১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, রবিবার, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের জন্য দেশকে পথ দেখাবে বাংলা

৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমি দাস ও ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট রতন দের উদ্যোগে একটি ইফতার মজলিশ। উপস্থিত রয়েছেন উদ্যোক্তা সহ স্থানীয় বিধায়ক দেবাশিস কুমার, আহমদ হাসান ইমরান, আবু তাহের সরদার ,মুফতি মানজার আলম সহ প্রমুখ।

https://youtu.be/gdS0qHXJM8A

পুবের কলম প্রতিবেদক ­: এক সময় সাউথ সিটি, লেক গার্ডেন্স, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড এলাকায় মুসলিম বসতি ছিল। মহিশূরের টিপু সুলতান মারা যাওয়ার পর ইংরেজরা মনে করেছিল তাঁকে কেন্দ্র করে ফের ইংরেজ বিরোধী শক্তি মাথাচাঁড়া দিতে পারে। তাই তার বংশধরদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। টিপুর সেই বংশধররা প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের আশেপাশে অনেক মসজিদ-মাজার প্রতিষ্ঠা করেন। পরে দেশভাগ হলে এই অঞ্চল মুসলিমশূন্য হয়ে পড়ে। এখানে বর্তমানে প্রায় ৩৬০টি পরিবার বসবাস করেন। রয়েছে দু’টি মসজিদ ও একটি কবরস্থান। হিন্দুদের মধ্যে মিলেমিশে থাকেন মুসলিমরা। তাদের নিয়েই বিশেষ ইফতার মজলিশের আয়োজন করেন কলকাতার ৯৩ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমী দাস। এই মহতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক দেবাশিস কুমার, রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আবু তাহের সরদার, কাউন্সিলর মৌসুমী দাস, রতন দে, রহিম বক্স ওস্তাগার মসজিদের ইমাম মুফতি মানজার আলম প্রমুখ।

আরও পড়ুন: ভগবত গীতাই দেশের ‘আসল সংবিধান’: বির্তকে অন্ধ্রের উপমুখ্যমন্ত্রী, ‘অবুঝ’ বলল কংগ্রেস

এ দিনের ইফতার মজলিশে আহমদ হাসান ইমরান তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে স্থানীয় কাউন্সিলর ও বিধায়কের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে অল্পসংখ্যক মুসলিম বসবাস করেন, কিন্তু আপনারা বুঝতেই দেন না কে সংখ্যালঘু আর কে সংখ্যাগুরু। তাই আমরা এখানে ইফতার করতে সমবেত হয়েছিল। এটি সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রমযান উপলক্ষ্যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সারাদিন আমরা না খেয়ে রোযা করে থাকি। এই রোযা রেখে যদি মিথ্যা কথা বলি বা খারাপ কাজ করি তাহলে আমাদের রোযা হবে না। তাই আমাদের এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আল্লাহ্তায়ালা যাতে সকলের রোযা কবুল করেন সেই প্রার্থনাও করেন তিনি।

আরও পড়ুন: SIR-এ বাংলার ১ কোটি ভুয়ো ভোটার বাদ যাবে: শুভেন্দু

অন্যদিকে দেবাশিস কুমার বলেন, আমরা ইফতার মজলিসে যেমন যাই, তেমনি দুর্গাপুজার মণ্ডপেও সবাই যাই। সবাই মিলেমিশে থাকতে ভালোবাসি। এটাই বাংলার ঐতিহ্য। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, রামনবমীর মিছিলে যেভাবে অন্যান্য রাজ্যে সংখ্যলঘুদের উপর আক্রমণ হয়েছে, তার বিপরীতে বাংলায় সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করছেন। এটাই তো পার্থক্য। গোখলের কথা ধরে বলতেই হবে বাংলার সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্ব দেশকে পথ দেখাবে। রতন দে, আবু তাহের সরদার সকলেই ইফতার মজলিশের গুরুত্ব ও সম্প্রীতির উপর কথা বলেন।

