০৬ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাইক্রো অবজার্ভারদের সঙ্গে সহমত না হলেই ‘বিচারাধীন’!

 

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কিছু সূত্রের দাবি, মাইক্রো পর্যবেক্ষকদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলেই অনেক ভোটারের নাম সরাসরি ‘বিচারাধীন’ তালিকায় চলে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের দাবি, বহু ক্ষেত্রে ভোটাররা নাম সংশোধন বা পুনর্বহালের আবেদন করেছিলেন। মাইক্রো পর্যবেক্ষকেরা সেই আবেদন বাতিল করলে এবং নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকও যদি তাতে সম্মত হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক যদি আপত্তি জানান, তাহলে সেই ভোটারের নাম সরাসরি ‘বিচারাধীন’ তালিকায় চলে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বাস্তবে এত বড় সংখ্যায় অবৈধ নাম খুঁজে না পাওয়ায় শেষ পর্যায়ে অন্য কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রাথমিকভাবে এত বিপুল সংখ্যক নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় যাওয়ার কথা ছিল না। শুনানির নোটিস পাওয়া প্রায় দেড় কোটি ভোটারের তথ্য যাচাই করার পরও তা মাইক্রো পর্যবেক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়। এর মধ্যে কয়েক লক্ষ নাম সরাসরি বাদ পড়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। ফলে এমন অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু ক্ষেত্রে জীবিত ব্যক্তিকেও তালিকায় মৃত বলে দেখিয়ে নাম মুছে দেওয়া হয়েছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগের আধিকারিক নিয়োগ করে বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নির্দেশের আগের কয়েক দিনের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় চলে যায়।
অভিযোগ আরও রয়েছে, কোনো আধিকারিক মাইক্রো পর্যবেক্ষকের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলে সেই ভোটারের নামের পাশে সতর্ক চিহ্ন যুক্ত হয়ে সরাসরি বিচারাধীন তালিকায় ঢুকে যাচ্ছে। অনেকের মতে, এটি আগে থেকেই নির্দিষ্টভাবে সাজানো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ফল।
রাজ্যের কিছু আধিকারিকের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। মাইক্রো পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে মতানৈক্য হলে কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের কাছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও পাঠাতে হয়েছে।
এদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এর এক শীর্ষ নেতার দাবি, ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষ নাম বাদ পড়েছে এবং বিচারাধীন তালিকায় থাকা বহু ভোটারের নামও যদি কেটে যায়, তাহলে মোট সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ করা।
ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে এবং বিষয়টি এখন রাজ্যের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

মাইক্রো অবজার্ভারদের সঙ্গে সহমত না হলেই ‘বিচারাধীন’!

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

মাইক্রো অবজার্ভারদের সঙ্গে সহমত না হলেই ‘বিচারাধীন’!

আপডেট : ৬ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার

 

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কিছু সূত্রের দাবি, মাইক্রো পর্যবেক্ষকদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলেই অনেক ভোটারের নাম সরাসরি ‘বিচারাধীন’ তালিকায় চলে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের দাবি, বহু ক্ষেত্রে ভোটাররা নাম সংশোধন বা পুনর্বহালের আবেদন করেছিলেন। মাইক্রো পর্যবেক্ষকেরা সেই আবেদন বাতিল করলে এবং নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকও যদি তাতে সম্মত হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক যদি আপত্তি জানান, তাহলে সেই ভোটারের নাম সরাসরি ‘বিচারাধীন’ তালিকায় চলে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বাস্তবে এত বড় সংখ্যায় অবৈধ নাম খুঁজে না পাওয়ায় শেষ পর্যায়ে অন্য কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রাথমিকভাবে এত বিপুল সংখ্যক নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় যাওয়ার কথা ছিল না। শুনানির নোটিস পাওয়া প্রায় দেড় কোটি ভোটারের তথ্য যাচাই করার পরও তা মাইক্রো পর্যবেক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়। এর মধ্যে কয়েক লক্ষ নাম সরাসরি বাদ পড়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। ফলে এমন অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু ক্ষেত্রে জীবিত ব্যক্তিকেও তালিকায় মৃত বলে দেখিয়ে নাম মুছে দেওয়া হয়েছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগের আধিকারিক নিয়োগ করে বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নির্দেশের আগের কয়েক দিনের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় চলে যায়।
অভিযোগ আরও রয়েছে, কোনো আধিকারিক মাইক্রো পর্যবেক্ষকের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলে সেই ভোটারের নামের পাশে সতর্ক চিহ্ন যুক্ত হয়ে সরাসরি বিচারাধীন তালিকায় ঢুকে যাচ্ছে। অনেকের মতে, এটি আগে থেকেই নির্দিষ্টভাবে সাজানো প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ফল।
রাজ্যের কিছু আধিকারিকের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। মাইক্রো পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে মতানৈক্য হলে কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের কাছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও পাঠাতে হয়েছে।
এদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এর এক শীর্ষ নেতার দাবি, ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষ নাম বাদ পড়েছে এবং বিচারাধীন তালিকায় থাকা বহু ভোটারের নামও যদি কেটে যায়, তাহলে মোট সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ করা।
ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে এবং বিষয়টি এখন রাজ্যের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।