১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র: হয়রানি ঘোচাতে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবটে বদল আনছে পুরসভা

রক্তিমা দাস: নাগরিকদের সুবিধার্থে অনালাইনে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার পরিষেবা চালু করেছিল কলকাতা পুরসভা। তবে নতুন এই পরিষেবা সুবিধার বদলে বিড়ম্বনার কারণ হচ্ছিল অনেকের ক্ষেত্রে। অনেক বছর আগে মারা গিয়েছেন এমন ব্যক্তির মৃত্যুর শংসাপত্রর কপি তুলতে পারছিলেন না তাঁর পরিবার। কারণ অনলাইন পরিষেবায় যে পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে, মৃত ব্যক্তির জীবদ্দশায় সরকারি ক্ষেত্রে সেই পদ্ধতিই চালু হয়নি। ইতিমধ্যেই এই ধরনের একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে কলকাতা পুরসভায়। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে নতুন ভাবনাচিন্তা করেছে কলকাতা পুরসভা। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট আপডেট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।

 

বাড়ি বসেই জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র পাওয়ার জন্য, ৮৩৩৫৯৯৯১১১ এই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট চালু করেছিল কলকাতা পুরসভা। বলা হয়েছিল এই চ্যাটবটের মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ছাড়াও একাধিক পরিষেবা পাবেন কলকাতার নাগরিকরা। প্রথমে এই নম্বরে পিং করলে একটা তালিকা পাঠানো হয়। সেখানে নাগরিকরা নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী অপশন বেছে নেন। সেখানে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রর জন্য আবেদন জানানো হলে ওই ব্যক্তির আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা এই জাতীয় সরকারি পরিচয়পত্র চাওয়া হয়ে থাকে। তা সাবমিট করলেই তবেই শংসাপত্র হাতে আসে। এখানেই শুরু হয়েছিল সমস্যা।

জানা গিয়েছে, পুরসভার কাছে এমন অভিযোগ আসে যে, অনেকেই কোনও প্রয়োজনে তাঁদের পরিবারের বরিষ্ঠ কারুর মৃত্যু শংসাপত্রর কপি তুলতে পারছেন না। কারণ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবটে মৃত ব্যক্তির পরিচয়পত্রের যে অপশন দেখানো হচ্ছে, তার কোনওটাই ওই ব্যক্তির আমলে ছিল না। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই গুরত্ব বুঝে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, সিদ্ধান্ত হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট আপডেট করে সেখানে একটি এডিট অপশন রাখা হবে। মৃত্যু শংসাপত্রের ক্ষেত্রে যাঁদের কোনও পরিচয়পত্র নেই, নতুন সেই অপশনে গিয়ে তার কারণ উল্লেখ করে শংসাপত্রের জন্য আবেদন করতে পারবে তার পরিবার।

উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার জন্ম-মৃত্যু বিভাগে প্রতিদিনই সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন ভিড় জমাতেন। কারও প্রয়োজন জন্ম শংসাপত্র, কারও প্রয়োজন পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু শংসাপত্র। এই গোটা প্রক্রিয়া সারতে সময় লাগে বেশ খানিকক্ষণ। বিভাগে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। সেই ভিড়ের মধ্যেই কাজ করতে করতেই একাধিক কর্মী আক্রান্ত হয়ে পড়েন করোনায়। এরপরেই ভিড় এড়াতে নাগরিকদের সুবিধায় হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট চালু করে কলকাতা পুরসভা। সেখানে নির্দিষ্ট পরিষেবা চেয়ে লিখে পাঠালে আপনি কী পরিষেবা নিতে চান, তা ফুটে উঠবে। জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্রের অপশনে গিয়ে ক্লিক করলে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট স্লট। সেই অনুযায়ী স্লট বুক করে আবেদনকারী নির্দিষ্ট দিনে এসে পেয়ে যান শংসাপত্র।

