২১ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মামলা চলার মধ্যেই ওয়াকফ রুল চালু করে বিজ্ঞপ্তি দিল কেন্দ্র

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : কেন্দ্রীয় সরকার জুলাইয়ের ৩ তারিখ থেকে ওয়াকফ পরিচালনা, ক্ষমতায়ন, কর্মদক্ষতা এবং উন্নয়ন রুলস এর বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিল। ২০২৫ সালের এই রুল অনুযায়ী ওয়াকফ পোর্টাল চালু হবে এবং ওয়াকফ এর আওতায় কোথায় কত সম্পত্তি রয়েছে তার তালিকা তৈরি করা হবে। কীভাবে তা নথিবদ্ধ হয়েছে, অডিট রিপোর্ট এবং নিয়মিত হিসেব দেওয়া হবে। ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের ১০৮(খ) ধারা মেনে এই রুল তৈরি করা হয়েছে।

ওয়াকফ আইনের ২০২৫ এর সংশোধনীতে এই রুল যুক্ত করা হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে এই আইন কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে মামলার পর আদালত যে সব প্রশ্ন তুলেছিল সেইগুলি কার্যকর করা স্থগিত রেখে কেন্দ্র কৌশলে নতুন আইন চালু করে দিয়েছে বলেই আইন বাস্তবায়ন করতে রুল চালু করতে পারল। সুপ্রিম কোর্ট কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। ওই ১০৮(খ) ধারায় বলা হয়েছে, কেন্দ্র ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনায় আইন করতে পারে।

এছাড়া ওয়াকফ সম্পত্তির রেজিষ্ট্রেশন, অ্যাকাউন্ট, অডিট নিয়ে এবং কীভাবে বিধবাদের, বিবাহ বিচ্ছিন্নদের ও অনাথদের অর্থ দেওয়া হবে, সেই ব্যাপারেও আইন করা যাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সংখ্যালঘু মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব এই পোর্টাল দেখাশোনা এবং পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে দায়বদ্ধ থাকবেন। পোর্টাল এবং ডেটাবেস প্রতিটি ওয়াকফ সম্পত্তির জন্য স্বতন্ত্র ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দেবে। যে নম্বর দিলেই যাবতীয় তথ্য জানা যাবে।

এছাড়া প্রত্যেক রাজ্য সরকার একজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করবে, যিনি পদমর্যাদায় যেন যুগ্ম সচিবের অধস্তন না হন। এইভাবে এক কেন্দ্রীভূত সহায়ক কেন্দ্র গড়া হবে। কেন্দ্রের সঙ্গে পরামর্শ করে যাবতীয় তথ্য পোর্টালে দেওয়া যাবে। পোর্টালে প্রত্যেক মুতওল্লী ( ওয়াকফ প্রশাসক) তাঁর নাম এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করবেন। তাঁর ই-মেইল ঠিকানাও দিতে হবে। একটা পাসওয়ার্ড এর মাধ্যমে তিনি পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

কোনও সম্পত্তি ভুল করে ওয়াকফ সম্পত্তি বলে গণ্য করা হলে তা নিয়ে এক বছরের মধ্যে জেলাশাসকের পরামর্শে সরকারি অফিসার তদন্ত শেষ করবেন। সমীক্ষা হয়ে গেলে রাজ্য সরকার ওয়াকফ সম্পত্তির তালিকা প্রকাশ করবে। সেই তালিকায় থাকবে সম্পত্তির পরিচয় এবং সীমানা, কী কাজে এখন তা ব্যবহার হয় এবং কার দখলে রয়েছে, এই সম্পত্তি কবে ওয়াকফের হাতে এসেছে তার ইতিবৃত্ত, ওয়াকফ এর উদ্দেশ্য, কে তার বর্তমান মুতওল্লী তাঁর নাম। রাজ্য সরকার সরকারি গেজেট প্রকাশ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ওয়াকফ এর তালিকা তৈরি করে ফেলবে। নতুন আইন চালুর পর কোনও ওয়াকফ তৈরি হলে তা বোর্ডকে জানিয়ে তৈরির তিন মাসের মধ্যে নথিভুক্ত করতে হবে।

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

মার্কিন হামলার হুমকি, ইরান সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

