পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কারণে মস্কো বিরোধী নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়াতে চাইছে পশ্চিমা বিশ্ব। এর ফলে রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী হুমকি দিয়েছেন পশ্চিমা নেতাদের। বলেন, রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে বিশ্বে তেলের দাম হবে ব্যারেল প্রতি ৩০০ ডলার যা ’বিপর্যয়’ ডেকে আনবে। তাঁর কথায়, ’রাশিয়ার তেলে নিষেধাজ্ঞার অর্থ বিশ্ববাজারে বিপর্যয়। তেলের দাম কতটা বাড়বে তা বোঝা মুশকিল। তবে ৩০০ ডলার প্রতি ব্যারেল তো হবেই।
’ রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী নোভাকের কথায়, ইউরোপীয় বাজারে রাশিয়ার তেলের বিকল্প পাওয়া ’অসম্ভব’। আরও বলেন, ’এতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে এবং এটা ইউরোপীয় উপভোক্তাদের জন্য অনেক খরচসাপেক্ষ হবে।’ তেল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পশ্চিমারা সামনে এগোলে জার্মানিতে মূল গ্যাসের পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে রাশিয়া। এদিকে, ইউক্রেনে হামলা নিয়ে রাশিয়ার তেলের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের উপায় খুঁজছে আমেরিকা। তবে সোমবার এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৪০ শতাংশ গ্যাস এবং ৩০ শতাংশ তেল পায় রাশিয়া থেকে। আর এই সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এর সহজ কোনও বিকল্পও নেই।আরও পড়ুন:
গত মাসে নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইন স্থগিত করে দেওয়ার জার্মানির সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে নোভাক বলেন, তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘মানানসই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সব অধিকার আমাদের রয়েছে আর নর্ড স্ট্রিম ১ পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস পাঠানোয় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।’
আরও পড়ুন:
রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদক এবং অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় শীর্ষ উৎপাদক। আর এর জ্বালানি শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের যেকোনও পদক্ষেপে অর্থনীতি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হবে বলে জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। রাশিয়া বলছে, পশ্চিমা দেশগুলো চাইলে জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।
কিন্তু এতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে। বিনিয়োগকারীদেরও শঙ্কা সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার। আর এমন শঙ্কায় সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১৩৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা ১৪ বছরের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ।আরও পড়ুন:
এদিকে, রাশিয়ার জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বর্তমানে রাশিয়া থেকে মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক গ্যাস ও কয়লা এবং তেলের এক তৃতীয়াংশ আমদানি করে থাকে ইইউর দেশগুলো। তাই রাশিয়াকে বাদ দিয়ে ইউরোপের চলবে কিনা বা চললেও তা কতদিন, তা নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ফ্রান্সে একটি বৈঠক হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানির জন্য রাশিয়ার বদলে অন্য বিকল্প খোঁজার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে ইউরোপ।