১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘মোল্লার বাচ্চারা’ এই এলাকা থেকে চলে যা… গুরুগ্রামে মুসলিম বিরোধী পোস্টার   

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: মুসলিম বিদ্বেষকে কেন্দ্র করে ফের একবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হরিয়ানার গুরুগ্রাম। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দলীয় শোভাযাত্রার আগের দিন সাঁটানো পোস্টার ঘিরে তুমুল হৈচৈ এলাকায়।

পোস্টারে লেখা আছে, ‘মুসলমানরা চলে যা। এই এলাকা মোল্লার বাচ্চার জন্য নয়। আমরা এখানে কোনও মহামেডানের বাচ্চা কে   দেখতে চাই না। এই জায়গা না ছাড়লে নিজেদের মৃত্যুর জন্য  তোরাই দায়ী থাকবি। এমনকী তোদের বউ-বাচ্চারা ঘর থেকে  বের হলে তাঁদের ধর্ষণ করা হবে। নিজেদের মান-ইজ্জত বাঁচাতে চাইলে এই বস্তি ছেড়ে চলে যা। এই জায়গায় কোনও মোল্লার বাস আমরা হতে দেব না।’

সংশ্লিষ্ট পোস্টারের ছবি সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় হরিয়ানায়। এদিন পরিস্থিতির অস্থিরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ। ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। চলছে তদন্ত।

স্থানীয় এক বাসিন্দার বয়ান অনুযায়ী, বিশ্ব হিন্দু  পরিষদ এবং বজরং দল সম্মিলিতভাবে এই কাজ করেছে। দুই  সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা লাগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তাঁরা।

অন্যদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনও লেনাদেনা নেয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে মাজিদ নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাঁর চায়ের দোকানে এই পোস্টার লাগানো ছিল। কর্মসূত্রে হরিয়ানার গুরুগ্রামে থাকলেও তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।

তিনি জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের বেশ কয়েক সদস্য তাঁদের এই এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছিল। এমনকী জাত-পাত তুলে গালিগালাজ করছিল।

এদিনের এই ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কবর স্থানের নিস্তব্ধতা বিরাজমান। এমনকী বাড়ির মেয়ে বউরাও আতঙ্কে ঘরের বাইরে পা রাখছেন না। স্থানীয় মুসলিমদের দাবি, এ যাবৎ আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেছি। ধর্মীয় সহিংসতার কোনও ঘটনা আজ পর্যন্ত ঘটেনি। তবে এখন আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় লাগছে।

দেশজুড়ে মুসলিম বিদ্বেষ ক্রমশই বিষফোঁড়ার মতো মাথাচাড়া  দিয়ে উঠেছে। চারিদিকে অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ। মুসলিমদের  উপর খড়্গহস্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। কোথাও কোনও বিচ্যুতি ঘটলে বিনা বিচারেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের গায়ে যখন-তখন সেঁটে দেওয়া হচ্ছে দেশদ্রোহীর লেবেল। তবে হিন্দুত্ববাদীদের মুসলিম বিদ্বেষী এই মনোভাব ভারতকে ক্রমান্বয়ে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেই মনে করছে বুদ্ধিজীবী মহল।

ট্যাগ :
প্রতিবেদক

ইমামা খাতুন

২০২২ সাল থেকে সংবাদ জগতের সঙ্গে যুক্ত। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতাতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রিপোর্টার হিসেবে হাতেখড়ি। ২০২২ সালের শেষান্তে পুবের কলম-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ইমামার ভাষ্যে, The First Law of Journalism: to confirm existing prejudice, rather than contradict it.
সর্বধিক পাঠিত

বাংলাদেশে নতুন সরকারের শপথে থাকছেন দেশি–বিদেশি ১২০০ অতিথি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

‘মোল্লার বাচ্চারা’ এই এলাকা থেকে চলে যা… গুরুগ্রামে মুসলিম বিরোধী পোস্টার   

আপডেট : ২৯ অগাস্ট ২০২৩, মঙ্গলবার

পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: মুসলিম বিদ্বেষকে কেন্দ্র করে ফের একবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হরিয়ানার গুরুগ্রাম। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দলীয় শোভাযাত্রার আগের দিন সাঁটানো পোস্টার ঘিরে তুমুল হৈচৈ এলাকায়।

পোস্টারে লেখা আছে, ‘মুসলমানরা চলে যা। এই এলাকা মোল্লার বাচ্চার জন্য নয়। আমরা এখানে কোনও মহামেডানের বাচ্চা কে   দেখতে চাই না। এই জায়গা না ছাড়লে নিজেদের মৃত্যুর জন্য  তোরাই দায়ী থাকবি। এমনকী তোদের বউ-বাচ্চারা ঘর থেকে  বের হলে তাঁদের ধর্ষণ করা হবে। নিজেদের মান-ইজ্জত বাঁচাতে চাইলে এই বস্তি ছেড়ে চলে যা। এই জায়গায় কোনও মোল্লার বাস আমরা হতে দেব না।’

সংশ্লিষ্ট পোস্টারের ছবি সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় হরিয়ানায়। এদিন পরিস্থিতির অস্থিরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ। ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। চলছে তদন্ত।

স্থানীয় এক বাসিন্দার বয়ান অনুযায়ী, বিশ্ব হিন্দু  পরিষদ এবং বজরং দল সম্মিলিতভাবে এই কাজ করেছে। দুই  সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা লাগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তাঁরা।

অন্যদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনও লেনাদেনা নেয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে মাজিদ নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাঁর চায়ের দোকানে এই পোস্টার লাগানো ছিল। কর্মসূত্রে হরিয়ানার গুরুগ্রামে থাকলেও তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।

তিনি জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের বেশ কয়েক সদস্য তাঁদের এই এলাকা ছাড়ার হুমকি দিচ্ছিল। এমনকী জাত-পাত তুলে গালিগালাজ করছিল।

এদিনের এই ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কবর স্থানের নিস্তব্ধতা বিরাজমান। এমনকী বাড়ির মেয়ে বউরাও আতঙ্কে ঘরের বাইরে পা রাখছেন না। স্থানীয় মুসলিমদের দাবি, এ যাবৎ আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেছি। ধর্মীয় সহিংসতার কোনও ঘটনা আজ পর্যন্ত ঘটেনি। তবে এখন আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় লাগছে।

দেশজুড়ে মুসলিম বিদ্বেষ ক্রমশই বিষফোঁড়ার মতো মাথাচাড়া  দিয়ে উঠেছে। চারিদিকে অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ। মুসলিমদের  উপর খড়্গহস্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। কোথাও কোনও বিচ্যুতি ঘটলে বিনা বিচারেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের গায়ে যখন-তখন সেঁটে দেওয়া হচ্ছে দেশদ্রোহীর লেবেল। তবে হিন্দুত্ববাদীদের মুসলিম বিদ্বেষী এই মনোভাব ভারতকে ক্রমান্বয়ে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেই মনে করছে বুদ্ধিজীবী মহল।