০৭ মার্চ ২০২৬, শনিবার, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোতলপুরে বিজেপির বিজয়া সম্মিলনীতে অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট

পারিজাত মোল্লা: বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে পুলিশি অনুমতি বিষয়ক মামলার শুনানি চলে। বাঁকুড়ায় বিজেপির বিজয়া সম্মিলনী সভা মামলা টি দু দফায় শুনানি চলে। এই মামলার দ্বিতীয় পর্বে আদালত জানায় -‘ বাঁকুড়ায় বিজেপির বিজয়া সম্মিলনীর অনুমতি দেওয়া যাবে না’। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারের বক্তব্য শোনার পরে মত বদলান বিচারপতি। প্রথম পর্বে নির্দেশে বিচারপতি জানিয়েছিলেন -‘ আধ ঘণ্টার মধ্যে অনুমতি দিতে হবে’।

তবে এদিন বিকেলে হাইকোর্ট জানালো, -‘ বাঁকুড়ার কোতুলপুরে আগামী ৪ নভেম্বরের আগে সভা করতে পারবে না বিজেপি’।কোতুলপুরে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান করতে চেয়ে পুলিশের অনুমতি চায় বিজেপি। সেখানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মঞ্চ বাঁধার কাজ শেষ হয়ে গেলেও পুলিশের অনুমতি না মেলায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় গেরুয়া শিবির। বুধবার এই মামলার প্রথম দিকে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানান, -‘আধ ঘণ্টার মধ্যে ওই সভা বা সম্মিলনীতে অনুমতি না দিলে বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির হতে হবে’।

ওই মামলার শুনানিতে বিকেলে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানান , ”পুলিশ সুপার বলছেন, সভা ময়দানটি অনেকটা বড়। সেখানে একটি মাত্র প্রবেশ এবং বাহিরের পথ রয়েছে। এই অবস্থায় পদপিষ্টের ঘটনা হলে আদালতের তো কিছু করার থাকবে না। জালিয়ানওয়ালাবাগের মতো ঘটনা হলে দায় কে নেবে?”বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, -‘ সভা করার অনুমতি চেয়ে বিজেপির আবেদনে ত্রুটি রয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর ইমেল মারফত অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। আদালতের কাছে ওই পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়।

গত ৩০ অক্টোবর লিখিত ভাবে অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই শেষ মুহূর্তে আদালতেরও কিছু করার নেই’।বিজেপির আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, ”আপনারা কয়েক দিন পরে কর্মসূচি করুন। পুলিশকে চার দিন সময় দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে তারা সভার অনুমতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তার পরেই সভা করা যাবে।” তার প্রেক্ষিতে বিজেপির আইনজীবীর সওয়ালে বলেন, ”সভার জন্য সবাই তৈরি। আদালতের অনুমতি মিললেই সভা শুরু হবে। সবাই চলে এসেছেন সভাস্থলে।”

তিনি যুক্তিতে বলেন, ”তা ছাড়া এটা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। বিজয়া সম্মিলনীর সভা। অনুমতি দেওয়া হোক।” যা নিয়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ”আমি বুঝি এটা রাজনৈতিক সভা নয় বলে। কিন্তু কোনও অঘটন ঘটলে তার দায় কে নেবে? এ ভাবে অনুমতি দেওয়া যায় না।

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

আজ থেকেই বেকার ভাতা ‘যুবসাথী’, ধরনা মঞ্চ থেকে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

কোতলপুরে বিজেপির বিজয়া সম্মিলনীতে অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট

আপডেট : ১ নভেম্বর ২০২৩, বুধবার

পারিজাত মোল্লা: বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে পুলিশি অনুমতি বিষয়ক মামলার শুনানি চলে। বাঁকুড়ায় বিজেপির বিজয়া সম্মিলনী সভা মামলা টি দু দফায় শুনানি চলে। এই মামলার দ্বিতীয় পর্বে আদালত জানায় -‘ বাঁকুড়ায় বিজেপির বিজয়া সম্মিলনীর অনুমতি দেওয়া যাবে না’। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারের বক্তব্য শোনার পরে মত বদলান বিচারপতি। প্রথম পর্বে নির্দেশে বিচারপতি জানিয়েছিলেন -‘ আধ ঘণ্টার মধ্যে অনুমতি দিতে হবে’।

তবে এদিন বিকেলে হাইকোর্ট জানালো, -‘ বাঁকুড়ার কোতুলপুরে আগামী ৪ নভেম্বরের আগে সভা করতে পারবে না বিজেপি’।কোতুলপুরে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান করতে চেয়ে পুলিশের অনুমতি চায় বিজেপি। সেখানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মঞ্চ বাঁধার কাজ শেষ হয়ে গেলেও পুলিশের অনুমতি না মেলায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় গেরুয়া শিবির। বুধবার এই মামলার প্রথম দিকে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানান, -‘আধ ঘণ্টার মধ্যে ওই সভা বা সম্মিলনীতে অনুমতি না দিলে বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির হতে হবে’।

ওই মামলার শুনানিতে বিকেলে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানান , ”পুলিশ সুপার বলছেন, সভা ময়দানটি অনেকটা বড়। সেখানে একটি মাত্র প্রবেশ এবং বাহিরের পথ রয়েছে। এই অবস্থায় পদপিষ্টের ঘটনা হলে আদালতের তো কিছু করার থাকবে না। জালিয়ানওয়ালাবাগের মতো ঘটনা হলে দায় কে নেবে?”বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, -‘ সভা করার অনুমতি চেয়ে বিজেপির আবেদনে ত্রুটি রয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর ইমেল মারফত অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। আদালতের কাছে ওই পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়।

গত ৩০ অক্টোবর লিখিত ভাবে অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই শেষ মুহূর্তে আদালতেরও কিছু করার নেই’।বিজেপির আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, ”আপনারা কয়েক দিন পরে কর্মসূচি করুন। পুলিশকে চার দিন সময় দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে তারা সভার অনুমতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তার পরেই সভা করা যাবে।” তার প্রেক্ষিতে বিজেপির আইনজীবীর সওয়ালে বলেন, ”সভার জন্য সবাই তৈরি। আদালতের অনুমতি মিললেই সভা শুরু হবে। সবাই চলে এসেছেন সভাস্থলে।”

তিনি যুক্তিতে বলেন, ”তা ছাড়া এটা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। বিজয়া সম্মিলনীর সভা। অনুমতি দেওয়া হোক।” যা নিয়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ”আমি বুঝি এটা রাজনৈতিক সভা নয় বলে। কিন্তু কোনও অঘটন ঘটলে তার দায় কে নেবে? এ ভাবে অনুমতি দেওয়া যায় না।