পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ‘হত্যা’র প্রতিবাদে ফুঁসছে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ। আমেরিকা ও ইজরায়েলি যৌথ বাহিনীর অতর্কিত হামলায় খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার লখনউয়ের পুরনো অংশে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। কয়েক লক্ষ মানুষের এই জমায়েত কার্যত এক শোকসভায় পরিণত হয় ছোট ইমামবাড়া বা ইমামবাড়া হুসেনাবাদ মুবারক চত্বরে।
এদিনের মিছিলে কেবল শিয়া ধর্মাবলম্বীরাই নন, পা মিলিয়েছেন বিপুল সংখ্যক সুন্নি মুসলিমও। প্রতিবাদীদের নিশানায় ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছোট ইমামবাড়ার সভা থেকে দাবি তোলা হয়, নরেন্দ্র মোদী সরকারকে ব্যক্তিগত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ইজরায়েল ও আমেরিকার এই ‘নৃশংস’ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া বিবৃতি দিতে হবে। বিশিষ্ট শিয়া ধর্মগুরু মৌলানা কালবে জাওয়াদ এদিনের সভা থেকে খামেনেইর মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “আমেরিকা ও ইজরায়েল ষড়যন্ত্র করে খামেনিকে হত্যা করেছে। এই দুই রাষ্ট্রকে খুব শীঘ্রই বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা উচিত।”
অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড-এর সদস্য তথা বিশিষ্ট সুন্নি ধর্মগুরু খালিদ রশিদ ফিরঙ্গিমহলি এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “যে হামলায় শিশুসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের প্রাণ যায়, কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ তা মেনে নিতে পারে না।” লখনউয়ের এই বিশাল জমায়েত ও শিয়া-সুন্নি সম্প্রদায়ের যৌথ প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
























