০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজা যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, ইসরায়েলি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর সংকট

 

গাজা যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ইসরায়েলি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর সংকট তৈরি করেছে। টানা দুই বছর ধরে চলা সামরিক অভিযানের ফলে সেনাদের মধ্যে পোস্ট–ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি), বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফ্রান্স২৪–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধই এই মানসিক বিপর্যয়ের মূল উৎস।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে সেনাদের মধ্যে পিটিএসডির হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে যুদ্ধাহত হিসেবে চিকিৎসাধীন ২২ হাজারের বেশি সেনা ও কর্মীর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই মানসিক ট্রমায় ভুগছেন। সংসদীয় এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২৮০ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, যা আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুভয়ের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ‘নৈতিক আঘাত’—অর্থাৎ নিজের সিদ্ধান্তে নিরীহ মানুষের ক্ষতির অপরাধবোধ—সেনাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। যদিও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বাজেট ও বিকল্প থেরাপি বাড়ানো হয়েছে, তবু জটিল প্রক্রিয়া ও সামাজিক সংকোচ অনেক সেনাকে সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত করছে। চলমান সংঘাত ও নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা এই সংকট আরও গভীর করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

সৌদি আরবে সিআইএর স্টেশনে ড্রোন হামলা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

গাজা যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, ইসরায়েলি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর সংকট

আপডেট : ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার

 

গাজা যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ইসরায়েলি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর সংকট তৈরি করেছে। টানা দুই বছর ধরে চলা সামরিক অভিযানের ফলে সেনাদের মধ্যে পোস্ট–ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি), বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফ্রান্স২৪–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধই এই মানসিক বিপর্যয়ের মূল উৎস।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে সেনাদের মধ্যে পিটিএসডির হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে যুদ্ধাহত হিসেবে চিকিৎসাধীন ২২ হাজারের বেশি সেনা ও কর্মীর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই মানসিক ট্রমায় ভুগছেন। সংসদীয় এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২৮০ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, যা আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুভয়ের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ‘নৈতিক আঘাত’—অর্থাৎ নিজের সিদ্ধান্তে নিরীহ মানুষের ক্ষতির অপরাধবোধ—সেনাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। যদিও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বাজেট ও বিকল্প থেরাপি বাড়ানো হয়েছে, তবু জটিল প্রক্রিয়া ও সামাজিক সংকোচ অনেক সেনাকে সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত করছে। চলমান সংঘাত ও নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা এই সংকট আরও গভীর করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা।