১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে কড়া নিরাপত্তায় উচ্ছেদ অভিযান জয়নগরের মজিলপুরে

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে একটি বাড়ির দখলদারির উচ্ছেদ অভিযান হয়ে গেল মঙ্গলবার কড়া পুলিশ পাহারার মধ্যে দিয়ে।

এদিন কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে জয়নগর ১ নং বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস ও জয়নগর থানার এস আই পিনাকি দাসের নেতৃত্বে পুলিশের বিশাল টিমের উপস্থিতিতে বৃহস্পতি হালদার নামে জনৈক এক বয়স্কা মহিলার বাড়ির দখলদারি উচ্ছেদ করে মথুরাপুর নিবাসী মায়ারানী মিস্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হল।আর এদিন এই উচ্ছেদ অভিযানে গন্ডগোল এড়াতে প্রচুর পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল এলাকায়।

আরও পড়ুন: রাজ্যের সব বুথে ন্যূনতম পরিকাঠামো আছে কি? নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের

এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে  জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাঁসারি পাড়া এলাকা পুরোপুরি পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ হয়ে যায়। তখন ও সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না একসাথে এত পুলিশ কেন তাদের পাড়ায়।বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে কারণ জানতে জটলা শুরু হয়।

আরও পড়ুন: চন্দ্রকোনা কাণ্ডে শুভেন্দু অধিকারীকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল হাইকোর্ট, রিপোর্ট তলব

উৎসাহী কিছু মানুষ ভীড় করে দখলদারি বাড়ি উচ্ছেদের কিছু আগে।এর পর জয়নগর ১ নং বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস ও জয়নগর থানার এস আই পিনাকি দাস ঘটনাস্থলে আসার পরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

আরও পড়ুন: আই-প্যাক ইস্যু: হাইকোর্টে শুনানি স্থগিত চাইল ইডি, ‘আমরা প্রস্তুত’ বললেন কল্যাণ

যাতে এই অভিযানে কোনো গন্ডগোল না হয় সেকারনে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।এদিন দখলকারী জনৈকা বৃহস্পতি হালদার নামে এক বয়স্কা মহিলা বলেন,দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আমি এখানে আছি। বটু মিস্ত্রী নামে এক ব্যাক্তি মাএ ১৫ টাকা মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে আমাকে এই বাড়িতে জায়গা দেয়।তার পরে উনি মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর থেকে ওনার পরিবারের তরফ থেকে আমাকে তুলে দিতে ক্রমাগত চাপ দেয়।আমি লোকের বাড়িতে ঠিকা কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাই।আমার তিন ছেলে অন্যএ থাকে। আমি এখানে একা থাকি। বার বার অনুরোধ করার পরেও আইনের মধ্যে দিয়ে আমাকে বাড়ি ছাড়া করলো। আমি এখন কোথায় থাকবো।আমাকে রাস্তায় কাটাতে হবে।আমার মতন গরীব মানুষের পাশে কেউ নেই।আমাকে সাহায্য করতে কেউ এলো না। কোনো রাজনৈতিক দলের কারুর দেখা পেলাম না। আমি কি করবো এখন।আর দখলমুক্ত করে মথুরাপুর নিবাসী মায়রানী মিস্ত্রী বলেন,দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আইনী লড়াই করে শেষ পর্যন্ত আমি আমার স্বামীর ভিটে উদ্ধার করতে পারলাম।স্বামী তখন ভালো ভেবে অল্প টাকার বিনিময়ে থাকার জায়গা করে দিয়েছিলো।কিন্তু স্বামী মারা যাবার পর থেকে ওই মহিলা ভাড়া দেওয়া তো দূরে থাক ঘরের দখল নিয়ে নিয়েছিল।তাই আইনি পথে আমি দখল মুক্ত করলাম। এর জন্য পুলিশ প্রশাসন ও আদালতকে ধন্যবাদ জানাই।

 

