নয়াদিল্লি: ইলাহাবাদ হাইকোর্টের তিন বর্তমান বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সূত্রের খবর, তিন বিচারপতিই নিজ নিজ বাসভবনে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। উত্তরপ্রদেশ জুড়ে ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট ৩ জানুয়ারি থেকে ইলাহাবাদে এবং লখনউ বেঞ্চে উভয় ক্ষেত্রেই মামলার শুনানির জন্য ভার্চুয়ালিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলের নেতৃত্বে হাইকোর্টের প্রশাসনিক কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।পরে আইনজীবীরা সম্পূর্ণ ভার্চুয়ালে যাওয়ার আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার ফলে হাইকোর্ট সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল মোড থেকে হাইব্রিড মোডে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে আবার অনলাইনে বিচার শুরু হয়েছে। তেলেঙ্গানা হাইকোর্টও জানিয়ে দিয়েছে, সাধারণভাবে আদালতে শুনানি হবে না। তবে কোন মামলা ভার্চুয়ালি হবে, কোনটা আদালতে হবে, তা বিচারপতিরা ঠিক করবেন।
এদিকে ভারতে করোনা আবার ভয়ংকরভাবে ছড়াচ্ছে। মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩৭ হাজারের মতো মানুষ। বুধবার সংখ্যাটা লাফিয়ে বেড়ে হয়েছে ৫৮ হাজার ৯৭ জন। মহারাষ্ট্রে একদিনে সংক্রমিত হয়েছেন ১৮ হাজার ৪৬৬ জন। দিল্লিতে পাঁচ হাজার ৪৮১ এবং পশ্চিমবঙ্গে নয় হাজার ৭৩ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ লাখ ৮৮ হাজার মানুষের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। যত মানুষের পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে চার দশমিক ১৮ জনের করোনা ধরা পড়েছে। দিল্লিতে সংখ্যাটা দশের বেশি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রায় ১৯ জন এবং গোয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ১৪ জনের করোনা ধরা পড়ছে। মহারাষ্ট্রে যতজনের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে ১৩ দশমিক ২৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসছে।
দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, ”আজ রাতের মধ্যে দিল্লিতে দশ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। দিল্লিতে করোনার তৃতীয় ঢেউ এসে গেছে।”
এমনিতেই দিল্লিতে রাত দশটা থেকে কার্ফিউ চালু করা হয়েছে। ভোর পাঁচটা পর্যন্ত তা চলে। বাজারের দোকান রাত আটটা থেকে নয়টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হয়। কিন্তু এই সপ্তাহান্তে দিন-রাতের কার্ফিউ জারি করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
এর ফলে শুক্রবার রাত দশটা থেকে সোমবার ভোর পাঁচটা পর্যন্ত দিল্লিতে কার্যত লকডাউন থাকবে। অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা চালু থাকবে। মানুষ ট্রেন বা প্লেনের টিকিট দেখিয়ে বিমানবন্দর বা স্টেশন যেতে পারবেন। মাত্র ২০ জন আমন্ত্রিতকে নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করা যাবে। যে ২০ জন সেখানে যাবেন, তাদের বিয়ের কার্ড দেখাতে হবে। বাকি প্রায় সবকিছু বন্ধ থাকবে। দিল্লিতে মেট্রো রেল চলবে। তবে কেউ দাঁড়াতে পারবেন না। যতগুলি বসার আসন, ততজনই চড়তে পারবেন। মাস্ক ছাড়া মেট্রোয় চড়া যাবে না।



















