০৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা পদ্ধতিতে বড়সড় রদবদল, বছরে দু’বার বোর্ড পরীক্ষা! প্রস্তাব এনসিএফের     

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আনছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন এই শিক্ষা নীতিতে সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও। প্রথম শ্রেণির আগে বই নয়। ক্লাস ওয়ান ও ক্লাস টু-কে রাখা হচ্ছে প্রি-প্রাইমারির মধ্যে। বছরে দু’বার বোর্ড পরীক্ষা। এমনই নানা প্রস্তাব দিল জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ তথা এনইপি এর অধীনস্থ ন্যাশনাল ক্যারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক বা এনসিএফ।  বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাদের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাবে এমন নানা প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে পড়ুয়া, অভিভাবক ও স্কুলের শিক্ষকদের মতামত দেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রক। ছাত্র –ছাত্রীদের পড়ার চাপ কমাতে ক্লাস ৬-৮ পর্যন্ত ইতিহাস, ভূগোল ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানের মতো বিষয় গুলি বন্ধ করার সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বছরে দু’বার বোর্ড পরীক্ষা হবে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৪ বছরের মধ্যে ৪০টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষা নেবে বোর্ড। বাকি নেবে স্কুল। এই পরীক্ষগুলোতে পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে বোর্ডের পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হবে।  এই চার বছরের কোর্স হবে মাল্টি ডিসিপ্লিনারি। অর্থাৎ পড়ুয়ারা তাদের  পছন্দের বিষয় বেছে নিতে পারবে। তবে দেখতে হবে ওই কম্বিনেশন পরবর্তিতে উচ্চশিক্ষায় যেন অসুবিধার কারণ না হয়।

কেন্দ্রের পরিকল্পনা হল, দশম ও দ্বাদশ শ্রণিতে আর নতুন করে বোর্ডের পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তার পরিবর্তে আনা হচ্ছে ৫+৩+৩+৪ পদ্ধতি। এখানে প্রাথমিককেও আনা হচ্ছে স্কুলের আওতায়। এটিকে বলা হচ্ছে ফাউন্ডেশন কোর্স।কেবল উঁচু ক্লাস নয়, একেবারে শুরু থেকেই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে।

এনসিএফের প্রস্তাব, নার্সারি, কেজি ক্লাসে স্কুলেই পড়ুয়াদের শেখানো হবে। প্রথম বই পড়ানো হবে প্রথম শ্রেণিতে। তবে তখন কেবলই ভাষা ও গণিতের বই পড়ানো হবে। এটা চালু থাকবে দ্বিতীয় শ্রেণিতেও। তৃতীয় শ্রেণি থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে।

দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির দুই বোর্ড পরীক্ষা এখন এনসিএফের অধীনে। আর সেপ্রসঙ্গে তাদের প্রস্তাব পড়ুয়ারা যেন পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পায় ভাল করার। সেই কারণেই পরীক্ষাটিকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব। যাতে পড়ুয়ারা প্রস্তুতি অনুযায়ী চারটি বিষয় আগে ও পরে বাকি বিষয়গুলির পরীক্ষা দিতে পারে।

প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

গণঅভ্যুত্থানের পর নেপালে আজ ভোট

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

শিক্ষা পদ্ধতিতে বড়সড় রদবদল, বছরে দু’বার বোর্ড পরীক্ষা! প্রস্তাব এনসিএফের     

আপডেট : ৭ এপ্রিল ২০২৩, শুক্রবার

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আনছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন এই শিক্ষা নীতিতে সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও। প্রথম শ্রেণির আগে বই নয়। ক্লাস ওয়ান ও ক্লাস টু-কে রাখা হচ্ছে প্রি-প্রাইমারির মধ্যে। বছরে দু’বার বোর্ড পরীক্ষা। এমনই নানা প্রস্তাব দিল জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০ তথা এনইপি এর অধীনস্থ ন্যাশনাল ক্যারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক বা এনসিএফ।  বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাদের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাবে এমন নানা প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে পড়ুয়া, অভিভাবক ও স্কুলের শিক্ষকদের মতামত দেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রক। ছাত্র –ছাত্রীদের পড়ার চাপ কমাতে ক্লাস ৬-৮ পর্যন্ত ইতিহাস, ভূগোল ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানের মতো বিষয় গুলি বন্ধ করার সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বছরে দু’বার বোর্ড পরীক্ষা হবে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৪ বছরের মধ্যে ৪০টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষা নেবে বোর্ড। বাকি নেবে স্কুল। এই পরীক্ষগুলোতে পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে বোর্ডের পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হবে।  এই চার বছরের কোর্স হবে মাল্টি ডিসিপ্লিনারি। অর্থাৎ পড়ুয়ারা তাদের  পছন্দের বিষয় বেছে নিতে পারবে। তবে দেখতে হবে ওই কম্বিনেশন পরবর্তিতে উচ্চশিক্ষায় যেন অসুবিধার কারণ না হয়।

কেন্দ্রের পরিকল্পনা হল, দশম ও দ্বাদশ শ্রণিতে আর নতুন করে বোর্ডের পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তার পরিবর্তে আনা হচ্ছে ৫+৩+৩+৪ পদ্ধতি। এখানে প্রাথমিককেও আনা হচ্ছে স্কুলের আওতায়। এটিকে বলা হচ্ছে ফাউন্ডেশন কোর্স।কেবল উঁচু ক্লাস নয়, একেবারে শুরু থেকেই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে।

এনসিএফের প্রস্তাব, নার্সারি, কেজি ক্লাসে স্কুলেই পড়ুয়াদের শেখানো হবে। প্রথম বই পড়ানো হবে প্রথম শ্রেণিতে। তবে তখন কেবলই ভাষা ও গণিতের বই পড়ানো হবে। এটা চালু থাকবে দ্বিতীয় শ্রেণিতেও। তৃতীয় শ্রেণি থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে।

দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির দুই বোর্ড পরীক্ষা এখন এনসিএফের অধীনে। আর সেপ্রসঙ্গে তাদের প্রস্তাব পড়ুয়ারা যেন পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পায় ভাল করার। সেই কারণেই পরীক্ষাটিকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব। যাতে পড়ুয়ারা প্রস্তুতি অনুযায়ী চারটি বিষয় আগে ও পরে বাকি বিষয়গুলির পরীক্ষা দিতে পারে।