কিবরিয়া আনসারী: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ঘোষণার সময় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত ফর্ম পূরণ করে বিএলও-কে জমা করতে হবে। ৪ ডিসেম্বরের পর কোনও ফর্ম নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিল কমিশন। হঠাৎ সেই সময় পরিবর্তন করেছে কমিশন। জানা গিয়েছে, ‘৪ ডিসেম্বর নয়, ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে হবে ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া।’ রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে এমনই নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে। অর্থাৎ, ডিজিটাইজেশনের সময়সীমা ৪ ডিসেম্বর হলেও, তার আগেই শেষ করতে বলা হয়েছে। আগে কাজ শেষ না হলে অন্যান্য কাজ শেষ করতে সমস্যা হবে বলে মনে করছে কমিশন। কমিশনের তরফে স্পষ্ট এও বলে দেওয়া হয়েছে যে, বিএলওদের বাড়তি চাপ রয়েছে। তা সত্ত্বেও কাজ শেষ করতে হবে।
কমিশনের এমন নির্দেশে প্রবল চাপে পড়েছেন বিএলও-রা। তাদের বক্তব্য, একটি বুথে প্রায় চোদ্দশো ভোটার। একজন বিএলও-র পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। তারপরও অনেক বিএলও রাতদিন এক করে কাজ করে যাচ্ছে। এরমধ্যে কমিশন কিভাবে সময় কমাতে পারে। এরফলে বিএলওদের চাপ আরও বেড়ে গেছে। এক বিএলও-র অভিযোগ, কমিশনের অ্যাপে তথ্য আপলোডই হচ্ছে না। তথ্য আপলোড করতে গিয়ে বারংবার ব্যর্থ হচ্ছি। সার্ভার ঠিকঠাক কাজ না করায় প্রক্রিয়া ফেল্ড (Failed) করছে। এভাবে কি কাজ করা সম্ভব! প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএলও বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত ফর্ম সংগ্রহ করে রাতে আপলোডের কাজ করতে শুরু করছি। একার পক্ষে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভবই নয়। তারমধ্যে সময় আরও কমিয়ে দেওয়া হল। এই পরিস্থিতিতে কি করে কাজ করব। এই কাজের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মানসিক শান্তি নেই। প্রত্যেকদিন প্রবল চাপের মধ্যদিয়ে যেতে হচ্ছে। বিএলও-র কথায়, “গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছি। একা পেরে উঠছি না বলে স্ত্রী ও কন্যাও কাজে সহায়তা করছে।”
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে এসআইআর নিয়ে কাজের চাপে রাজ্যে বেশ কয়েকজন বিএলও আত্মহত্যা করেছে। শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় এক বিএলও গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন। এদিন সকালে বাড়ি থেকে রিঙ্কু তরফদারের দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। যাতে স্পষ্ট নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন ওই মহিলা। কাজের অত্যধিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে এমন চরম সিদ্ধান্ত বলে ওই সুইসাইড নোটে লিখে রেখেছেন তিনি। নোটে বিএলও লিখেছেন, “বিএলও-র কাজ তুলতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ আসবে। তা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।” তাঁর মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকেও দায়ী করেছেন আত্মঘাতী বিএলও।
































