০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হায়দরাবাদ হিংসা: মন্দির ও মাজার ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার মহিলাসহ ১১

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদের পুরনো শহরের পুরানাপুল এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় স্থান ভাঙচুরের অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে গত ১৯ জানুয়ারি এই অভিযুক্তদের পাকড়াও করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ জানুয়ারি রাত ১১:৩০ নাগাদ। এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পুরানাপুল দরজায় অবস্থিত মহীশম্মা মন্দিরে প্রবেশ করে বারান্দায় থাকা একটি ফ্লেক্স ব্যানার এবং প্লাস্টার অফ প্যারিসের তৈরি একটি ছোট মূর্তি ভাঙচুর করে। তবে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মন্দিরের মূল গর্ভগৃহ বা প্রধান বিগ্রহ অক্ষত ছিল।

আরও পড়ুন: রাজস্থানে ফের গণধর্ষণের শিকার মহিলা, গ্রেফতার তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার ৩ কর্মী

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ মন্দিরের সামনে জড়ো হন। অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পরেই একদল লোক বেআইনিভাবে জমায়েত করে এবং নিকটবর্তী একটি চিল্লা বা মাজারে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই সময় প্ররোচনামূলক ও সাম্প্রদায়িক স্লোগান দেওয়া হয়, যার ফলে এলাকার জনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হয়।

আরও পড়ুন: খসড়া তালিকায় নাম থাকলেও ডাকা হতে পারে হিয়ারিংয়ে, কাদের ডাকা হবে?

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উন্মত্ত জনতার একাংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষে চারজন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মন্দির ভাঙচুর, মাজার অবমাননা এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১৬ জানুয়ারি এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তের পরবর্তী ধাপে কামাটিপুরা থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক মহিলাসহ মোট ১১ জনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি জনসমাবেশ এবং মাজারে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ রয়েছে। হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনার ভি.সি. সজ্জনরের নির্দেশে বর্তমানে পুরনো শহর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভাঙচুরের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

প্রতিবেদক

কিবরিয়া আনসারি

Kibria obtained a master's degree in journalism from Aliah University. He has been in journalism since 2018, gaining work experience in multiple organizations. Focused and sincere about his work, Kibria is currently employed at the desk of Purber Kalom.
সর্বধিক পাঠিত

ওমানের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চলবে সাফ জানাল তেহরান

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

হায়দরাবাদ হিংসা: মন্দির ও মাজার ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার মহিলাসহ ১১

আপডেট : ২০ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদের পুরনো শহরের পুরানাপুল এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় স্থান ভাঙচুরের অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে গত ১৯ জানুয়ারি এই অভিযুক্তদের পাকড়াও করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ জানুয়ারি রাত ১১:৩০ নাগাদ। এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পুরানাপুল দরজায় অবস্থিত মহীশম্মা মন্দিরে প্রবেশ করে বারান্দায় থাকা একটি ফ্লেক্স ব্যানার এবং প্লাস্টার অফ প্যারিসের তৈরি একটি ছোট মূর্তি ভাঙচুর করে। তবে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মন্দিরের মূল গর্ভগৃহ বা প্রধান বিগ্রহ অক্ষত ছিল।

আরও পড়ুন: রাজস্থানে ফের গণধর্ষণের শিকার মহিলা, গ্রেফতার তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার ৩ কর্মী

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ মন্দিরের সামনে জড়ো হন। অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পরেই একদল লোক বেআইনিভাবে জমায়েত করে এবং নিকটবর্তী একটি চিল্লা বা মাজারে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই সময় প্ররোচনামূলক ও সাম্প্রদায়িক স্লোগান দেওয়া হয়, যার ফলে এলাকার জনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হয়।

আরও পড়ুন: খসড়া তালিকায় নাম থাকলেও ডাকা হতে পারে হিয়ারিংয়ে, কাদের ডাকা হবে?

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উন্মত্ত জনতার একাংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষে চারজন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মন্দির ভাঙচুর, মাজার অবমাননা এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১৬ জানুয়ারি এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তের পরবর্তী ধাপে কামাটিপুরা থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক মহিলাসহ মোট ১১ জনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি জনসমাবেশ এবং মাজারে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ রয়েছে। হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনার ভি.সি. সজ্জনরের নির্দেশে বর্তমানে পুরনো শহর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভাঙচুরের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