পুবের কলম প্রতিবেদক, কলকাতা: ‘গণতন্ত্র লুণ্ঠন’ এবং ‘সাংবিধানিক অধিকার হরণের’ অভিযোগে কলকাতার ধর্মতলায় ধরনায় বসলেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের (এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে) পক্ষপাতিত্ব এবং ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁর এই অবস্থান কর্মসূচি।
ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে শুধুমাত্র বিজেপিকে সন্তুষ্ট করতে কাজ করছে। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে কমিশন বিজেপির কথা মতো কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম উল্লেখ করে তাঁকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকেও নিশানা করে তিনি বলেন যে, তাঁর অবস্থা প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের মতো করে দেওয়া হয়েছে।
এদিনের ধরনা মঞ্চে বেশ কয়েকজন ভোটার উপস্থিত ছিলেন, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বেছে বেছে মহিলা, সংখ্যালঘু এবং কৃষক ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের নাম কাটা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বৈধ আধার কার্ড রয়েছে। বিহারের মতো রাজ্যে যদি এমন ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ না থাকে, তবে বাংলায় কেন তা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে তালিকায় পুনরায় যুক্ত করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এরা আমার ভোটার। এদের নাম কেটে জিতবেন ভাবছেন? মানুষের কাছে আপনাদের জবাব দিতেই হবে।” মোদী সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পেগাসাস ইস্যু টেনে আনেন। তিনি বলেন, “ওরা পেগাসাস করে, আমরা জনগণ করি।” বাংলার মানুষের লড়াইয়ের ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাই স্বাধীনতা এনেছিল এবং এবারও বাংলাই লড়াইয়ের পথ দেখাবে। কড়া সুরে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “বেশি বাড়াবাড়ি করলে দিল্লি সরকার ফেলে দেব।”
































