০৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে প্রাণহানি ও অস্থিরতার জন্য দায়ী ‘অপরাধী’ ট্রাম্প, মন্তব্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর

 

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ব্যাপক প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি এবং ইরানি জাতির অবমাননার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
শনিবার দেওয়া এক ভাষণে খামেনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল। তাঁর দাবি, এই বিদ্রোহে উসকানি দিতে ট্রাম্প নিজেই প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়েছেন।

খামেনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে দুর্বল করে সেখানে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। ইরান ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর এই কড়া বক্তব্যের বিষয়টি উঠে এসেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প দাঙ্গাবাজদের উৎসাহিত করতে ধারাবাহিক বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সামরিক সহায়তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কয়েকজন ‘ভ্যান্ডাল’ বা দুষ্কৃতকারীকে পুরো ইরানি জাতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপমানজনক।

খামেনির মতে, যেভাবে ইরানি জনগণ এই দাঙ্গার মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে, ঠিক সেভাবেই এর পেছনে থাকা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদেরও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই অস্থিরতার সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধীকেই ইরানি জাতি ক্ষমা করবে না।
তবে সর্বোচ্চ নেতার এই বক্তব্যের মধ্যেই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত কিছু নতুন তথ্য। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও দমন অভিযানে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর কুদস ফোর্স এবং তাদের সহযোগী প্রক্সি বাহিনীগুলো কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে।
গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি মাত্র দুই রাতের বিক্ষোভেই সরকারি সূত্র ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই বিপুল প্রাণহানিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উত্তপ্ত।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন স্থানীয় সময় রাত ৮টায় জাতীয় স্লোগানের মাধ্যমে জনগণকে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নতুন করে বিক্ষোভ ঠেকাতে ইরান সরকার বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
একদিকে সর্বোচ্চ নেতা ট্রাম্পকে দায়ী করে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে ইরানে বর্তমানে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, নিখুঁতভাবে টার্গেটে হামলা করছে ইরান: প্রাক্তন মার্কিন সেনা কর্নেল

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ইরানে প্রাণহানি ও অস্থিরতার জন্য দায়ী ‘অপরাধী’ ট্রাম্প, মন্তব্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর

আপডেট : ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, রবিবার

 

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ব্যাপক প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি এবং ইরানি জাতির অবমাননার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
শনিবার দেওয়া এক ভাষণে খামেনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল। তাঁর দাবি, এই বিদ্রোহে উসকানি দিতে ট্রাম্প নিজেই প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়েছেন।

খামেনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে দুর্বল করে সেখানে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। ইরান ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর এই কড়া বক্তব্যের বিষয়টি উঠে এসেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প দাঙ্গাবাজদের উৎসাহিত করতে ধারাবাহিক বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সামরিক সহায়তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কয়েকজন ‘ভ্যান্ডাল’ বা দুষ্কৃতকারীকে পুরো ইরানি জাতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপমানজনক।

খামেনির মতে, যেভাবে ইরানি জনগণ এই দাঙ্গার মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে, ঠিক সেভাবেই এর পেছনে থাকা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদেরও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই অস্থিরতার সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধীকেই ইরানি জাতি ক্ষমা করবে না।
তবে সর্বোচ্চ নেতার এই বক্তব্যের মধ্যেই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত কিছু নতুন তথ্য। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও দমন অভিযানে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর কুদস ফোর্স এবং তাদের সহযোগী প্রক্সি বাহিনীগুলো কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে।
গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি মাত্র দুই রাতের বিক্ষোভেই সরকারি সূত্র ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই বিপুল প্রাণহানিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উত্তপ্ত।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন স্থানীয় সময় রাত ৮টায় জাতীয় স্লোগানের মাধ্যমে জনগণকে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নতুন করে বিক্ষোভ ঠেকাতে ইরান সরকার বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
একদিকে সর্বোচ্চ নেতা ট্রাম্পকে দায়ী করে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে ইরানে বর্তমানে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।