০২ মার্চ ২০২৬, সোমবার, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোযা প্রভুর সঙ্গে মিলনের সেতু

প্রতীকী ছবি

পুবের কলম প্রতিবেদক : রোযা মহান প্রভুর পালনীয় বিধান। রাসূলুল্লাহ্ সা.- এর ফরমান। হিজরি ২য় বর্ষের ফরমান। মুমিনের ইবাদাত। মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত উৎসব। রোযা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সম্ভোগ থেকে বিরত থাকা। সওয়াব ও মালিকের নৈকট্য লাভের আশায় বুক বাঁধা। রোযা প্রভু সন্তুষ্টির ভরা বসন্ত। রোযা প্রভুভক্তের নজরানা। নবীপ্রেমের অনন্য চেতনা। তাক্ওয়া ও খোদা-ভীরুতার সোনালি সিঁড়ি, নবীদের আমল।

 

আরও পড়ুন: ‘হুজুর, আমরা বেঁচে আছি’ বিডিওকে স্মারকলিপি দিয়ে আর্তি পাঁচ ‘মৃত’ ভোটারের

আল্লাহ্তায়ালা বলেন : ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য রোযা ফরয করা হয়েছে। যেমনটি তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাক্ওয়া অর্জন করতে পার।’ (সূরা বাকারাহ্, আয়াত ­ ১৮৩) ত্যাগ সংযম আত্মশুদ্ধির সিয়াম সাধনা। সেহরি ইফতার ও তারাবিহ্তে ঐক্যের মোহনা। রহমত মাগফেরাত আর নাজাতে ঘেরা এই মাস। একমুঠো অন্নের অভাবী অসহায় গরিব ও হতদরিদ্রের প্রতি সৃষ্টি হয় ধনীদের অনুশোচনা। জাগ্রত হয় গরিবের প্রতি সহানুভূতির চেতনা। সৃষ্টি হয় এতিমের মাথায় হাত বুলানোর প্রেরণা।

আরও পড়ুন: হাসপাতাল থেকে স্টেশন, রোযাদারদের হাতে ইফতারের সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন প্রাক্তন হকি আম্পায়ার

 

আরও পড়ুন: রোযা রাখার ৮টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

আল্লাহ্তায়ালা বলেন : ‘যে তোমার কাছে সাহায্য চায় তাকে তাড়িয়ে দিও না।’ (সূরা দোহা, আয়াত ­ ১০) । এই মাস বান্দাহ্ দিনাতিপাত করে অনাহারে। সহ্য করে ক্ষুধার যাতনা। কষ্ট সহ্য করে গরিব, করে ধনীও। রোযা যেন মনিবের পূর্ণ দাসত্বের প্রতীক। রোযাদারের ঘর খাবারে পরিপূর্ণ। পেটটা খাবার শূন্য। অথচ সামনে উপস্থিত ইফতারের সামগ্রী। বুকে আল্লাহর ভালোবাসা আর ভয়। তাই মুখে খাবার না তুলে রোযাদার ইফতারের অপেক্ষায় থাকে । এই রোযা আল্লাহর জন্যে। শুধুই আল্লাহর জন্যে। এই ত্যাগ আর কষ্ট মাবুদের সন্তুষ্টির জন্য। এই সংযম আর অনাহার মাওলার দাসত্বের। এই সিয়াম সাধনা প্রভুর সাক্ষাতের। এ রোযার প্রতিদান একমাত্র প্রভুর কাছে। পুরস্কার আল্লাহর হাতে। জান্নাতের বড় নেয়ামত আল্লাহ পাকের সাক্ষাৎ। আল্লাহ পাকের দিদার লাভ করবে শুধুই রোযাদার। রোযাদারের জন্য রোযা হবে প্রভুর সঙ্গে মিলনের সেতুবন্ধন। হাদিসে রাসূল সা. বলেন : ‘রোযাদারের জন্য দুইটি আনন্দ। একটি ইফতারের সময়। অপরটি প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাতের।’ (তিরমিযি) । সাহাবি হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন ,আল্লাহ্তায়ালা বলেন : ‘রোযা আমার সন্তুষ্টির জন্য। এর পুরস্কার আমি নিজে দেব।’ (বুখারী)

 

