পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বদলাপুর যৌন নির্যাতন মামলার সহ-অভিযুক্ত ও সেই সময়ের স্কুলের সচিব তুষার আপ্তে-কে মহারাষ্ট্রের কুলগাঁও-বদলাপুর পৌরপরিষদে কাউন্সিলর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন রুচিতা ঘোরপাড়ে এ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার পৌরপরিষদের পাঁচজন সহ-নিযুক্ত কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষে আপ্তেকে অভিনন্দন জানানো হয়। এদের মধ্যে দু’জনকে মনোনীত করেছে বিজেপি, দু’জনকে শিবসেনা এবং একজনকে মনোনীত করেছে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)। আপ্তে ছাড়া বিজেপির মনোনীত আরেক কাউন্সিলর শাগোফ গোরে, এনসিপির প্রভাকর পাটিল এবং শিবসেনার দিলীপ বাইকর ও হেমন্ত চাতুরে—দেরও নিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে আপ্তেকে পৌরপরিষদের সহ-নিযুক্ত কাউন্সিলর নিয়োগ করাকে কেন্দ্র তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিতর্কের জবাব দিয়ে বিজেপির কাউন্সিলর রাজন ঘোরপাড়ে বলেন, আপ্তে একজন সমাজকর্মী এবং একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন, “যদিও আপ্তের নাম অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছে, তাঁর দোষ প্রমাণিত হয়নি। মূল অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই শাস্তি পেয়েছে। দলীয় প্রার্থীর জয়ে আপ্তে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, স্কুলের ভেতরে নাবালিকা শিক্ষার্থীদের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনার সময় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সচিব ছিলেন আপ্তে। অভিযোগ, অপরাধের তথ্য লুকোনোর কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। শিশু যৌন নির্যাতন সম্পর্কিত অভিযোগ দায়ের না করায় পকসো আইনের ২১(২) ধারায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও মামলা হয়। ঘটনার ৪৪ দিন পর আপ্তেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জামিন পান। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। উল্লেখ্য, স্কুল চত্বরে নাবালিকা দুই শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠে আসার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়।
মামলার মূল অভিযুক্ত অক্ষয় শিন্ডে (২৪)–কে ২০২৪ সালের আগস্টে বদলাপুরের ওই স্কুলের টয়লেটে দুই নাবালিকা শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর, নবি মুম্বইয়ের তালোজা জেল থেকে জেরা করতে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে শিন্ডে নিহত হয়। পুলিশের দাবি, ভ্যানে থাকা এক কনস্টেবলের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে শিন্ডে গুলি চালালে আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়।






























