পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলায় একই ঘর থেকে এক দম্পতি, তাঁদের দুই সন্তান এবং বৃদ্ধা মায়ের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সারসাওয়া থানা এলাকার কৌশিক বিহার কলোনিতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতরা হলেন পেশায় ল্যান্ড সার্ভেয়ার অশোক রাঠি (৪০), তাঁর স্ত্রী অজন্তা (৩৭), মা বিদ্যাবতী (৭০) এবং দুই ছেলে কার্তিক (১৬) ও দেব (১৩)। কার্তিক ও দেব যথাক্রমে একাদশ ও দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। অশোক রাঠি নকুর তহসিলে কর্মরত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি অনুকম্পাভিত্তিতে এই চাকরিটি পেয়েছিলেন।
সাহারানপুরের সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) আশীষ তিওয়ারি জানিয়েছেন, একটি বন্ধ ঘর থেকে পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি দেহের মাথায় গুলির ক্ষত রয়েছে এবং খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। সবথেকে রহস্যজনক বিষয় হলো, অশোক রাঠির দেহের পাশ থেকে তিনটি লোড করা পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলি দেশি প্রযুক্তিতে তৈরি এবং সেগুলির লাইসেন্স ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান ডিআইজি অভিষেক সিং, এসএসপি আশীষ তিওয়ারি এবং এসপি (রুরাল) সাগর জৈন। সঙ্গে ছিল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ডগ স্কোয়াড। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বাড়িটি আপাতত সিল করে দিয়েছে পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি ও বহিরাগত কারও প্রবেশ ঘটেছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
একই ঘর থেকে পিস্তলসহ পাঁচজনের দেহ উদ্ধার হওয়ায় ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এটি কি পারিবারিক বিবাদের জেরে কোনো চরম সিদ্ধান্ত, নাকি এর নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সবকটি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং সময় জানা যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।



























