১৯ জানুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাসিনার বিচার শুরু : জারি গ্রেফতারি পরওয়ানা

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক:  বাংলাদেশে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ১০ মাসের মাথায় অবশেষে জনগণের প্রত্যাশিত ‘জুলাই গণহত্যা’ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল (১ জুন) ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অভিযুক্ত করে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন টিম। এর পর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা হয়েছ্ ।

ছাত্র জনতার প্রবল আন্দোলনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট পতন ঘটে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার। সে সময়ে তিনি পালিয়ে দিল্লি চলে যান। ফলে তার অর্বমানেই বিচার কাজ শুরু হয়েছে। জুলাই আগস্টের গণহত্যায় ১৬ শতাধিক লোক নিহত হন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান–তুরস্ক–সৌদি সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগদানের জল্পনা

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম রোববার দুপুর ১২টার পর ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেন। এ বিষয়ে শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে। শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন। জুলাই-আগস্টজুড়ে সারা দেশে যে গণহত্যা হয় তাতে শেখ হাসিনাকে প্রধান নির্দেশদাতার দায়ে গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা প্রকাশ জামায়াতে ইসলামীর!

আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের বিরুদ্ধেও আনা হয় পাঁচটি অভিযোগ।

আরও পড়ুন: ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউনূস সরকার, দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি ঢাকার

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, আমরা বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ডিসেম্বরের মধ্যে জুলাই আগস্টের হত্যাযজ্ঞের বিচার দৃশ্যমান হবে। এ সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাবে। বিচার এমনভাবে করা হবে কেউ যেন মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।

শেখ হাসিনাকে ‘গুম ও আয়নাঘরের নিউক্লিয়াস’ বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিচারের কাজ পুরোদমে এগোচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ করতে যুক্তিসংগত সময় লাগবে। সপ্তাহ দেড়েক আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তাজুল ইসলাম জানান, জুলাইয়ে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক নম্বর অভিযোগ আনা হয়েছে।

এক সময় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে করা হতো। রাজণীতিকে নিজের শক্ত হাতে দমন করে তিন মেয়াদে সাড়ে ১৫ বছর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বিরোধী দল বলে কার্যত কিছু ছিলা না। তারা রাস্তায় নামতে পারতো না। সেই শেখ হাসিনার বিচার শুরু হওয়ায় খুশি দেশের মানুষ। তারা উল্লাস প্রকাশ করেন হাসিনার বিচার শুরুর খবরে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

SIR এর কাজে মানসিক চাপে ব্রেন স্টোকে আক্রান্ত হয়ে রায়দীঘিতে হাসপাতালে ভর্তি এক বিএলও

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

হাসিনার বিচার শুরু : জারি গ্রেফতারি পরওয়ানা

আপডেট : ১ জুন ২০২৫, রবিবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক:  বাংলাদেশে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ১০ মাসের মাথায় অবশেষে জনগণের প্রত্যাশিত ‘জুলাই গণহত্যা’ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল (১ জুন) ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অভিযুক্ত করে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন টিম। এর পর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা হয়েছ্ ।

ছাত্র জনতার প্রবল আন্দোলনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট পতন ঘটে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার। সে সময়ে তিনি পালিয়ে দিল্লি চলে যান। ফলে তার অর্বমানেই বিচার কাজ শুরু হয়েছে। জুলাই আগস্টের গণহত্যায় ১৬ শতাধিক লোক নিহত হন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান–তুরস্ক–সৌদি সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগদানের জল্পনা

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম রোববার দুপুর ১২টার পর ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেন। এ বিষয়ে শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে। শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন। জুলাই-আগস্টজুড়ে সারা দেশে যে গণহত্যা হয় তাতে শেখ হাসিনাকে প্রধান নির্দেশদাতার দায়ে গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা প্রকাশ জামায়াতে ইসলামীর!

আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের বিরুদ্ধেও আনা হয় পাঁচটি অভিযোগ।

আরও পড়ুন: ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউনূস সরকার, দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি ঢাকার

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, আমরা বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ডিসেম্বরের মধ্যে জুলাই আগস্টের হত্যাযজ্ঞের বিচার দৃশ্যমান হবে। এ সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাবে। বিচার এমনভাবে করা হবে কেউ যেন মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।

শেখ হাসিনাকে ‘গুম ও আয়নাঘরের নিউক্লিয়াস’ বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিচারের কাজ পুরোদমে এগোচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ করতে যুক্তিসংগত সময় লাগবে। সপ্তাহ দেড়েক আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তাজুল ইসলাম জানান, জুলাইয়ে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক নম্বর অভিযোগ আনা হয়েছে।

এক সময় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে করা হতো। রাজণীতিকে নিজের শক্ত হাতে দমন করে তিন মেয়াদে সাড়ে ১৫ বছর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বিরোধী দল বলে কার্যত কিছু ছিলা না। তারা রাস্তায় নামতে পারতো না। সেই শেখ হাসিনার বিচার শুরু হওয়ায় খুশি দেশের মানুষ। তারা উল্লাস প্রকাশ করেন হাসিনার বিচার শুরুর খবরে।