পুবের কলম, নয়াদিল্লি: দিল্লির বায়ু দূষণ নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ। বুধবার সকালে দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭৫, যা ‘খুব খারাপ’ শ্রেণির। এবার দিল্লির দূষণ নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করলেন বিরোধী সাংসদরা। বুধবার মুখে গ্যাস মাস্ক পরে সংসদে প্রবেশ করেন সাংসদরা। এদিন শীতকালীন অধিবেশনে রাজধানীর বায়ু দূষণ নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মুখে মাস্ক পরে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা সাংসদ দীপেন্দর সিং হুডা বলেছেন, কেন্দ্রকে অবশ্যই অন্য রাজ্য এবং বিরোধীদের দোষারোপ করা বন্ধ করতে হবে। দিল্লির দূষণ নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দূষণ সংকট মোকাবেলায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ। তিনি বলেন, হরিয়ানা, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে একটি দল গঠন করা উচিত। বাজেট বরাদ্দ সহ একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করে দিল্লি এনসিআর অঞ্চলে বায়ু দূষণ দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করা যাবে। এই দূষণের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কেন্দ্রকে নিশানা করে হুডার বক্তব্য, “দূষণ মারাত্মক হয়ে উঠেছে এবং এই মাস্ক ছাড়া শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ব্যবসায়িক নোটিশ স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছি।”
দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আলোচনা চলছে। আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। সরকার নানা পদক্ষেপ করছে। কিন্তু, দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ কমছে না। কয়েকদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছিলেন, দিল্লির বায়ুদূষণের ফলে হাঁটতে বেরিয়ে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রক সংসদে জানিয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শুধু দিল্লিতেই প্রায় ২ লক্ষ মানুষের ফুসফুসে সমস্যা দেখা গিয়েছে। তার অন্যতম কারণ বায়ু দূষণ। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদনও জানিয়েছিলেন তাঁরা। আজ সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
দিল্লির বাতাসে শ্বাস নেওয়া যে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, এক প্রতিবেদনে সেটাই তুলে ধরেছে একিউআই। তাদের তথ্য অনুসারে, দিল্লিতে দূষিত বায়ুকণা পিএম ২.৫-র মাত্রা বেশ কয়েক দিন ধরে ৩০০ ug/m³-র কাছাকাছি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মডেল অনুসারে, ২২ ug/m³ পিএম ২.৫-কে একটি সিগারেটের সমতুল্য বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে ধূমপান না করেও দিল্লির বাসিন্দাদের প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৪টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতি হচ্ছে।




























