০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের স্কুলছাত্রী আরসার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা  অস্থিরতার আগুনে ঘি ঢালছে পশ্চিমা মিডিয়া

পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ  চলমান বিক্ষোভকে পশ্চিমা মিডিয়ায় হিজাব ও সরকার বিরোধী প্রতিবাদ বলে ঢালাও প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। আমেরিকা ও ইসরাইল এই সুযোগে ইরানের ইসলামি রাষ্ট্রকে উৎখাত করার পায়তারা করছে। তবে স্কুলছাত্রী আরসা পানাহির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলন  দানা বেঁধে উঠেছে। অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার কাকা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পানাহির হৃদযন্ত্রে সমস্যা ছিল। সেই কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ থামাতে ইরানি পুলিশকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। ইরানের চলমান অস্থিরতা নিয়ে বিশেষজ্ঞমহলের মত, দেশটিতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে হিজাবকে যুক্ত করে প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে কারও ক্ষোভ থাকতেই পারে। সেজন্য অবশ্যই আন্দোলন করার অধিকার থাকা দরকার। কিন্তু আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে হিজাবকে ব্যবহার করাটা পাশ্চাত্যের চক্রান্ত।  এ ব্যাপারে বিভিন্ন বানোয়াট খবর ছড়িয়ে মিডিয়া প্রধান ভূমিকা পালন করছে।  নারীর পোশাককেই এখানে টার্গেট করা হচ্ছে। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মহিলারা আবার হিজাব পরার পক্ষে। এমন আন্দোলনের তীব্র বিরোধী তারা। তাদের মত, হিজাবকে এমন আন্দোলনের মধ্যে টেনে এনে নারীদের পোশাকের স্বাধীনতাকেই অবমাননা করছে পড়ুয়ারা। তাই হিজাব পরিহিতা মহিলারাও বেশকিছু জমায়েত করেছেন। পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহন জানিয়েছেন এই সচেতন মহিলারা।

আরসা পানাহি উত্তর-পশ্চিম ইরানের আরদাবিল শহরের ছাত্রী ছিল। ১৬ বছর বয়সি পানাহিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে বলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের দাবি, পুলিশ তাকে মারেনি। হৃদযন্ত্রের সমস্যায় সে মারা গেছে। ২২ বছর বয়সি মাহশা আমিনির মৃত্যুও এ জন্যই হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। হিজাব না পরার অভিযোগে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জেরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরান। মাহশার মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যেই আরসার মৃত্যুর খবর আসায় বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর পুলিশ আরদাবিলের স্কুলে যায় এবং ছাত্রীদের ইসলামিক রিপাবলিকের উদ্দেশে গান গাইতে বলে। কিছু ছাত্রী গাইতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আরসা ছিল তাদের মধ্যে একজন। শুক্রবার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এদিকে, আরদাবিল শহরের মেয়র বলেছেন, আরসার বাড়িতে গোলমাল চলছিল। সে ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

সর্বধিক পাঠিত

ইরানে হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ২৫ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ইরানের স্কুলছাত্রী আরসার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা  অস্থিরতার আগুনে ঘি ঢালছে পশ্চিমা মিডিয়া

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২২, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ  চলমান বিক্ষোভকে পশ্চিমা মিডিয়ায় হিজাব ও সরকার বিরোধী প্রতিবাদ বলে ঢালাও প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। আমেরিকা ও ইসরাইল এই সুযোগে ইরানের ইসলামি রাষ্ট্রকে উৎখাত করার পায়তারা করছে। তবে স্কুলছাত্রী আরসা পানাহির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলন  দানা বেঁধে উঠেছে। অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার কাকা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পানাহির হৃদযন্ত্রে সমস্যা ছিল। সেই কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ থামাতে ইরানি পুলিশকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। ইরানের চলমান অস্থিরতা নিয়ে বিশেষজ্ঞমহলের মত, দেশটিতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে হিজাবকে যুক্ত করে প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে কারও ক্ষোভ থাকতেই পারে। সেজন্য অবশ্যই আন্দোলন করার অধিকার থাকা দরকার। কিন্তু আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে হিজাবকে ব্যবহার করাটা পাশ্চাত্যের চক্রান্ত।  এ ব্যাপারে বিভিন্ন বানোয়াট খবর ছড়িয়ে মিডিয়া প্রধান ভূমিকা পালন করছে।  নারীর পোশাককেই এখানে টার্গেট করা হচ্ছে। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মহিলারা আবার হিজাব পরার পক্ষে। এমন আন্দোলনের তীব্র বিরোধী তারা। তাদের মত, হিজাবকে এমন আন্দোলনের মধ্যে টেনে এনে নারীদের পোশাকের স্বাধীনতাকেই অবমাননা করছে পড়ুয়ারা। তাই হিজাব পরিহিতা মহিলারাও বেশকিছু জমায়েত করেছেন। পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহন জানিয়েছেন এই সচেতন মহিলারা।

আরসা পানাহি উত্তর-পশ্চিম ইরানের আরদাবিল শহরের ছাত্রী ছিল। ১৬ বছর বয়সি পানাহিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে বলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের দাবি, পুলিশ তাকে মারেনি। হৃদযন্ত্রের সমস্যায় সে মারা গেছে। ২২ বছর বয়সি মাহশা আমিনির মৃত্যুও এ জন্যই হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। হিজাব না পরার অভিযোগে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জেরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরান। মাহশার মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যেই আরসার মৃত্যুর খবর আসায় বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর পুলিশ আরদাবিলের স্কুলে যায় এবং ছাত্রীদের ইসলামিক রিপাবলিকের উদ্দেশে গান গাইতে বলে। কিছু ছাত্রী গাইতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আরসা ছিল তাদের মধ্যে একজন। শুক্রবার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এদিকে, আরদাবিল শহরের মেয়র বলেছেন, আরসার বাড়িতে গোলমাল চলছিল। সে ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।