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

দিনহাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

রোযা প্রভুর সঙ্গে মিলনের সেতু

আপডেট : ৬ এপ্রিল ২০২২, বুধবার

পুবের কলম প্রতিবেদক : রোযা মহান প্রভুর পালনীয় বিধান। রাসূলুল্লাহ্ সা.- এর ফরমান। হিজরি ২য় বর্ষের ফরমান। মুমিনের ইবাদাত। মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত উৎসব। রোযা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সম্ভোগ থেকে বিরত থাকা। সওয়াব ও মালিকের নৈকট্য লাভের আশায় বুক বাঁধা। রোযা প্রভু সন্তুষ্টির ভরা বসন্ত। রোযা প্রভুভক্তের নজরানা। নবীপ্রেমের অনন্য চেতনা। তাক্ওয়া ও খোদা-ভীরুতার সোনালি সিঁড়ি, নবীদের আমল।

 

আরও পড়ুন: ‘হুজুর, আমরা বেঁচে আছি’ বিডিওকে স্মারকলিপি দিয়ে আর্তি পাঁচ ‘মৃত’ ভোটারের

আল্লাহ্তায়ালা বলেন : ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য রোযা ফরয করা হয়েছে। যেমনটি তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাক্ওয়া অর্জন করতে পার।’ (সূরা বাকারাহ্, আয়াত ­ ১৮৩) ত্যাগ সংযম আত্মশুদ্ধির সিয়াম সাধনা। সেহরি ইফতার ও তারাবিহ্তে ঐক্যের মোহনা। রহমত মাগফেরাত আর নাজাতে ঘেরা এই মাস। একমুঠো অন্নের অভাবী অসহায় গরিব ও হতদরিদ্রের প্রতি সৃষ্টি হয় ধনীদের অনুশোচনা। জাগ্রত হয় গরিবের প্রতি সহানুভূতির চেতনা। সৃষ্টি হয় এতিমের মাথায় হাত বুলানোর প্রেরণা।

আরও পড়ুন: হাসপাতাল থেকে স্টেশন, রোযাদারদের হাতে ইফতারের সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন প্রাক্তন হকি আম্পায়ার

 

আরও পড়ুন: রোযা রাখার ৮টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

আল্লাহ্তায়ালা বলেন : ‘যে তোমার কাছে সাহায্য চায় তাকে তাড়িয়ে দিও না।’ (সূরা দোহা, আয়াত ­ ১০) । এই মাস বান্দাহ্ দিনাতিপাত করে অনাহারে। সহ্য করে ক্ষুধার যাতনা। কষ্ট সহ্য করে গরিব, করে ধনীও। রোযা যেন মনিবের পূর্ণ দাসত্বের প্রতীক। রোযাদারের ঘর খাবারে পরিপূর্ণ। পেটটা খাবার শূন্য। অথচ সামনে উপস্থিত ইফতারের সামগ্রী। বুকে আল্লাহর ভালোবাসা আর ভয়। তাই মুখে খাবার না তুলে রোযাদার ইফতারের অপেক্ষায় থাকে । এই রোযা আল্লাহর জন্যে। শুধুই আল্লাহর জন্যে। এই ত্যাগ আর কষ্ট মাবুদের সন্তুষ্টির জন্য। এই সংযম আর অনাহার মাওলার দাসত্বের। এই সিয়াম সাধনা প্রভুর সাক্ষাতের। এ রোযার প্রতিদান একমাত্র প্রভুর কাছে। পুরস্কার আল্লাহর হাতে। জান্নাতের বড় নেয়ামত আল্লাহ পাকের সাক্ষাৎ। আল্লাহ পাকের দিদার লাভ করবে শুধুই রোযাদার। রোযাদারের জন্য রোযা হবে প্রভুর সঙ্গে মিলনের সেতুবন্ধন। হাদিসে রাসূল সা. বলেন : ‘রোযাদারের জন্য দুইটি আনন্দ। একটি ইফতারের সময়। অপরটি প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাতের।’ (তিরমিযি) । সাহাবি হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন ,আল্লাহ্তায়ালা বলেন : ‘রোযা আমার সন্তুষ্টির জন্য। এর পুরস্কার আমি নিজে দেব।’ (বুখারী)