০৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রান্নাঘরে যুদ্ধ: ইরানের উপর মার্কিন-ইসরাইল আক্রমণ ভারতে রান্নার জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ শীঘ্রই ভারতীয় রান্নাঘরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল কার্যকরভাবে বন্ধ থাকলে ভারতের পরিবারগুলিতে রান্নার গ্যাস সরবরাহের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। সংকীর্ণ জলপথটি ভারতের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশের পথ ।
শহর-নগর কেন্দ্রগুলির পরিবেশকরা জানিয়েছেন যে গ্রাহকরা অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। কর্মকর্তারা জনগণকে মজুদ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন, সতর্ক করে দিয়েছেন যে আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা চললে মজুদ শেষ হওয়ার আগেই গ্যাসের যোগান কম হয়ে যাবে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়া ইস্তক বাড়ছে খনিজ তেলের দাম। কারণ, বিশ্বব্যাপী তরল সোনার সিংহভাগই রফতানি করে পশ্চিম এশিয়ার এই সমস্ত আরব দেশ। সংঘাত পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে তেল উৎপাদন এবং সরবরাহ যে কঠিন হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে তরল সোনার দর। ভারতীয় অর্থনীতির গায়ে সেই আঁচ পড়বে বুঝে তেলের বিকল্প বাজারের সন্ধান চালাচ্ছে নয়াদিল্লি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানকে নিশানা করলে বেধে যায় যুদ্ধ। এর ঠিক দু’দিনের মাথায় (পড়ুন ২ মার্চ) সাত শতাংশ বৃদ্ধি পায় ব্রেন্ট ক্রুডের দর। ফলে ব্যারেলপ্রতি ৮২.৩৭ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে ওই অপরিশোধিত তেল, গত বছরের (২০২৫ সাল) জানুয়ারির পর যা সর্বোচ্চ। আর্থিক বিশ্লেষক জ়িয়াদ দাউদ এবং দিনা এসফানদিয়ারি এ প্রসঙ্গে ব্লুমবার্গে লিখেছেন, প্রতি ব্যারেল তরল সোনার দর পৌঁছোতে পারে ১০৮ ডলারে।বর্তমানে খনিজ তেলের ৮২ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে ভারত। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি তরল সোনার দর এক ডলার বৃদ্ধি পেলে সংশ্লিষ্ট খাতে বার্ষিক খরচ বাড়তে পারে অন্তত ২০০ কোটি ডলার। এর জেরে নয়াদিল্লির বাণিজ্যিক ভারসাম্যের উপর যে চাপ পড়বে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ফলে বিকল্প হিসাবে ফের রুশ উরাল ক্রুডের দিকে মুখ ফেরাবে মোদি সরকার? না কি ভরসা দেবে ভেনেজ়ুয়েলার অপরিশোধিত তেল? ঘুরপাক খাচ্ছে সেই প্রশ্ন।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

রাজ্যসভা নির্বাচন: অভিষেক মনু সিংভি-সহ ৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল কংগ্রেস

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

রান্নাঘরে যুদ্ধ: ইরানের উপর মার্কিন-ইসরাইল আক্রমণ ভারতে রান্নার জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে

আপডেট : ৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ শীঘ্রই ভারতীয় রান্নাঘরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল কার্যকরভাবে বন্ধ থাকলে ভারতের পরিবারগুলিতে রান্নার গ্যাস সরবরাহের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। সংকীর্ণ জলপথটি ভারতের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশের পথ ।
শহর-নগর কেন্দ্রগুলির পরিবেশকরা জানিয়েছেন যে গ্রাহকরা অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। কর্মকর্তারা জনগণকে মজুদ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন, সতর্ক করে দিয়েছেন যে আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা চললে মজুদ শেষ হওয়ার আগেই গ্যাসের যোগান কম হয়ে যাবে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়া ইস্তক বাড়ছে খনিজ তেলের দাম। কারণ, বিশ্বব্যাপী তরল সোনার সিংহভাগই রফতানি করে পশ্চিম এশিয়ার এই সমস্ত আরব দেশ। সংঘাত পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে তেল উৎপাদন এবং সরবরাহ যে কঠিন হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে তরল সোনার দর। ভারতীয় অর্থনীতির গায়ে সেই আঁচ পড়বে বুঝে তেলের বিকল্প বাজারের সন্ধান চালাচ্ছে নয়াদিল্লি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানকে নিশানা করলে বেধে যায় যুদ্ধ। এর ঠিক দু’দিনের মাথায় (পড়ুন ২ মার্চ) সাত শতাংশ বৃদ্ধি পায় ব্রেন্ট ক্রুডের দর। ফলে ব্যারেলপ্রতি ৮২.৩৭ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে ওই অপরিশোধিত তেল, গত বছরের (২০২৫ সাল) জানুয়ারির পর যা সর্বোচ্চ। আর্থিক বিশ্লেষক জ়িয়াদ দাউদ এবং দিনা এসফানদিয়ারি এ প্রসঙ্গে ব্লুমবার্গে লিখেছেন, প্রতি ব্যারেল তরল সোনার দর পৌঁছোতে পারে ১০৮ ডলারে।বর্তমানে খনিজ তেলের ৮২ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে ভারত। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি তরল সোনার দর এক ডলার বৃদ্ধি পেলে সংশ্লিষ্ট খাতে বার্ষিক খরচ বাড়তে পারে অন্তত ২০০ কোটি ডলার। এর জেরে নয়াদিল্লির বাণিজ্যিক ভারসাম্যের উপর যে চাপ পড়বে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ফলে বিকল্প হিসাবে ফের রুশ উরাল ক্রুডের দিকে মুখ ফেরাবে মোদি সরকার? না কি ভরসা দেবে ভেনেজ়ুয়েলার অপরিশোধিত তেল? ঘুরপাক খাচ্ছে সেই প্রশ্ন।