১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেআইনিভাবে বালি তোলার ফলে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষি জমি ও বাগান

কৌশিক সালুই বীরভূম:-  নদীগর্ভ থেকে বেপরোয়া ভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে বালি। ফলস্বরূপ নদী সংলগ্ন চাষের জমি বাগান তলিয়ে যাচ্ছে জলের তলায়। সেই সমস্ত জমিতে চাষ আবাদ করা মানুষের রুজি রুটির টান পড়তে চলেছে। অবিলম্বে অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালি তোলার বন্ধের দাবি জানিয়ে বীরভূম জেলা প্রশাসনের কাছে দরবার বাসিন্দাদের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বীরভূমের ময়ূরাক্ষী নদীর ডোবাড্ডা এবং নরসিংহপুর মৌজায় নদীর দক্ষিণ দিকে চাষের জমি বাগান এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম রাসবন রয়েছে সেখানে। অভিযোগ আর সেই নদী থেকেই বেপরোয়া ভাবে নদীর বালি তুলে নিচ্ছে অবৈধ কারবারিরা। ওই এলাকার জমিতে চাষ করেন সিউড়ি থানার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চকরামপুর এবং দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দারা। ওই গ্রামের বাসিন্দারা গত ৪ এপ্রিল জেলাশাসক এবং জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক কে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আরজি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিগত বর্ষায় সেভাবে বৃষ্টিপাত হয়নি। তাই নদী গর্ভে বালি জমা হয়নি। বেআইনি কারবারিরা বাধ্য হয়ে নদীতে নৌকা নামিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বালি তুলে নিচ্ছে বলে অভিযোগ। তার ফলেই নদীর বাঁধ যেমন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে পাশাপাশি কৃষি জমি ও বাগান নদীর জলে তলিয়ে যাচ্ছে। তাতে যে সমস্ত পরিবার ওই জমিগুলোতে চাষ বাস করে জীবন জীবিকা নির্ভর করে তাদেরকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে দাবি। গত বছর নানুরের অজয় নদীর তীরবর্তী গ্রাম সুন্দরপুর নদীর জলে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় গ্রামবাসীদের দাবি ছিল বেআইনিভাবে নদীর পাড় কেটে বালি নেওয়ার ফলে ওই  বিপর্যয় ঘটে গিয়েছিল। শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম রাসবন প্রধান  স্বামী সারদাআত্মানন্দ মহারাজ বলেন,” গ্রামবাসীরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে একে একে চাষের জমি, বাগান নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে। পাশাপাশি আশ্রমের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে”।  জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক অসীম পাল বলেন,” লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্লক প্রশাসন ও ব্লক ও ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”।

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

রাহুলের ফোনেও আটকানো গেল না! আসামে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কংগ্রেস নেতা ভুপেন বোরা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বেআইনিভাবে বালি তোলার ফলে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষি জমি ও বাগান

আপডেট : ৬ এপ্রিল ২০২৩, বৃহস্পতিবার

কৌশিক সালুই বীরভূম:-  নদীগর্ভ থেকে বেপরোয়া ভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে বালি। ফলস্বরূপ নদী সংলগ্ন চাষের জমি বাগান তলিয়ে যাচ্ছে জলের তলায়। সেই সমস্ত জমিতে চাষ আবাদ করা মানুষের রুজি রুটির টান পড়তে চলেছে। অবিলম্বে অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালি তোলার বন্ধের দাবি জানিয়ে বীরভূম জেলা প্রশাসনের কাছে দরবার বাসিন্দাদের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বীরভূমের ময়ূরাক্ষী নদীর ডোবাড্ডা এবং নরসিংহপুর মৌজায় নদীর দক্ষিণ দিকে চাষের জমি বাগান এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম রাসবন রয়েছে সেখানে। অভিযোগ আর সেই নদী থেকেই বেপরোয়া ভাবে নদীর বালি তুলে নিচ্ছে অবৈধ কারবারিরা। ওই এলাকার জমিতে চাষ করেন সিউড়ি থানার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চকরামপুর এবং দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দারা। ওই গ্রামের বাসিন্দারা গত ৪ এপ্রিল জেলাশাসক এবং জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক কে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আরজি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিগত বর্ষায় সেভাবে বৃষ্টিপাত হয়নি। তাই নদী গর্ভে বালি জমা হয়নি। বেআইনি কারবারিরা বাধ্য হয়ে নদীতে নৌকা নামিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বালি তুলে নিচ্ছে বলে অভিযোগ। তার ফলেই নদীর বাঁধ যেমন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে পাশাপাশি কৃষি জমি ও বাগান নদীর জলে তলিয়ে যাচ্ছে। তাতে যে সমস্ত পরিবার ওই জমিগুলোতে চাষ বাস করে জীবন জীবিকা নির্ভর করে তাদেরকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে দাবি। গত বছর নানুরের অজয় নদীর তীরবর্তী গ্রাম সুন্দরপুর নদীর জলে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় গ্রামবাসীদের দাবি ছিল বেআইনিভাবে নদীর পাড় কেটে বালি নেওয়ার ফলে ওই  বিপর্যয় ঘটে গিয়েছিল। শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম রাসবন প্রধান  স্বামী সারদাআত্মানন্দ মহারাজ বলেন,” গ্রামবাসীরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে একে একে চাষের জমি, বাগান নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে। পাশাপাশি আশ্রমের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে”।  জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক অসীম পাল বলেন,” লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্লক প্রশাসন ও ব্লক ও ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”।