পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: হিন্দু ধর্মে সমতা থাকলে অস্পৃশ্যতা এল কিভাবে? ধর্মান্তকরণ ইস্যুতে বিস্ফোরক Siddaramaiah। কৌশলে দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে! ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড ও ধর্মান্তরকরণের অভিযোগে যে হিংসা ছড়ানো হচ্ছে তা অগ্রহণযোগ্য । ধর্মান্তকরণের উত্তপ্ত রাজনীতিতে এবার সরব হলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী Siddaramaiah। তাঁর দাবি, কে কোন ধর্ম পালন করবেন, সেই স্বাধীনতা ‘সংবিধান’ আমাদের দিয়েছে। আমরা চাইলেই কাউকে ধর্মান্তর হতে রুখতে পারি না। তবে জোরপূর্বক হলে বিষয়টি ভিন্ন। যদি হিন্দু ধর্ম সকলকে সমান অধিকার দেয় তাহলে কেন কেউ স্বধর্ম ত্যাগ করতে তৎপর হবে? মোদির ডিজিটাল যুগেও কেন ‘অস্পৃশ্যতা’ , ছোট-জাত, নিচু জাতের মত বিষয়গুলো এখনও পরিলক্ষিত?
Bihar SIR-এ কোনও অসঙ্গতি পেলেই, পুরো প্রক্রিয়া বাতিল হবে: Supreme Court
সম্প্রতি ধর্মান্তরণ ইস্যুতে ধর্ম বদলকে মানুষের অধিকার বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে যদি সকলকে সমান চোখে দেখা হত, সকলের জন্য সমান সুযোগ থাকত, তাহলে ধর্ম বদলের কোনও প্রয়োজন পড়ত কী? (Why would anyone convert if Hinduism had equality) আমরাই কী হিন্দু সমাজের মধ্যে এত ছুঁতমার্গ তৈরি করিনি? হতে পারে ইসলাম বা খ্রিষ্ট ধর্মে সকলকে সমান চোখে দেখা হয় না, তবে আমরা বা বিজেপি কেউই কোনও মানুষকে ধর্মান্তর হতে নিষেধ করতে পারি না।
সিদ্দারামাইয়ার এহেন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর নিন্দায় সরব হয়েছে বিজেপি। কর্নাটক বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা অশোক বলেন (BJP Leader of Opposition in Legislative Assembly R Ashoka), ‘উনি হিন্দু ধর্মের সমালোচনা করলেন। যদি ইসলাম ধর্মে অস্পৃশ্যতা না থাকে তাহলে মহিলাদের মসজিদে প্রবেশের অনুমতি নেই কেন? তিন তালাকে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর কেন এর বিরোধীতা করা হল? যদি ওই ধর্মে সাম্য থাকে তাহলে পবিত্র কুরআনে হিন্দু-সহ অমুসলিমদের কেন কাফের বলে গণ্য করা হয়? এটুকু বলেই ক্ষান্ত হননি অশোক। তাঁর প্রশ্ন, ‘ইসলাম যদি শান্তিপ্রিয় ধর্ম হয়, সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে তাহলে পহেলগাঁওয়ে কেন পর্যটকদের নাম জিজ্ঞাসা করে হত্যা করা হয়েছিল? কেন কলমা পড়তে বলা হয়েছিল? কেন শুধু হিন্দুদের হত্যা করা হয়? এই প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করার ক্ষমতা আপনার নেই।’
উল্লেখ্য, এই বিতর্কের সূত্রপাত জাতিগণ জনগণনাকে কেন্দ্র করে। সেখানে এক নয়া বিভাগ রাখা হয়েছে। যারা ধর্ম বদল করে অন্য ধর্মে গিয়েছেন এটি মূলত তাঁদের জন্য। সরকার এই বিষয়টিকে মান্যতা দিলেও বিরোধিতার সরব হয়েছে বিজেপি।
বিজেপি নেতার এহেন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, মানুষ-মানুষই। আল্লাহ সকল আদম সন্তানকে আশরাফুল মাখলুকাত (অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সবাই সবার কর্ম দ্বারা বিবেচিত হবে। দ্বিতীয়ত, একজন খুনির কোনও ‘ধর্ম’ হতে পারে না? পহেলগাঁও-এর ঘটনার সঙ্গে ইসলামের যোগ নিতান্তই নিন্দনীয়। আর তৃতীয়ত ইসলামে মেয়েদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মর্যাদায় পুর্ণাঙ্গ একটি সূরাও নাজিল হয়েছে। এমনকি মসজিদে মেয়েদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসলাম প্রেরিত কোনও নিয়ম নয়। এছাড়া কাফের, জিহাদ সহ পবিত্র কুরআনের প্রতিটি প্রতিটি সূরার অপব্যাখ্যা মূর্খ বিজেপি নেতাদের পার্সনাল প্রপাটির ন্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

























