০১ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিন আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত ক্ষুব্ধ শাহ-নাড্ডা, ৭ নভেম্বর বঙ্গ বিজেপির নেতাদের নিয়ে বৈঠক দিল্লিতে

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: দিনহাটা সহ চার বিধানসভা আসনে দলীয় প্রার্থীদের গো-হারার পরেই নড়েচড়ে বসলেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কেন বিধানসভা ভোটের ছয় মাসের মধ্যে কেন দলীয় প্রার্থীদের জামানত খোয়ানোর মতো লজ্জার মুখে পড়তে হলো, তার কারণ জানতে রাজ্য বিজেপির বাছাই করা নেতাদের দিল্লিতে তলবও করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ। সূত্রের খবর, আগামী রবিবার বঙ্গ বিজেপির নেতাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্য নেতাদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করতে ভোকাল টনিক দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। যদিও বৈঠকের সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্রের খবর, রাজ্যে বিধানসভা ভোটে মুখ থুবড়ে পড়ার পরেই সংগঠন যেভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে তাতে খুশি নন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। দিলীপ ঘোষের জমানায় যেভাবে রাজ্য বিজেপিতে গোষ্ঠী কাজিয়া তুঙ্গে উঠেছিল তা বন্ধ করতে রাজ্য সভাপতি পদেও বদল ঘটিয়েছিল; এন জেপি নাড্ডা-অমিত শাহরা। কিন্তু নতুন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার যেভাবে চলছেন তাতে খুশি নন তাঁরা। প্রথমত এখনও নতুন কমিটি গঠনের জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তালিকা পাঠাতে পারেননি তিনি। ফলে নতুন কমিটি গঠন হয়নি। সংগঠনে এখনও ছড়ি ঘুরিয়ে চলেছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির পেটোয়া হিসেবে পরিচিত লোকজন। শুধু তাই নয়, জেলাস্তরেও একই অবস্থা। আর দলের শীর্ষ নেতাদের এমন ভূমিকায় হতাশ হয়ে কার্যত নিচুতলার নেতা-কর্মীরা দল ছাড়তে শুরু করেছেন।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও ভাঙন শুরু হয়েছে। সংগঠনের ভাঙন রোধে মনোযোগী না হয়ে যেভাবে ‘কাজ কম কথা বেশি’ স্লোগানকে আঁকড়ে ধরেছেন নয়া রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, তাও না পসন্দ অমিত শাহ-জেপি নাড্ডাদের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তাঁকে বাড়তি কথা না বলার জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
সামনেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ভোট। আর তার পরে রাজ্যের বাকি আরও ১১৪টি পুরসভায় ভোট রয়েছে। বিধানসভার ভোটে এবং উপনির্বাচনে হিন্দুত্বের তাস খেলে বাজিমাত করার চেষ্টা জলে যাওয়ায় কিভাবে পুর ভোটে মুখ রক্ষা করা যায় তা নিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছেন অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডারা। কলকাতা ও হাওড়া পুর ভোটে অন্তত বিরোধী দলের মর্যাদা আদায় করে শাসকদলের উপরে চাপ তৈরি করাকে পাখির চোখ করতে চাইছেন তাঁরা। প্রয়োজনে সংগঠনের অন্দরে রদবদল ঘটিয়ে যোগ্য নেতাদের নেতৃত্বে তুলে আনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও শাহ-নাড্ডাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে রাজ্য বিজেপির কোনও নেতাই মুখ খুলতে চাননি।

পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নেবেন নিউ ইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

তিন আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত ক্ষুব্ধ শাহ-নাড্ডা, ৭ নভেম্বর বঙ্গ বিজেপির নেতাদের নিয়ে বৈঠক দিল্লিতে

আপডেট : ৫ নভেম্বর ২০২১, শুক্রবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: দিনহাটা সহ চার বিধানসভা আসনে দলীয় প্রার্থীদের গো-হারার পরেই নড়েচড়ে বসলেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কেন বিধানসভা ভোটের ছয় মাসের মধ্যে কেন দলীয় প্রার্থীদের জামানত খোয়ানোর মতো লজ্জার মুখে পড়তে হলো, তার কারণ জানতে রাজ্য বিজেপির বাছাই করা নেতাদের দিল্লিতে তলবও করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ। সূত্রের খবর, আগামী রবিবার বঙ্গ বিজেপির নেতাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্য নেতাদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করতে ভোকাল টনিক দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। যদিও বৈঠকের সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্রের খবর, রাজ্যে বিধানসভা ভোটে মুখ থুবড়ে পড়ার পরেই সংগঠন যেভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে তাতে খুশি নন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। দিলীপ ঘোষের জমানায় যেভাবে রাজ্য বিজেপিতে গোষ্ঠী কাজিয়া তুঙ্গে উঠেছিল তা বন্ধ করতে রাজ্য সভাপতি পদেও বদল ঘটিয়েছিল; এন জেপি নাড্ডা-অমিত শাহরা। কিন্তু নতুন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার যেভাবে চলছেন তাতে খুশি নন তাঁরা। প্রথমত এখনও নতুন কমিটি গঠনের জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তালিকা পাঠাতে পারেননি তিনি। ফলে নতুন কমিটি গঠন হয়নি। সংগঠনে এখনও ছড়ি ঘুরিয়ে চলেছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির পেটোয়া হিসেবে পরিচিত লোকজন। শুধু তাই নয়, জেলাস্তরেও একই অবস্থা। আর দলের শীর্ষ নেতাদের এমন ভূমিকায় হতাশ হয়ে কার্যত নিচুতলার নেতা-কর্মীরা দল ছাড়তে শুরু করেছেন।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও ভাঙন শুরু হয়েছে। সংগঠনের ভাঙন রোধে মনোযোগী না হয়ে যেভাবে ‘কাজ কম কথা বেশি’ স্লোগানকে আঁকড়ে ধরেছেন নয়া রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, তাও না পসন্দ অমিত শাহ-জেপি নাড্ডাদের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তাঁকে বাড়তি কথা না বলার জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
সামনেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ভোট। আর তার পরে রাজ্যের বাকি আরও ১১৪টি পুরসভায় ভোট রয়েছে। বিধানসভার ভোটে এবং উপনির্বাচনে হিন্দুত্বের তাস খেলে বাজিমাত করার চেষ্টা জলে যাওয়ায় কিভাবে পুর ভোটে মুখ রক্ষা করা যায় তা নিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছেন অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডারা। কলকাতা ও হাওড়া পুর ভোটে অন্তত বিরোধী দলের মর্যাদা আদায় করে শাসকদলের উপরে চাপ তৈরি করাকে পাখির চোখ করতে চাইছেন তাঁরা। প্রয়োজনে সংগঠনের অন্দরে রদবদল ঘটিয়ে যোগ্য নেতাদের নেতৃত্বে তুলে আনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও শাহ-নাড্ডাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে রাজ্য বিজেপির কোনও নেতাই মুখ খুলতে চাননি।