সর্বধিক পাঠিত

সন্দেহ বাংলাদেশি: অবৈধ বসবাসের অভিযোগে ১১ জন মহিলাকে আটক মহারাষ্ট্র পুলিশের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে কড়া নিরাপত্তায় উচ্ছেদ অভিযান জয়নগরের মজিলপুরে

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৩, বুধবার

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে একটি বাড়ির দখলদারির উচ্ছেদ অভিযান হয়ে গেল মঙ্গলবার কড়া পুলিশ পাহারার মধ্যে দিয়ে।

এদিন কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে জয়নগর ১ নং বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস ও জয়নগর থানার এস আই পিনাকি দাসের নেতৃত্বে পুলিশের বিশাল টিমের উপস্থিতিতে বৃহস্পতি হালদার নামে জনৈক এক বয়স্কা মহিলার বাড়ির দখলদারি উচ্ছেদ করে মথুরাপুর নিবাসী মায়ারানী মিস্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হল।আর এদিন এই উচ্ছেদ অভিযানে গন্ডগোল এড়াতে প্রচুর পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল এলাকায়।

আরও পড়ুন: রাজ্যের সব বুথে ন্যূনতম পরিকাঠামো আছে কি? নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের

এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে  জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাঁসারি পাড়া এলাকা পুরোপুরি পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ হয়ে যায়। তখন ও সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না একসাথে এত পুলিশ কেন তাদের পাড়ায়।বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে কারণ জানতে জটলা শুরু হয়।

আরও পড়ুন: চন্দ্রকোনা কাণ্ডে শুভেন্দু অধিকারীকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল হাইকোর্ট, রিপোর্ট তলব

উৎসাহী কিছু মানুষ ভীড় করে দখলদারি বাড়ি উচ্ছেদের কিছু আগে।এর পর জয়নগর ১ নং বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস ও জয়নগর থানার এস আই পিনাকি দাস ঘটনাস্থলে আসার পরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

আরও পড়ুন: আই-প্যাক ইস্যু: হাইকোর্টে শুনানি স্থগিত চাইল ইডি, ‘আমরা প্রস্তুত’ বললেন কল্যাণ

যাতে এই অভিযানে কোনো গন্ডগোল না হয় সেকারনে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।এদিন দখলকারী জনৈকা বৃহস্পতি হালদার নামে এক বয়স্কা মহিলা বলেন,দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আমি এখানে আছি। বটু মিস্ত্রী নামে এক ব্যাক্তি মাএ ১৫ টাকা মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে আমাকে এই বাড়িতে জায়গা দেয়।তার পরে উনি মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর থেকে ওনার পরিবারের তরফ থেকে আমাকে তুলে দিতে ক্রমাগত চাপ দেয়।আমি লোকের বাড়িতে ঠিকা কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাই।আমার তিন ছেলে অন্যএ থাকে। আমি এখানে একা থাকি। বার বার অনুরোধ করার পরেও আইনের মধ্যে দিয়ে আমাকে বাড়ি ছাড়া করলো। আমি এখন কোথায় থাকবো।আমাকে রাস্তায় কাটাতে হবে।আমার মতন গরীব মানুষের পাশে কেউ নেই।আমাকে সাহায্য করতে কেউ এলো না। কোনো রাজনৈতিক দলের কারুর দেখা পেলাম না। আমি কি করবো এখন।আর দখলমুক্ত করে মথুরাপুর নিবাসী মায়রানী মিস্ত্রী বলেন,দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আইনী লড়াই করে শেষ পর্যন্ত আমি আমার স্বামীর ভিটে উদ্ধার করতে পারলাম।স্বামী তখন ভালো ভেবে অল্প টাকার বিনিময়ে থাকার জায়গা করে দিয়েছিলো।কিন্তু স্বামী মারা যাবার পর থেকে ওই মহিলা ভাড়া দেওয়া তো দূরে থাক ঘরের দখল নিয়ে নিয়েছিল।তাই আইনি পথে আমি দখল মুক্ত করলাম। এর জন্য পুলিশ প্রশাসন ও আদালতকে ধন্যবাদ জানাই।