দীপাবলির রাতে যেন আইন ভুলে উল্লাসে মেতেছিল নিউটাউন। ঘড়ির কাঁটা রাত ১০টা ছুঁলেও—যখন বাজি পোড়ানোর অনুমতি শেষ, তবু বিশ্ব বাংলা সরণি থেকে শুরু করে একাধিক ব্লকে চলল বাজির তাণ্ডব। রাস্তায় লাইন দিয়ে দাঁড়ানো গাড়ি, তার মাঝেই দেদার আতশবাজি, শব্দের দাপটে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা।
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ-এর তথ্য বলছে, রাত ১১টার মধ্যে নিউটাউনের বায়ুতে দূষণ সূচক পৌঁছে যায় ২২১-এ, যা স্বাভাবিক সীমার বহু উপরে। শব্দদূষণের দিক থেকেও শীর্ষে নিউটাউন—রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে রেকর্ড করা হয় ৭২ ডেসিবেল, যা কলকাতার বেশ কিছু এলাকার সমান বা বেশি।
এদিকে, কালীপুজো ও দীপাবলি মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে পুলিশি অভিযানও চলেছে তুমুলভাবে। বিধাননগর কমিশনারেট উদ্ধার করেছে ৩৬ কেজি অবৈধ বাজি, গ্রেফতার হয়েছে ১৪ জন। কলকাতা পুলিশও এক রাতে আটক করেছে ৬৪০ জনকে, বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৮৫২ কেজি শব্দবাজি।
পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র জানিয়েছেন, “যে বাজিগুলো শহরের বাতাসকে বিষিয়ে দিয়েছে, সেগুলো সস্তা নয়। মূলত উচ্চবিত্ত ও অবস্থাপন্ন মহলই নিয়ম ভেঙেছে।”
পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা বলেন, “শব্দসীমা বেশিরভাগ জায়গায় নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে কিছু এলাকায় মাত্রা ছাড়িয়েছে।”
তবে দীপাবলির আনন্দের সেই এক রাতের প্রভাব থেকেই গেল, পরদিন সকালেও নিউটাউনের দূষণ সূচক ছিল ২৩৫, যা শহরবাসীর জন্য যথেষ্ট চিন্তার।






