আরও পড়ুন: আগামীকাল ঘোষণা বাংলায় এসআইআর-এর দিনক্ষণ, প্রস্তুতিতে রবিবারও খোলা সিইও অফিস

 

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ওপর আইসিসের হামলার জবাব দেওয়া হবে: ট্রাম্প

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের জন্য দেশকে পথ দেখাবে বাংলা

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২২, সোমবার

https://youtu.be/gdS0qHXJM8A

পুবের কলম প্রতিবেদক ­: এক সময় সাউথ সিটি, লেক গার্ডেন্স, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড এলাকায় মুসলিম বসতি ছিল। মহিশূরের টিপু সুলতান মারা যাওয়ার পর ইংরেজরা মনে করেছিল তাঁকে কেন্দ্র করে ফের ইংরেজ বিরোধী শক্তি মাথাচাঁড়া দিতে পারে। তাই তার বংশধরদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। টিপুর সেই বংশধররা প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের আশেপাশে অনেক মসজিদ-মাজার প্রতিষ্ঠা করেন। পরে দেশভাগ হলে এই অঞ্চল মুসলিমশূন্য হয়ে পড়ে। এখানে বর্তমানে প্রায় ৩৬০টি পরিবার বসবাস করেন। রয়েছে দু’টি মসজিদ ও একটি কবরস্থান। হিন্দুদের মধ্যে মিলেমিশে থাকেন মুসলিমরা। তাদের নিয়েই বিশেষ ইফতার মজলিশের আয়োজন করেন কলকাতার ৯৩ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমী দাস। এই মহতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক দেবাশিস কুমার, রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আবু তাহের সরদার, কাউন্সিলর মৌসুমী দাস, রতন দে, রহিম বক্স ওস্তাগার মসজিদের ইমাম মুফতি মানজার আলম প্রমুখ।

আরও পড়ুন: ভগবত গীতাই দেশের ‘আসল সংবিধান’: বির্তকে অন্ধ্রের উপমুখ্যমন্ত্রী, ‘অবুঝ’ বলল কংগ্রেস

এ দিনের ইফতার মজলিশে আহমদ হাসান ইমরান তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে স্থানীয় কাউন্সিলর ও বিধায়কের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে অল্পসংখ্যক মুসলিম বসবাস করেন, কিন্তু আপনারা বুঝতেই দেন না কে সংখ্যালঘু আর কে সংখ্যাগুরু। তাই আমরা এখানে ইফতার করতে সমবেত হয়েছিল। এটি সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রমযান উপলক্ষ্যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সারাদিন আমরা না খেয়ে রোযা করে থাকি। এই রোযা রেখে যদি মিথ্যা কথা বলি বা খারাপ কাজ করি তাহলে আমাদের রোযা হবে না। তাই আমাদের এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আল্লাহ্তায়ালা যাতে সকলের রোযা কবুল করেন সেই প্রার্থনাও করেন তিনি।

আরও পড়ুন: SIR-এ বাংলার ১ কোটি ভুয়ো ভোটার বাদ যাবে: শুভেন্দু

অন্যদিকে দেবাশিস কুমার বলেন, আমরা ইফতার মজলিসে যেমন যাই, তেমনি দুর্গাপুজার মণ্ডপেও সবাই যাই। সবাই মিলেমিশে থাকতে ভালোবাসি। এটাই বাংলার ঐতিহ্য। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, রামনবমীর মিছিলে যেভাবে অন্যান্য রাজ্যে সংখ্যলঘুদের উপর আক্রমণ হয়েছে, তার বিপরীতে বাংলায় সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করছেন। এটাই তো পার্থক্য। গোখলের কথা ধরে বলতেই হবে বাংলার সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্ব দেশকে পথ দেখাবে। রতন দে, আবু তাহের সরদার সকলেই ইফতার মজলিশের গুরুত্ব ও সম্প্রীতির উপর কথা বলেন।

আরও পড়ুন: আগামীকাল ঘোষণা বাংলায় এসআইআর-এর দিনক্ষণ, প্রস্তুতিতে রবিবারও খোলা সিইও অফিস