০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
গুজরাতি হয়েও হিন্দিকে আপন করে নিয়েছি, আপনারাও করুন: অমিত শাহ

প্রতিদ্বন্দ্বী না, ঐক্যের ভাষা হিন্দি: অমিত শাহ

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: ‘হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্থান’ ! অভিযোগ,  সঙ্ঘ মস্তিষ্ক প্রণোদিত এহেন তও্ব দেশজুড়ে চাপিয়ে  দেওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র সরকার। ‘হিন্দি’কে রাষ্ট্রীয় ভাষা করার জন্য রীতিমতো মরিয়া তারা। বিশেষ করে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির উপর জোর করে হিন্দি ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক সময়ে বার বার অভিযোগ উঠেছে। যেই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বহু সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্র সরকারকে।

এই আবহে শনিবার সঙ্ঘ পরিচালিত ‘হিন্দি দিবস’ অনুষ্ঠানে কিছুটা সুর নরম করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বলেন, হিন্দিকে ভারতের  অন্যান্য ভাষার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, সঙ্গী হিসেবে দেখতে হবে।  হিন্দি অন্যান্য ভাষার সহযোগী। হিন্দি ভারতীয় অনান্য ভাষাগুলির বন্ধু।

আরও পড়ুন: ‘এখন শুধু নাম বাদ যাচ্ছে, ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্যছাড়া করব’, হুঙ্কার অমিত শাহের

এদের মধ্যে কোনও বিরোধীতা নেই।’ ভারত ভাষাকেন্দ্রিক দেশ। বিভিন্ন ভাষার ঐক্যতায় ‘শক্তিশালী’ ভারতের ভিত।  ব্রিটিশ শাসনামলে ভাষাই ছিল প্রতিরোধের কণ্ঠ। বন্দে মাতরম এবং জয় হিন্দ-এর মতো স্লোগানগুলি এই ভাষাগত চেতনা থেকেই উঠে আসে। কালক্রমে জাতীয় গর্বের স্থায়ী প্রতীক হয়ে যায়। কথা প্রসঙ্গে,  অসমের বিহু, পশ্চিমবঙ্গের বাউল, পঞ্জাবের লহরির মতো বিভিন্ন আঞ্চলিক লোকসঙ্গীতের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: “পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে তাড়ানো হবে”: আরারিয়ার সভা থেকে হুঙ্কার অমিত শাহের

তাঁর গুজরাতি সত্তা নিয়ে অমিত শাহ এদিন আরও বলেন, গুজরাতি হয়েও হিন্দি-ভাষাকে আলিঙ্গন করে নিয়েছেন তিনি। তাতে কি নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছেন? তাতো নয়। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের ভাষা হল গুজরাটি। কিন্তু শুরু থেকেই দয়ানন্দ সরস্বতী, মহাত্মা গান্ধি,  সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং কেএম মুন্সির মতো নেতারা হিন্দিকে গ্রহণ করেছেন, এর প্রচার করেছেন। গুজরাত হিন্দি এবং গুজরাটি দুই ভাষারই বিকাশের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ‘সঠিক পথেই হচ্ছে SIR, কমিশনের পাশেই আমরা’ — ব্যারাকপুরে অমিত শাহ

উল্লেখ্য, হিন্দি দিবস উপলক্ষে গুজরাতের গান্ধিনগরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আখিল ভারতীয় রাজভাষা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, রাজভাষা বিভাগের সচিব অংশুলি আর্য সহ  কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের সাত হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা।

 

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

খামেনি হত্যার প্রতিবাদের ভিডিয়ো শেয়ার: শ্রীনগরের সাংসদ রুহুল্লাহ মেহদির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

গুজরাতি হয়েও হিন্দিকে আপন করে নিয়েছি, আপনারাও করুন: অমিত শাহ

প্রতিদ্বন্দ্বী না, ঐক্যের ভাষা হিন্দি: অমিত শাহ

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রবিবার

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: ‘হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্থান’ ! অভিযোগ,  সঙ্ঘ মস্তিষ্ক প্রণোদিত এহেন তও্ব দেশজুড়ে চাপিয়ে  দেওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র সরকার। ‘হিন্দি’কে রাষ্ট্রীয় ভাষা করার জন্য রীতিমতো মরিয়া তারা। বিশেষ করে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির উপর জোর করে হিন্দি ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক সময়ে বার বার অভিযোগ উঠেছে। যেই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বহু সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্র সরকারকে।

এই আবহে শনিবার সঙ্ঘ পরিচালিত ‘হিন্দি দিবস’ অনুষ্ঠানে কিছুটা সুর নরম করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বলেন, হিন্দিকে ভারতের  অন্যান্য ভাষার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, সঙ্গী হিসেবে দেখতে হবে।  হিন্দি অন্যান্য ভাষার সহযোগী। হিন্দি ভারতীয় অনান্য ভাষাগুলির বন্ধু।

আরও পড়ুন: ‘এখন শুধু নাম বাদ যাচ্ছে, ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্যছাড়া করব’, হুঙ্কার অমিত শাহের

এদের মধ্যে কোনও বিরোধীতা নেই।’ ভারত ভাষাকেন্দ্রিক দেশ। বিভিন্ন ভাষার ঐক্যতায় ‘শক্তিশালী’ ভারতের ভিত।  ব্রিটিশ শাসনামলে ভাষাই ছিল প্রতিরোধের কণ্ঠ। বন্দে মাতরম এবং জয় হিন্দ-এর মতো স্লোগানগুলি এই ভাষাগত চেতনা থেকেই উঠে আসে। কালক্রমে জাতীয় গর্বের স্থায়ী প্রতীক হয়ে যায়। কথা প্রসঙ্গে,  অসমের বিহু, পশ্চিমবঙ্গের বাউল, পঞ্জাবের লহরির মতো বিভিন্ন আঞ্চলিক লোকসঙ্গীতের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: “পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে তাড়ানো হবে”: আরারিয়ার সভা থেকে হুঙ্কার অমিত শাহের

তাঁর গুজরাতি সত্তা নিয়ে অমিত শাহ এদিন আরও বলেন, গুজরাতি হয়েও হিন্দি-ভাষাকে আলিঙ্গন করে নিয়েছেন তিনি। তাতে কি নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছেন? তাতো নয়। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের ভাষা হল গুজরাটি। কিন্তু শুরু থেকেই দয়ানন্দ সরস্বতী, মহাত্মা গান্ধি,  সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং কেএম মুন্সির মতো নেতারা হিন্দিকে গ্রহণ করেছেন, এর প্রচার করেছেন। গুজরাত হিন্দি এবং গুজরাটি দুই ভাষারই বিকাশের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ‘সঠিক পথেই হচ্ছে SIR, কমিশনের পাশেই আমরা’ — ব্যারাকপুরে অমিত শাহ

উল্লেখ্য, হিন্দি দিবস উপলক্ষে গুজরাতের গান্ধিনগরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আখিল ভারতীয় রাজভাষা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, রাজভাষা বিভাগের সচিব অংশুলি আর্য সহ  কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের সাত হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা।