বাংলায় অনুপ্রবেশ বাড়ছে, মোদি-শাহর বক্তব্য খণ্ডন করল নীতি আয়োগের রিপোর্টই

- আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৫, সোমবার
- / 231
পুবের কলম প্রতিবেদক: বাংলা-বিহার মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক উঠলেও নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক ‘সামারি রিপোর্ট ফর দ্য স্টেট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ মোটের ওপর পশ্চিমবঙ্গের পক্ষেই ছিল। এই রিপোর্টে বহু ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রশংসা এবং সাফল্যের চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার মানুষের জীবনযাত্রার মান, বার্ষিক বেকারত্বের হারের ক্রমহাস, পানীয় জলের সহজলভ্যতা, বিদ্যুৎ শৌচাগারের সুবিধে ইত্যাদি সূচকের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ কিন্তু জাতীয় গড়ের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বলেই স্বীকার করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নীতি আয়োগের রিপোর্টে উল্লিখিত বাংলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের পরিসংখ্যান। রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাত্র ০.৫ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় ০.৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান খণ্ডন করে দেয় মোদি-শাহর পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ বাড়ার তত্ত্ব।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে দেখাতে চাইছে বিজেপি। অনুপ্রবেশকারী ইস্যুকে হাতিয়ার করে বাংলার সরকারকে আক্রমণ করছে মোদি-শাহ থেকে যোগী আদিত্যনাথ। বলা হচ্ছে ভোট বাক্স ভরাতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী রাজ্য সরকার আশ্রয়দান করছে। এমনকী রোহিঙ্গারাও বারুইপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে বলে প্রায়ই সরব হন শুভেন্দু অধিকারীসহ বঙ্গ বিজেপির নেতারা। অনুপ্রবেশকারীদের পাকাপাকিভাবে রাজ্যে ঠাঁই দিতে রাজ্যে জাল আধার কার্ড-ভোটার কার্ড বানানোর চক্র রয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হচ্ছে।
কিন্তু এইসব অভিযোগকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে নীতি আয়োগের রিপোর্ট। কারণ ২০২৩ সালের ‘সেন্সাস পপুলেশন প্রোজেকশন’ অনুযায়ী রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় হারের চেয়ে ০.৪ শতাংশ কম। কিন্তু বাংলা যদি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়স্থল হত, এখানকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি হত। সুতরাং শুধু তা-ই নয়, কারণ নীতি আয়োগ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলার জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১০৬ জন। যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটা বেশি। রাজ্যের ৩৬.৮ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে বসবাস করে। এই জনঘনত্ব বেশি হওয়া শাসকদলের ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলে। যা আটকাতে ভিন রাজ্যে থাকা বাংলার বাসিন্দাদের বাংলাদেশি বলে দেগে দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
এই প্রসঙ্গে, রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি বরাবরই অনুপ্রবেশের মিথ্যে রটনা করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। এবার নীতি আয়োগের রিপোর্ট তাদের মুখোশ খুলে দিল। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর কথায়, তত্ত্ব মনগড়া হতে পারে, কিন্তু তথ্য মিথ্যে কথা বলে না।
প্রশাসনিক মহলের খবর, নীতি অয়োগের রিপোর্টের ভিত্তিতে বাংলার বিরুদ্ধে কেন্দ্রের অনুপ্রবেশ প্রচারের বিরুদ্ধে লড়াইতে পর্যন্ত যেতে পারে তৃণমূল। বাংলার এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে হাতিয়ার হতে পারে এই রিপোর্ট।