১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজও জৌলুস হারায়নি জয়নগর মিএ বাড়ির তিনশো বছরের দুর্গাপুজো

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর : দেখতে দেখতে জয়নগর মিত্র বাড়ির পুজো ৩০০ বছরে পা দিল এবারে।দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার অন্তর্গত জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডের মাঝের মিত্র বাড়ির পুজো এ বছরে ৩০০ বছরে পদার্পণ করলো।তাদের পুজো শুরু হয়েছিল কৃষ্ণমোহন মিত্রের আমল থেকে। কৃষ্ণমোহন মিত্র ইংরেজ সরকারের কাছে কাজ করতেন।পাশা পাশি ইংরেজ দের কাছ থেকে তিনি জমিদার স্বীকৃতি পান। তারপর থেকেই জয়নগরে জমিদারিত্ব বিস্তার লাভ। এই জমিদারিত্বে সেই থেকেই পুজো চলে আসছে।

চাকচিক্য আলোর রোশনায় ভরে উঠত চারিদিক। সেই সকল এখন অতীত জমিদারিত্ব হারিয়ে গিয়েছে। কিন্তু মা দুর্গার পুজা রীতি মেনে হয়ে আসছে কিন্তু অর্থের অভাবে পুজোর উপাচারে ভাটা পড়েনি এখনো। কিন্তু জৌলুষ চাকচিক্যে ভাটা পড়ে গিয়েছে । জমিদারিত্ব ছিল তৎকালীন সময়ে মানুষদের কে ভুরিভোজ দিত সেই সকল এখন ভাটা পড়ে গিয়েছে। কর্মসূত্রে এই মিত্র বাড়ির সদস্যরা কেউ কলকাতায় থাকে বা কেউ কলকাতার বাইরে থাকে।

কিন্তু পুজোর সময় পঞ্চমীর দিন সকলেই এই দুর্গা পুজোয় অংশ গ্রহণ করে। মিত্র বাড়ির দুর্গা পুজো একটি কাঠামা তিন চালা লক্ষ্মী, গণেশ এক চালা ,কার্তিক ,সরস্বতী এক চালা, মা দুর্গা এক চালা, এই তিন চালা মিলিয়ে এক কাঠামা, মিত্র বাড়ির যিনি মৃৎশিল্পী রয়েছেন তিনি বংশ পরস্পর এই মিত্র বাড়ির মা দুর্গা মূর্তি তৈরি করে আসছেন,তৎকালীন সময়ে পুজো চলতো টানা একমাস আগে থেকে মায়ের বোধন শুরু হতো আর এক মাস ধরে পুজোর চলে আসতো এবং বাড়িতে আলোর রসনাই করার জন্য তৎকালীন সময়ে হ্যাচাক লাইট ব্যবহার করত।

আর এখন পুজো চলে পঞ্চমী থেকে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে পুজো দশমীর দিন দুপুরে প্রতিমা বিসর্জন হয়। মিত্র বাড়ির পুজো হয় বুদ্ধ মতে।আর এই পুজোর প্রতিমা দেখতে আসতে হবে শিয়ালদহ দক্ষিন শাখার নামখানা লোকালের জয়নগর মজিলপুর স্টেশন থেকে গাড়ি যোগে ১০ মিনিট মিএপাড়াতে আসতে হবে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

সন্দেহ বাংলাদেশি: অবৈধ বসবাসের অভিযোগে ১১ জন মহিলাকে আটক মহারাষ্ট্র পুলিশের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

আজও জৌলুস হারায়নি জয়নগর মিএ বাড়ির তিনশো বছরের দুর্গাপুজো

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৩, রবিবার

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর : দেখতে দেখতে জয়নগর মিত্র বাড়ির পুজো ৩০০ বছরে পা দিল এবারে।দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থানার অন্তর্গত জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডের মাঝের মিত্র বাড়ির পুজো এ বছরে ৩০০ বছরে পদার্পণ করলো।তাদের পুজো শুরু হয়েছিল কৃষ্ণমোহন মিত্রের আমল থেকে। কৃষ্ণমোহন মিত্র ইংরেজ সরকারের কাছে কাজ করতেন।পাশা পাশি ইংরেজ দের কাছ থেকে তিনি জমিদার স্বীকৃতি পান। তারপর থেকেই জয়নগরে জমিদারিত্ব বিস্তার লাভ। এই জমিদারিত্বে সেই থেকেই পুজো চলে আসছে।

চাকচিক্য আলোর রোশনায় ভরে উঠত চারিদিক। সেই সকল এখন অতীত জমিদারিত্ব হারিয়ে গিয়েছে। কিন্তু মা দুর্গার পুজা রীতি মেনে হয়ে আসছে কিন্তু অর্থের অভাবে পুজোর উপাচারে ভাটা পড়েনি এখনো। কিন্তু জৌলুষ চাকচিক্যে ভাটা পড়ে গিয়েছে । জমিদারিত্ব ছিল তৎকালীন সময়ে মানুষদের কে ভুরিভোজ দিত সেই সকল এখন ভাটা পড়ে গিয়েছে। কর্মসূত্রে এই মিত্র বাড়ির সদস্যরা কেউ কলকাতায় থাকে বা কেউ কলকাতার বাইরে থাকে।

কিন্তু পুজোর সময় পঞ্চমীর দিন সকলেই এই দুর্গা পুজোয় অংশ গ্রহণ করে। মিত্র বাড়ির দুর্গা পুজো একটি কাঠামা তিন চালা লক্ষ্মী, গণেশ এক চালা ,কার্তিক ,সরস্বতী এক চালা, মা দুর্গা এক চালা, এই তিন চালা মিলিয়ে এক কাঠামা, মিত্র বাড়ির যিনি মৃৎশিল্পী রয়েছেন তিনি বংশ পরস্পর এই মিত্র বাড়ির মা দুর্গা মূর্তি তৈরি করে আসছেন,তৎকালীন সময়ে পুজো চলতো টানা একমাস আগে থেকে মায়ের বোধন শুরু হতো আর এক মাস ধরে পুজোর চলে আসতো এবং বাড়িতে আলোর রসনাই করার জন্য তৎকালীন সময়ে হ্যাচাক লাইট ব্যবহার করত।

আর এখন পুজো চলে পঞ্চমী থেকে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে পুজো দশমীর দিন দুপুরে প্রতিমা বিসর্জন হয়। মিত্র বাড়ির পুজো হয় বুদ্ধ মতে।আর এই পুজোর প্রতিমা দেখতে আসতে হবে শিয়ালদহ দক্ষিন শাখার নামখানা লোকালের জয়নগর মজিলপুর স্টেশন থেকে গাড়ি যোগে ১০ মিনিট মিএপাড়াতে আসতে হবে।