সর্বধিক পাঠিত

রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নামের আগে ‘স্বামী’ শব্দ ব্যবহার প্রধানমন্ত্রীর, ‘বাংলাকে অপমান’ গর্জে উঠলেন মমতা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র: হয়রানি ঘোচাতে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবটে বদল আনছে পুরসভা

আপডেট : ১০ জুন ২০২২, শুক্রবার

রক্তিমা দাস: নাগরিকদের সুবিধার্থে অনালাইনে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার পরিষেবা চালু করেছিল কলকাতা পুরসভা। তবে নতুন এই পরিষেবা সুবিধার বদলে বিড়ম্বনার কারণ হচ্ছিল অনেকের ক্ষেত্রে। অনেক বছর আগে মারা গিয়েছেন এমন ব্যক্তির মৃত্যুর শংসাপত্রর কপি তুলতে পারছিলেন না তাঁর পরিবার। কারণ অনলাইন পরিষেবায় যে পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে, মৃত ব্যক্তির জীবদ্দশায় সরকারি ক্ষেত্রে সেই পদ্ধতিই চালু হয়নি। ইতিমধ্যেই এই ধরনের একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে কলকাতা পুরসভায়। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে নতুন ভাবনাচিন্তা করেছে কলকাতা পুরসভা। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট আপডেট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।

 

বাড়ি বসেই জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র পাওয়ার জন্য, ৮৩৩৫৯৯৯১১১ এই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট চালু করেছিল কলকাতা পুরসভা। বলা হয়েছিল এই চ্যাটবটের মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ছাড়াও একাধিক পরিষেবা পাবেন কলকাতার নাগরিকরা। প্রথমে এই নম্বরে পিং করলে একটা তালিকা পাঠানো হয়। সেখানে নাগরিকরা নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী অপশন বেছে নেন। সেখানে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রর জন্য আবেদন জানানো হলে ওই ব্যক্তির আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা এই জাতীয় সরকারি পরিচয়পত্র চাওয়া হয়ে থাকে। তা সাবমিট করলেই তবেই শংসাপত্র হাতে আসে। এখানেই শুরু হয়েছিল সমস্যা।

জানা গিয়েছে, পুরসভার কাছে এমন অভিযোগ আসে যে, অনেকেই কোনও প্রয়োজনে তাঁদের পরিবারের বরিষ্ঠ কারুর মৃত্যু শংসাপত্রর কপি তুলতে পারছেন না। কারণ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবটে মৃত ব্যক্তির পরিচয়পত্রের যে অপশন দেখানো হচ্ছে, তার কোনওটাই ওই ব্যক্তির আমলে ছিল না। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই গুরত্ব বুঝে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, সিদ্ধান্ত হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট আপডেট করে সেখানে একটি এডিট অপশন রাখা হবে। মৃত্যু শংসাপত্রের ক্ষেত্রে যাঁদের কোনও পরিচয়পত্র নেই, নতুন সেই অপশনে গিয়ে তার কারণ উল্লেখ করে শংসাপত্রের জন্য আবেদন করতে পারবে তার পরিবার।

উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার জন্ম-মৃত্যু বিভাগে প্রতিদিনই সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন ভিড় জমাতেন। কারও প্রয়োজন জন্ম শংসাপত্র, কারও প্রয়োজন পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু শংসাপত্র। এই গোটা প্রক্রিয়া সারতে সময় লাগে বেশ খানিকক্ষণ। বিভাগে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। সেই ভিড়ের মধ্যেই কাজ করতে করতেই একাধিক কর্মী আক্রান্ত হয়ে পড়েন করোনায়। এরপরেই ভিড় এড়াতে নাগরিকদের সুবিধায় হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট চালু করে কলকাতা পুরসভা। সেখানে নির্দিষ্ট পরিষেবা চেয়ে লিখে পাঠালে আপনি কী পরিষেবা নিতে চান, তা ফুটে উঠবে। জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্রের অপশনে গিয়ে ক্লিক করলে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট স্লট। সেই অনুযায়ী স্লট বুক করে আবেদনকারী নির্দিষ্ট দিনে এসে পেয়ে যান শংসাপত্র।