০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিচারের আগে জামিন পাওয়া নাগরিকের অধিকার: উমর-শারজিলদের নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য প্রাক্তন চন্দ্রচূড়ের

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে জামিন পাওয়াকে একজন ব্যক্তির আইনি অধিকার হিসেবে গণ্য করা উচিত। রবিবার জয়পুর লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে (JLF) ‘আইডিয়াজ অফ জাস্টিস’ শীর্ষক এক অধিবেশনে এই মন্তব্য করেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি (CJI) ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড়। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত থাকলে আদালতকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মামলাটি খতিয়ে দেখতে হবে।

প্রবীণ সাংবাদিক বীর সাঙ্ঘভির এক প্রশ্নের জবাবে চন্দ্রচূড় বলেন, “আমাদের আইন এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে যে, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকেই নির্দোষ। তাই বিচার শেষ হওয়ার আগে জামিন পাওয়া একটি অধিকার হওয়া উচিত।” দীর্ঘ সময় ধরে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে থাকার নেতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, “কেউ যদি পাঁচ বা সাত বছর জেল খাটার পর নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে তাঁর জীবনের হারিয়ে যাওয়া সময়ের ক্ষতিপূরণ কে দেবে?” ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলায় সমাজকর্মী উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন না পাওয়া প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জানান, সাধারণত তিনটি ক্ষেত্রে জামিন নাকচ করা যুক্তিসঙ্গত। যদি অভিযুক্তের পুনরায় একই অপরাধ করার সম্ভাবনা থাকে। যদি সে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে। যদি সে আইন এড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। চন্দ্রচূড় বলেন, “এই তিনটি কারণ না থাকলে জামিন মঞ্জুর করা উচিত। তবে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় থাকলে আদালতের উচিত মামলাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা, যাতে নির্দোষ কেউ বছরের পর বছর জেল না খাটেন।”

আরও পড়ুন: জামিন পেলেও জেল থেকে এখনও মুক্তি নয় অল্ট নিউজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ যুবায়েরের

নিম্ন আদালত বা সেশন কোর্টগুলোতে জামিন না পাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন চন্দ্রচূড়। তিনি জানান, অনেক সময় বিচারকরা আশঙ্কা করেন যে জামিন দিলে তাঁদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে। এই কারণেই সাধারণ জামিনের মামলাগুলো সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়। এছাড়া বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি নিয়েও তিনি সোচ্চার হন এবং জানান, দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার সংবিধানসম্মত এবং বিচার বিলম্বিত হলে অভিযুক্ত জামিন পাওয়ার অধিকারী।

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

ওমানের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চলবে সাফ জানাল তেহরান

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিচারের আগে জামিন পাওয়া নাগরিকের অধিকার: উমর-শারজিলদের নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য প্রাক্তন চন্দ্রচূড়ের

আপডেট : ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, সোমবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে জামিন পাওয়াকে একজন ব্যক্তির আইনি অধিকার হিসেবে গণ্য করা উচিত। রবিবার জয়পুর লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে (JLF) ‘আইডিয়াজ অফ জাস্টিস’ শীর্ষক এক অধিবেশনে এই মন্তব্য করেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি (CJI) ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড়। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত থাকলে আদালতকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মামলাটি খতিয়ে দেখতে হবে।

প্রবীণ সাংবাদিক বীর সাঙ্ঘভির এক প্রশ্নের জবাবে চন্দ্রচূড় বলেন, “আমাদের আইন এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে যে, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকেই নির্দোষ। তাই বিচার শেষ হওয়ার আগে জামিন পাওয়া একটি অধিকার হওয়া উচিত।” দীর্ঘ সময় ধরে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে থাকার নেতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, “কেউ যদি পাঁচ বা সাত বছর জেল খাটার পর নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে তাঁর জীবনের হারিয়ে যাওয়া সময়ের ক্ষতিপূরণ কে দেবে?” ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলায় সমাজকর্মী উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন না পাওয়া প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জানান, সাধারণত তিনটি ক্ষেত্রে জামিন নাকচ করা যুক্তিসঙ্গত। যদি অভিযুক্তের পুনরায় একই অপরাধ করার সম্ভাবনা থাকে। যদি সে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে। যদি সে আইন এড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। চন্দ্রচূড় বলেন, “এই তিনটি কারণ না থাকলে জামিন মঞ্জুর করা উচিত। তবে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় থাকলে আদালতের উচিত মামলাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা, যাতে নির্দোষ কেউ বছরের পর বছর জেল না খাটেন।”

আরও পড়ুন: জামিন পেলেও জেল থেকে এখনও মুক্তি নয় অল্ট নিউজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ যুবায়েরের

নিম্ন আদালত বা সেশন কোর্টগুলোতে জামিন না পাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন চন্দ্রচূড়। তিনি জানান, অনেক সময় বিচারকরা আশঙ্কা করেন যে জামিন দিলে তাঁদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে। এই কারণেই সাধারণ জামিনের মামলাগুলো সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়। এছাড়া বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি নিয়েও তিনি সোচ্চার হন এবং জানান, দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার সংবিধানসম্মত এবং বিচার বিলম্বিত হলে অভিযুক্ত জামিন পাওয়ার অধিকারী।