৈরির জন্য রাজ্যের কোষাগার থেকে ৫০১ কোটি টাকা।১২ জুলাই এই উদ্বোধনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।  তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাইকোর্ট।  প্রশাসনিক কাজের জন্য উত্তরবঙ্গে আগেই প্রশাসনিক ভবন উত্তরকন্যা তৈরি হয়েছে। এবার বিচার বিভাগীয় কাজের জন্য যাতে উত্তরবঙ্গের মানুষকে কথায় কথায় কলকাতায় না দৌড়তে হয়, সেজন্য এবার কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ চালু হচ্ছে উত্তরবঙ্গে।

সোমবার উত্তরবঙ্গের শিল্প সম্মেলনে একাধিক প্রকল্পের প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে রয়েছে  ইথানল কারখানা, মাখনা-ভুট্টা প্রক্রিয়াকরণ, টি ট্যুরিজম ইত্যাদি শিল্প। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, শিল্পের জন্য সরকারের নিজস্ব ল্যান্ড ব্যাঙ্ক রয়েছে। দক্ষ শ্রমিক রয়েছে। ক্ষুদ্র এবং বৃহৎ উভয় ধরনেরই  শিল্পবান্ধব পরিবেশ রয়েছে রাজ্যে। এ দিন মমতা নাম না করে বিজেপিকে বিঁধে বলেন, বিরোধীরা অভিযোগ করেন বাংলায় শিল্প হয় না। আসলে বাংলাকে যারা চেনেই না, তারাই বাংলাকে বদনাম করে। বাংলার এই বদনাম ঘোচাতে রাজ্যের শিল্পমহলকেই এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় রয়েছেন, তাঁরা এর প্রতিবাদ করুন।  এ দিন জিএসটি আদায় নিয়ে বিজেপিকে এবং বাম আমলের কর্মনাশা অবরোধ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিংকে সম্প্রসারিত করার জন্য নতুন নতুন জমি নির্বাচন করার উদ্যোগ নিতে বলেন।

এ দিনের বাণিজ্য সম্মেলনে শিল্পের পরিকল্পনাগুলিকে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ‘পেন্ডিং কিয়া তো, এন্ডিং হো গিয়া’। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ডু ইট নাও নীতিকেই বাস্তবভাবে রাজ্যে চালু রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  তিনি এ দিন বার্তা দেন, কোনও কাজ ফেলে রাখবেন না। আজ মঙ্গলবার ফুলবাড়ির ভিডিওকন মাঠে সরকারি পরিষেবা প্রদানের অনুষ্ঠান রয়েছে। বুধবার উত্তরকন্যায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

আজ থেকেই বেকার ভাতা ‘যুবসাথী’, ধরনা মঞ্চ থেকে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

শিলিগুড়িতে বাণিজ্য সম্মেলনে কনভেনশন সেন্টার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, টি ব্র্যান্ডিং-এর প্রকল্প ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আপডেট : ১৯ মে ২০২৫, সোমবার

উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ নজর

পুবের কলম প্রতিবেদক : ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে বিশেষ প্রাধান্য দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  একদিকে শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের জীবনের মানোন্নয়ন। এসবের মাধ্যমেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের ভোটের জমিকে এভাবেই উর্বর করতে চান মমতা, ঘাস ফুল ফোটানোর জন্য। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন বিজেপি মন্ত্রী জন বার্লা তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে তৃণমূলের। গত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে কিছুটা  জমি হারিয়েছিল তৃণমূল। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গকেই পাখির চোখ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবারই তিনদিনের সফরে উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিনই শিলিগুড়ির বাণিজ্য সম্মেলনের দীনবন্ধু মঞ্চ থেকে একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের এই বাণিজ্য সম্মেলনেরও উদ্দেশ্য শিল্পে জোয়ার আনা। এই সম্মেলনে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার শিল্পপতি ও উদ্যোগপতিদের আহ্বান  করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সত্যম রায়চৌধুরি, হর্ষ নেওটিয়া, রুদ্র চ্যাটার্জির মতো বেশ কয়েকজন শহর কলকাতার বাসিন্দা  হলেও উত্তরবঙ্গে বিনিয়োগে উৎসাহী।  এ দিন দার্জিলিং টি ব্র্যান্ডিং -এর জন্য শিল্পপতি রুদ্র চ্যাটার্জির নেতৃত্বে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের উন্নয়নে কোনও প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি বিজেপি।  চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার।  চা-বাগানের শ্রমিকদের পাট্টা বিলি করা হয়েছে। এবার চা-এর ব্যান্ডিং এবং বিপণনের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল রাজ্য সরকার।

