পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : যে সে লোক নন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবেগৌড়ার নাতি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর ভাগ্নে। আবার প্রাক্তন সাংসদ। আইন যথাযথ ভাবে প্রয়োগ হলে যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নাতিও ছাড় পান না তা প্রমাণ হল শনিবার। ৪৭ বছরের এক মহিলাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করার অভিযোগে প্রায় এক বছর জেলবন্দি ছিল দেবেগৌড়ার নাতি প্রজ্জ্বল রেবানা।
শুক্রবার জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ আদালতের বিচারপতি সন্তোষ গজানন ভাট প্রজ্জ্বলকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। শনিবার সাজা ঘোষিত হল। যাবজ্জীবন তাকে জেলে থাকতে হবে। ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ৩৭৬(২)ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে প্রজ্জ্বলকে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সঙ্গে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে তাকে। ওই টাকার মধ্যে ৭ লক্ষ টাকা ধর্ষিতাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে।
প্রজ্জ্বলের বিরুদ্ধে আরও তিনটি ধর্ষণের অভিযোগ আছে। একটিতেই যাবজ্জীবন হল। অন্য তিনটি বিচার হয়ে দোষী সাব্যস্ত হলে কী হবে, সেটাই প্রশ্ন। এদিন বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি বি জগদীশ বলেন, এই ধর্ষণের ভিডিয়ো পর্যন্ত ভাইরাল করা হয়েছিল। যা দেখে ওই মহিলা আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন। প্রজ্জ্বলের শিকার হতেন যাঁরা তাঁদের নগ্ন ছবি এবং ভিডিয়ো ভাইরাল করা ওর স্বভাব। তাই ওর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য।
তাছাড়া প্রজ্জ্বল সাংসদ হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই সব কাণ্ড করেছে। প্রজ্জ্বলকে ওর বক্তব্য জানাতে বলেছিলেন বিচারপতি। প্রজ্জ্বল বলেন, সাংসদ হিসেবে তাঁর কাজের সবাই সুখ্যাতি করেছেন। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভালো ছাত্র ছিলেন। নির্বাচনের সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ ওঠে। তিনি দ্রুত রাজনীতির শিখরে উঠে গিয়েছিলেন। পতনও হয়েছে। তাই তিনি লঘু শাস্তি চান।
ধর্ষণের শিকার ওই মহিলা প্রজ্জ্বলের খামারবাড়িতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁকে দুবার খামারবাড়িতে এবং একবার বাড়িতে ধর্ষণ করে প্রজ্জ্বল। আরও কয়েকবার তাঁকে ধর্ষণ করতে গিয়েছিলেন প্রজ্জ্বল। কোনও ক্রমে পালিয়ে যান মহিলা। তবে ওই মহিলার গোপন বয়ানই আদালতের বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে। প্রজ্জ্বলের বিরুদ্ধে অসংখ্য মহিলাকে লাঞ্ছনার অভিযোগ রয়েছে।




























