০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কায় বদল, শুনানির ফয়সালা হবে সঙ্গে সঙ্গেই

অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারির প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশনের

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বে আর দেরি নয়—এবার সঙ্গে সঙ্গেই নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও সহকারী ইআরওদের (এইআরও) এখন শুনানির দিনই ভোটারদের জমা দেওয়া নথি যাচাই করে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করতে হবে।

নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, শুনানিতে ভোটাররা যে নথি জমা দেবেন, তা আর ফেলে রাখা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গেই ভেরিফিকেশন করে ইআরওনেটে আপলোড করতে হবে। প্রয়োজনে এইআরওরাও নথি যাচাইয়ের কাজ করতে পারবেন, যাতে শুনানি দ্রুত শেষ করা যায়। এর আগে শুনানির পর নথি আপলোড ও যাচাইয়ের কাজ দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে থাকত। সেই সঙ্গে ভোটারদের হাতে কোনও রসিদ না থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও তৈরি হচ্ছিল। এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই কমিশন এবার শুনানিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেক ভোটারকে নথি জমা দেওয়ার রসিদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, যেসব ভোটার ইতিমধ্যেই ‘ম্যাপড’—অর্থাৎ যাদের আর শুনানির প্রয়োজন নেই—তাঁদের নাম আপলোডের কাজও দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিহার নির্বাচন বাতিল মামলা শুনলই না শীর্ষ আদালত, প্রশান্ত কিশোরের দলকে কড়া ভর্ৎসনা আদালতের

এদিকে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কমিশন এবার এ বিষয়ে স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। ওই নির্দেশিকায় ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা সন্দেহজনক ভোটারদের ক্ষেত্রে কীভাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা হবে, তার বিস্তারিত গাইডলাইন থাকবে। ইতিমধ্যেই যাঁরা শুনানিতে অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন, তাঁদের আলাদা করে চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে জেলাগুলিকে। কমিশনের এক আধিকারিকের মতে, “শুনানি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করা এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতেই এই পদক্ষেপ।” তবে বিশেষজ্ঞ মহলের ব্যাখ্যা, সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের পর বাধ্য হয়েই কমিশন এই পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।

আরও পড়ুন: ২৩ লক্ষ থেকে হঠাৎ ১৩ লক্ষ! সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় তথ্য বদল নির্বাচন কমিশনের!

এর মধ্যেই SIR প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি জোরদার করতে মঙ্গলবার আরও ১৬ জন আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে স্পেশাল রোল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁরা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূম, কোচবিহার, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও হুগলি জেলায় কাজ করবেন।

আরও পড়ুন: ‘সুবিচারের জন্য কাঁদছি’—ইতিহাস গড়ে সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল মমতার

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

ওমানের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চলবে সাফ জানাল তেহরান

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কায় বদল, শুনানির ফয়সালা হবে সঙ্গে সঙ্গেই

অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারির প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশনের

আপডেট : ২১ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বে আর দেরি নয়—এবার সঙ্গে সঙ্গেই নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও সহকারী ইআরওদের (এইআরও) এখন শুনানির দিনই ভোটারদের জমা দেওয়া নথি যাচাই করে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করতে হবে।

নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, শুনানিতে ভোটাররা যে নথি জমা দেবেন, তা আর ফেলে রাখা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গেই ভেরিফিকেশন করে ইআরওনেটে আপলোড করতে হবে। প্রয়োজনে এইআরওরাও নথি যাচাইয়ের কাজ করতে পারবেন, যাতে শুনানি দ্রুত শেষ করা যায়। এর আগে শুনানির পর নথি আপলোড ও যাচাইয়ের কাজ দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে থাকত। সেই সঙ্গে ভোটারদের হাতে কোনও রসিদ না থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও তৈরি হচ্ছিল। এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই কমিশন এবার শুনানিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেক ভোটারকে নথি জমা দেওয়ার রসিদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, যেসব ভোটার ইতিমধ্যেই ‘ম্যাপড’—অর্থাৎ যাদের আর শুনানির প্রয়োজন নেই—তাঁদের নাম আপলোডের কাজও দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিহার নির্বাচন বাতিল মামলা শুনলই না শীর্ষ আদালত, প্রশান্ত কিশোরের দলকে কড়া ভর্ৎসনা আদালতের

এদিকে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কমিশন এবার এ বিষয়ে স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। ওই নির্দেশিকায় ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা সন্দেহজনক ভোটারদের ক্ষেত্রে কীভাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা হবে, তার বিস্তারিত গাইডলাইন থাকবে। ইতিমধ্যেই যাঁরা শুনানিতে অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন, তাঁদের আলাদা করে চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে জেলাগুলিকে। কমিশনের এক আধিকারিকের মতে, “শুনানি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করা এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতেই এই পদক্ষেপ।” তবে বিশেষজ্ঞ মহলের ব্যাখ্যা, সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের পর বাধ্য হয়েই কমিশন এই পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।

আরও পড়ুন: ২৩ লক্ষ থেকে হঠাৎ ১৩ লক্ষ! সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় তথ্য বদল নির্বাচন কমিশনের!

এর মধ্যেই SIR প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি জোরদার করতে মঙ্গলবার আরও ১৬ জন আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে স্পেশাল রোল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁরা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূম, কোচবিহার, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও হুগলি জেলায় কাজ করবেন।

আরও পড়ুন: ‘সুবিচারের জন্য কাঁদছি’—ইতিহাস গড়ে সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল মমতার