মামলা চলার মধ্যেই ওয়াকফ রুল চালু করে বিজ্ঞপ্তি দিল কেন্দ্র

আপডেট : ৪ জুলাই ২০২৫, শুক্রবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক : কেন্দ্রীয় সরকার জুলাইয়ের ৩ তারিখ থেকে ওয়াকফ পরিচালনা, ক্ষমতায়ন, কর্মদক্ষতা এবং উন্নয়ন রুলস এর বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিল। ২০২৫ সালের এই রুল অনুযায়ী ওয়াকফ পোর্টাল চালু হবে এবং ওয়াকফ এর আওতায় কোথায় কত সম্পত্তি রয়েছে তার তালিকা তৈরি করা হবে। কীভাবে তা নথিবদ্ধ হয়েছে, অডিট রিপোর্ট এবং নিয়মিত হিসেব দেওয়া হবে। ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের ১০৮(খ) ধারা মেনে এই রুল তৈরি করা হয়েছে।

ওয়াকফ আইনের ২০২৫ এর সংশোধনীতে এই রুল যুক্ত করা হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে এই আইন কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে মামলার পর আদালত যে সব প্রশ্ন তুলেছিল সেইগুলি কার্যকর করা স্থগিত রেখে কেন্দ্র কৌশলে নতুন আইন চালু করে দিয়েছে বলেই আইন বাস্তবায়ন করতে রুল চালু করতে পারল। সুপ্রিম কোর্ট কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। ওই ১০৮(খ) ধারায় বলা হয়েছে, কেন্দ্র ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনায় আইন করতে পারে।

এছাড়া ওয়াকফ সম্পত্তির রেজিষ্ট্রেশন, অ্যাকাউন্ট, অডিট নিয়ে এবং কীভাবে বিধবাদের, বিবাহ বিচ্ছিন্নদের ও অনাথদের অর্থ দেওয়া হবে, সেই ব্যাপারেও আইন করা যাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সংখ্যালঘু মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব এই পোর্টাল দেখাশোনা এবং পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে দায়বদ্ধ থাকবেন। পোর্টাল এবং ডেটাবেস প্রতিটি ওয়াকফ সম্পত্তির জন্য স্বতন্ত্র ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দেবে। যে নম্বর দিলেই যাবতীয় তথ্য জানা যাবে।

এছাড়া প্রত্যেক রাজ্য সরকার একজন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করবে, যিনি পদমর্যাদায় যেন যুগ্ম সচিবের অধস্তন না হন। এইভাবে এক কেন্দ্রীভূত সহায়ক কেন্দ্র গড়া হবে। কেন্দ্রের সঙ্গে পরামর্শ করে যাবতীয় তথ্য পোর্টালে দেওয়া যাবে। পোর্টালে প্রত্যেক মুতওল্লী ( ওয়াকফ প্রশাসক) তাঁর নাম এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করবেন। তাঁর ই-মেইল ঠিকানাও দিতে হবে। একটা পাসওয়ার্ড এর মাধ্যমে তিনি পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

কোনও সম্পত্তি ভুল করে ওয়াকফ সম্পত্তি বলে গণ্য করা হলে তা নিয়ে এক বছরের মধ্যে জেলাশাসকের পরামর্শে সরকারি অফিসার তদন্ত শেষ করবেন। সমীক্ষা হয়ে গেলে রাজ্য সরকার ওয়াকফ সম্পত্তির তালিকা প্রকাশ করবে। সেই তালিকায় থাকবে সম্পত্তির পরিচয় এবং সীমানা, কী কাজে এখন তা ব্যবহার হয় এবং কার দখলে রয়েছে, এই সম্পত্তি কবে ওয়াকফের হাতে এসেছে তার ইতিবৃত্ত, ওয়াকফ এর উদ্দেশ্য, কে তার বর্তমান মুতওল্লী তাঁর নাম। রাজ্য সরকার সরকারি গেজেট প্রকাশ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ওয়াকফ এর তালিকা তৈরি করে ফেলবে। নতুন আইন চালুর পর কোনও ওয়াকফ তৈরি হলে তা বোর্ডকে জানিয়ে তৈরির তিন মাসের মধ্যে নথিভুক্ত করতে হবে।