সোমবার উত্তরবঙ্গের শিল্প সম্মেলনে দার্জিলিং টি -এর ব্র্যান্ডিং -এর প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ জন্য লক্ষ্মী টি -এর কর্ণধার রুo চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেন মমতা। এ দিন মমতা পরোক্ষে একটি পড়োশি দেশের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ওরা ভেজাল মিশিয়ে দার্জিলিং ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে ব্যাবসা করছে। এটা দেখার জন্য টাস্ক ফোর্স তৈরি করে দিয়েছি। মলয় ঘটক বিষয়টা দেখবেন। বাংলার দার্জিলিং চা -এর গুণমান পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে। বিভিন্ন চা-বাগানের মালিকদের নিয়ে কমিটি গড়ার প্রস্তাবকে সবুজ সংকেত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই কমিটিকে নেতৃত্ব দেবে রুদ্র চ্যাটার্জি।

এ দিন জিঞ্জার টি, লেমন টি, টারমারিক টি, বিভিন্ন ধরনের হার্বাল টি তৈরির পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং চায়ের সঙ্গে মধু ও লেবু দিয়ে নতুন চা তৈরির ফর্মুলা বাতলে দিলেন। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, ভোটের আগে চা-বাগান খুলে দেওয়ার কথা বলবে আর ভোট শেষ হলে সে কথা ভুলে যাবে, এরকম চলবে না। উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের ওপর অনেকের জীবন নির্ভরশীল।এ দিন শিল্পপতি রুদ্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, পঞ্চাশ বছর আগে দার্জিলিং চায়ের ব্র্যান্ডিং জার্মানিতে করা হত। কিন্তু এখন বিভিন্ন প্রদেশ থেকে হয়। রুদ্র চ্যাটার্জি বলেন, মকাইবাড়ির মতো দার্জিলিং চায়ের ব্র্যান্ডিং  হওয়া উচিত।

এপ্রিল মাসেই দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন হয়েছে। এবার উত্তরবঙ্গের মানুষও যাতে সহজেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যেতে পারেন, সে জন্য আজ থেকেই উত্তরবঙ্গের ছ’টা জেলা থেকে দিঘাগামী ছ’টা ভলভো বাসের উদ্বোধন করা হচ্ছে। এই জেলাগুলি হল শিলিগুড়ি, মালদহ, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, রায়গঞ্জ — যেখান থেকে ভলভো বাসে দিঘা যাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী যে উত্তরবঙ্গকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেন, তারই প্রমাণ এই উদ্যোগ।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন ঘোষণা করেন, আগামী জুলাইতে জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ -এর উদ্বোধন হবে। এই সার্কিট বেঞ্চ তৈরির জন্য রাজ্যের কোষাগার থেকে ৫০১ কোটি টাকা।১২ জুলাই এই উদ্বোধনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।  তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাইকোর্ট।  প্রশাসনিক কাজের জন্য উত্তরবঙ্গে আগেই প্রশাসনিক ভবন উত্তরকন্যা তৈরি হয়েছে। এবার বিচার বিভাগীয় কাজের জন্য যাতে উত্তরবঙ্গের মানুষকে কথায় কথায় কলকাতায় না দৌড়তে হয়, সেজন্য এবার কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ চালু হচ্ছে উত্তরবঙ্গে।

সোমবার উত্তরবঙ্গের শিল্প সম্মেলনে একাধিক প্রকল্পের প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে রয়েছে  ইথানল কারখানা, মাখনা-ভুট্টা প্রক্রিয়াকরণ, টি ট্যুরিজম ইত্যাদি শিল্প। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, শিল্পের জন্য সরকারের নিজস্ব ল্যান্ড ব্যাঙ্ক রয়েছে। দক্ষ শ্রমিক রয়েছে। ক্ষুদ্র এবং বৃহৎ উভয় ধরনেরই  শিল্পবান্ধব পরিবেশ রয়েছে রাজ্যে। এ দিন মমতা নাম না করে বিজেপিকে বিঁধে বলেন, বিরোধীরা অভিযোগ করেন বাংলায় শিল্প হয় না। আসলে বাংলাকে যারা চেনেই না, তারাই বাংলাকে বদনাম করে। বাংলার এই বদনাম ঘোচাতে রাজ্যের শিল্পমহলকেই এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় রয়েছেন, তাঁরা এর প্রতিবাদ করুন।  এ দিন জিএসটি আদায় নিয়ে বিজেপিকে এবং বাম আমলের কর্মনাশা অবরোধ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিংকে সম্প্রসারিত করার জন্য নতুন নতুন জমি নির্বাচন করার উদ্যোগ নিতে বলেন।

এ দিনের বাণিজ্য সম্মেলনে শিল্পের পরিকল্পনাগুলিকে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ ‘পেন্ডিং কিয়া তো, এন্ডিং হো গিয়া’। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ডু ইট নাও নীতিকেই বাস্তবভাবে রাজ্যে চালু রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  তিনি এ দিন বার্তা দেন, কোনও কাজ ফেলে রাখবেন না। আজ মঙ্গলবার ফুলবাড়ির ভিডিওকন মাঠে সরকারি পরিষেবা প্রদানের অনুষ্ঠান রয়েছে। বুধবার উত্তরকন্যায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।