১৫ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘একটু জল দাও’  ‘আমি নির্দোষ’,   বিহারে চোর সন্দেহে পিটিয়ে খুন করা হল ১৬ বছরের কিশোরকে

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  একটু জল দাও। তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। বিশ্বাস করুন আমি কিছু করিনি। আমি নির্দোষ। আমি তোমাদের দোকানের ক্ষতি  করিনি। পিপাসার্তকে জল দেওয়া তো দূরের কথা, সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে তার ওপর অকথ্য অত্যাচার চালায় অভিযুক্তরা।

 

কথা হচ্ছে বিহারের ভোজপুর জেলার তারারি থানার অন্তর্গত বাদকা গাঁও গ্রামের। চোর সন্দেহে বিহারে খুন করা হল বছর ১৬ যুবককে। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করেছে। আরও এক জন অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।

 

READ MORE: শ্রীনগর, অনন্তনাগে জোড়া অভিযান-নিহত ২ জঙ্গি, আহত নিরাপত্তা কর্মী

 

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দোকান মালিক জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর ২ টো নাগাদ তাঁর দোকানে চুরির মতলবে ঘুরঘুর করছিল ওই কিশোর। ফাঁক ফেলেই চুরি করত। তাই রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেটানো হয় তাকে। দোকানের মালিকের আরও দাবি, তিনি ওই  কিশোরকে রাতের অন্ধকারে দোকান ভাঙার চেষ্টা করতে দেখেছেন।

 

মৃতের ভাই পুলিশকে জানিয়েছে, চোর সন্দেহে তার দাদাকে নির্বিচারে মারধর করছিল ৪-৫ জন।

 

মার খেতে খেতে গলা শুকিয়ে গিয়েছিল দাদার। সে চিৎকার করে বলতে থাকে আমি চুরি করার মতলবে ঘুরিনি। একটু জল দাও। কিন্তু তা-ও তাকে দেওয়া হয়নি। মৃতের ভাই চিৎকার করে গ্রামের লোকজনকে জড়ো করেছিল।

গ্রামের কয়েকজন চেষ্টা করেও তাদের থামাতে পারেনি।

 

মার খেয়ে কিশোর যখন প্রায় অর্ধমৃত, তখন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দোকানের মালিক এবং বাকিরা তার পর পুলিশে খবর দেন। চোর হিসাবে কিশোরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ আহত কিশোরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

 

এর পরেই মৃতের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।

 

অভিযুক্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মুদির দোকানের মালিক প্রকাশ শর্মা অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম। অন্য ধৃতেরা হলেন অভিষেক শর্মা, দীপক শর্মা এবং ছোটু শর্মা।

 

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

নিউ আলিপুর-সহ পাঁচ জায়গায় ভোর থেকে সিবিআইয়ের তল্লাশি, মোতায়েন বাড়তি বাহিনী

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

‘একটু জল দাও’  ‘আমি নির্দোষ’,   বিহারে চোর সন্দেহে পিটিয়ে খুন করা হল ১৬ বছরের কিশোরকে

আপডেট : ২ নভেম্বর ২০২৪, শনিবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  একটু জল দাও। তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। বিশ্বাস করুন আমি কিছু করিনি। আমি নির্দোষ। আমি তোমাদের দোকানের ক্ষতি  করিনি। পিপাসার্তকে জল দেওয়া তো দূরের কথা, সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে তার ওপর অকথ্য অত্যাচার চালায় অভিযুক্তরা।

 

কথা হচ্ছে বিহারের ভোজপুর জেলার তারারি থানার অন্তর্গত বাদকা গাঁও গ্রামের। চোর সন্দেহে বিহারে খুন করা হল বছর ১৬ যুবককে। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করেছে। আরও এক জন অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।

 

READ MORE: শ্রীনগর, অনন্তনাগে জোড়া অভিযান-নিহত ২ জঙ্গি, আহত নিরাপত্তা কর্মী

 

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দোকান মালিক জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর ২ টো নাগাদ তাঁর দোকানে চুরির মতলবে ঘুরঘুর করছিল ওই কিশোর। ফাঁক ফেলেই চুরি করত। তাই রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেটানো হয় তাকে। দোকানের মালিকের আরও দাবি, তিনি ওই  কিশোরকে রাতের অন্ধকারে দোকান ভাঙার চেষ্টা করতে দেখেছেন।

 

মৃতের ভাই পুলিশকে জানিয়েছে, চোর সন্দেহে তার দাদাকে নির্বিচারে মারধর করছিল ৪-৫ জন।

 

মার খেতে খেতে গলা শুকিয়ে গিয়েছিল দাদার। সে চিৎকার করে বলতে থাকে আমি চুরি করার মতলবে ঘুরিনি। একটু জল দাও। কিন্তু তা-ও তাকে দেওয়া হয়নি। মৃতের ভাই চিৎকার করে গ্রামের লোকজনকে জড়ো করেছিল।

গ্রামের কয়েকজন চেষ্টা করেও তাদের থামাতে পারেনি।

 

মার খেয়ে কিশোর যখন প্রায় অর্ধমৃত, তখন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দোকানের মালিক এবং বাকিরা তার পর পুলিশে খবর দেন। চোর হিসাবে কিশোরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ আহত কিশোরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

 

এর পরেই মৃতের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।

 

অভিযুক্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মুদির দোকানের মালিক প্রকাশ শর্মা অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম। অন্য ধৃতেরা হলেন অভিষেক শর্মা, দীপক শর্মা এবং ছোটু শর্মা।