জামশেদপুর: আল-কায়েদা জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছিল তিন মুসলিম ব্যক্তিকে। দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন তারা। জঙ্গি যোগের কোনও প্রমাণ দিতে না পারায় তিন মুসলিম ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়েছে আদালত। ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর শহরের অতিরিক্ত জেলা জজ (এডিজে) ভিমেশ কুমার সহায় তাদের মুক্তি দিয়েছেন।
মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন মাওলানা কলিমুদ্দিন মুজাহিদ, মাওলানা আধুল রহমান আলি খান ওরফে মাওলানা মনসুর এবং মোহাম্মদ শামি। জানা গিয়েছে, ওড়িশার কটকের মাওলানা মনসুর এবং বিস্তুপুরের ধাতকিদিহের বাসিন্দা শামি বর্তমানে ঘাঘিদিহ কেন্দ্রীয় জেলে রয়েছেন। জামশেদপুরের আজাদনগর এলাকার বাসিন্দা কলিমুদ্দিন অবশ্য জামিনে আছেন। শামিকে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে হরিয়ানার মেওয়াত থেকে একজন আলকায়দা অপারেটিভের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে মাওলানা মনসুরকে কটক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ধৃতদের বিরুদ্ধে আল-কায়েদা ‘ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস) এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। দিল্লির স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে বিস্তুপুর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে সন্দেহভাজনরা একিউআইএসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে সরকার পক্ষ বা প্রসিকিউশন এই অপরাধে তাদের জড়িত থাকার কোন প্রমাণ দিতে পারেনি আদালতে। মামলাকারীদের আইনজীবী বলাই পান্ডা বলেন, ‘প্রসিকিউশন তিন অভিযুক্তের জড়িত থাকার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন। প্রমাণের অভাবে আদালত তাদের খালাস দেয়।’
বছরের পর বছর ধরে জেলবন্দি থাকা অভিযুক্তরা অবশেষে মুক্তি পাওয়ার খবর শুনে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারগুলিতে। মাওলানা মনসুরের ভাই মুহাম্মদ তাহির বলেন, ‘আদালতের রায় বিচার বিভাগের প্রতি আমাদের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।’































